অনেক যুবক-যুবতী নানা অজুহাতে সঠিক বয়সে বিয়ে করতে চান না। অনেক অভিভাবকও বহু কারণ দেখিয়ে সন্তানের বিয়ে পিছিয়ে রাখেন। ইসলামে সঠিক বয়সে বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আলি (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে আলি! তিনটি ব্যাপারে দেরি করো না। এক. যখন নামাজের সময় হয়, দুই. যখন জানাজা উপস্থিত হয় এবং তিন. যখন বিবাহযোগ্য নারীর উপযুক্ত (পাত্র) পাও।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৭১)
ইসলামে গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া বিলম্বিত বিয়ে নিষেধ। এক্ষেত্রে অভিভাবকের দায়িত্ব হলো, সন্তান বিয়ের বয়সে উপনীত হলে তাদের বিয়ে দেওয়া। অন্যথায় বিবাহবহির্ভূত অবৈধ মেলামেশার কারণে তারা গুনাহগার হবে এবং যথাসময়ে বিয়ে না দেওয়ার অপরাধে তাদের এই গুনাহর একটি অংশ অভিভাবকদের ওপরও বর্তাবে। সময়মতো বিয়ে না করা মারাত্মক সমস্যা। ফলে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের মুখে। তারা মনে করে—এক. বিবাহ করলে খরচ বেড়ে যাবে। আমি তো নিজেই চলতে পারি না; বউকে চালাব কীভাবে। দুই. আগে নিজের পায়ে দাঁড়াই, তারপর বিয়ে। তিন. বিয়ের জন্য আগে ধনসম্পদ জমাতে হবে, তারপর মহাস্বাড়ম্বরে বিয়ে করতে হবে। চার. বিয়ে স্বাধীন জীবনযাপনের পথে অন্তরায়, বিলম্বিত বিয়েতেই মুক্তি। পাঁচ. আমি তো বেকার ছেলে! কিংবা আমার তো একটা ভালো চাকরি নেই ইত্যাদি। এগুলো সবই প্রচলিত ভুল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এবং চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করে, তাকে সাহায্য করা আল্লাহর জন্য কর্তব্য হয়ে পড়ে।’ (মেশকাত, হাদিস: ১৯৫৫)
বর্তমানে বিয়েতে অহেতুক খরচ এবং জমকালো আয়োজন করে বিয়ে সম্পন্ন করা যেন এক ধরনের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে! ফলে আজ বিয়ের মতো সহজ কাজটি অনেকের জীবনে জটিল হয়ে গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে কম খরচের বিয়েতে বরকত বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম বিয়ে হলো যা খরচের দিক থেকে সহজসাধ্য হয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯)
লেখক: বিভাগীয় প্রধান (আরবি ভাষা বিভাগ) মাহমুদিয়া মাদরাসা, নারায়ণগঞ্জ