ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আজ, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার মরুর যোদ্ধাদের সামনে সুইস দেয়াল টরন্টোয় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার আগুন লড়াই ২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা

সময়ের মূল্যায়ন সফলতার পূর্বশর্ত

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০০ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০০ এএম
সময়ের মূল্যায়ন সফলতার পূর্বশর্ত
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

মুসলিম হিসেবে হিজরি বর্ষ তথা চন্দ্র বর্ষের হিসাব সংরক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট সময়জ্ঞান রাখা জরুরি। ফিকহি পরিভাষায় এ জ্ঞান অর্জন ফরজে কেফায়া। তবে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত পালনে চন্দ্র বর্ষের হিসাব জানা অত্যাবশ্যকীয়। 

মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত সময়। সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে মানুষ অনলাইনে এবং অযথা আড্ডায় অনেক সময় নষ্ট করে। ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটানো মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন তোমরা নামাজ আদায় করে নেবে তখন দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করবে, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন (যথানিয়মে) নামাজ কায়েম তথা প্রতিষ্ঠা করবে। নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ কায়েম করা মুমিনদের অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩) 

সময়ের গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহতায়ালা মানুষের অস্তিত্বের অবস্থানের তিনটি ধাপ উল্লেখ করেছেন। দণ্ডায়মান, বসা এবং শোয়া—এ তিনটি অবস্থাতেই আল্লাহর জিকির-ফিকির ও নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন ও সময়কে ধারণ করা ছাড়া সফলতা অর্জন করা যায় না। সময়ের গুরুত্বহীনতা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে (ডুবে) আছে, কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যধারণের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর, আয়াত: ১-৩)

ইসলামে মানুষের জন্য অনর্থক কাজে সময় ব্যয়ের সুযোগ নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কাজেই যখনই অবসর পাও ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ দাও।’ (সুরা ইনশিরা, আয়াত: ৭-৮)

সময় নদীর স্রোতের মতো প্রবহমান। একই জলপ্রবাহে যেমন দুবার ডুব দেওয়া যায় না, তেমনি একই সময়কে দুবার পাওয়া যায় না। ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, সৌভাগ্যবান কারা? তিনি বললেন, সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে এবং তা নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, দুর্ভাগা কারা? তিনি বললেন, দুর্ভাগা তারা যারা দীর্ঘায়ু পেয়েছে এবং তা বদ আমলে কাটিয়েছে বা আমলবিহীন অতিবাহিত করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৯)

শেষ বিচারের দিন সময়ের যথাযথ হিসাব দেওয়া ছাড়া মানুষ এক পা পর্যন্ত নড়তে পারবে না। (তিরমিজি, হাদিস: ৬১২)

সময়কে কাজে লাগানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো লক্ষ্য স্থির করা। লক্ষ্যহীন মানুষ সবচেয়ে বেশি সময়ের অপচয় করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে তার বিপরীত পাঁচটি জিনিসের আগে মূল্যায়ন করো ও তার সদ্ব্যবহার করো। তোমার যৌবনকে বার্ধক্যের আগে, সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, সচ্ছলতাকে দারিদ্র্যের আগে, অবসরকে ব্যস্ততার আগে, জীবনকে মৃত্যুর আগে।’ (বায়হাকি, হাদিস: ১০২৪৮)

সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করে নিজেকে যদি দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণমুখী কাজে নিয়োগ করা যায়, তা হলে জীবন হবে সুন্দর ও সার্থক।

 

 লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ, ঢাকা

 

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে
ছবি: সংগৃহীত

সকালের চায়ের টেবিলে বসে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা প্রায়ই ভাবি, সমাজটা এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? আসলে এই অসহিষ্ণুতার শেকড় লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ব্যাধিতে—যার নাম অহংকার। আমরা ভাবি অহংকার মানেই হয়তো কোটি টাকার দম্ভ। কিন্তু প্রতিদিনের যাপনে, আমাদের খুব চেনা মানুষের আচরণে, এমনকি নিজের অজান্তেই এই আত্মগর্বের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামি পরিভাষায় একে কিবির, তাকাব্বুর বা ইস্তিকবার বলা হয়। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানির মতে, অহংকার হলো নিজের প্রতি এমন এক মুগ্ধতা, যা মানুষকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবায়। আর এর চূড়ান্ত রূপ হলো সত্যকে অস্বীকার করে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, মানুষের সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল উৎসই হলো অহংকার ও হীনতা।

বাস্তব জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই অহংকারের নানা রূপ আমাদের চোখে পড়বে। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সত্যকে মেনে না নেওয়া। পবিত্র কোরআনে সুরা আন-নামলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ অন্যায় ও অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করে। আবার সমাজে অনেকে নিজের ক্ষমতা, পদবি বা শক্তির দম্ভ দেখান, যেমনটা করেছিল প্রাচীন আদ জাতি (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)। এছাড়া অন্যের সাফল্যে হিংসা করা, অবজ্ঞাভরে পথ চলা (সুরা আল-ইসরা: ৩৭) কিংবা নিজের আমলকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করাও অহংকারের স্পষ্ট রূপ। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যদি নিজের সম্মানে অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন অবধারিত করে নেয় (আবু দাউদ, ৫২২৯)।

কিন্তু যাপিত জীবনে একজন অহংকারী মানুষকে আপনি চিনবেন কীভাবে? মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কিছু চেনার উপায় নিচে দেওয়া হলো:

জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা এবং সবসময় পেছনে অনুসারী বা চামচাবৃত দল রাখতে চাওয়া।

গরিব বা সাধারণ মানুষের দাওয়াত এড়িয়ে চলা এবং সমমানের না হলে অন্যের বাড়িতে যেতে অস্বস্তি বোধ করা।

অসুস্থ, দুর্বল বা নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে বসলে নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় পাওয়া।

তর্কে নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তা মেনে না নেওয়া এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শত্রু মনে করা।

নিজের সাধারণ কাজ বা বাজার নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অহংকার হলো এক প্রকার মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের মরিচীকা, যা মানুষকে মানুষের থেকে এবং পরিশেষে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হলো—নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবন করা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্যকে অবলীলায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে বসার আগেই যদি জানা যায় কিছু বিশেষ কারণে পুরো প্রশ্নপত্রই মাফ হয়ে গেছে, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার পরীক্ষায় এমনটা না ঘটলেও, পরকালের প্রথম স্টেশন ‘কবর’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিন্তু এই সুযোগ রয়েছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অন্ধকার কবরে প্রত্যেক মানুষকে তার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর মিললে কবর হবে জান্নাতের বাগান, নতুবা জাহান্নামের গর্ত।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা কতশত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু মাটির নিচের সেই অনিবার্য পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটুকু? তবে আনন্দের কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ রয়েছেন, যাদের কবরে এই কঠিন জেরার মুখোমুখি হতেই হবে না।
রেফারেন্সসহ দেখে নেওয়া যাক সেই মহান ব্যক্তিদের তালিকা:

১. নবি-রাসুলগণ: বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.) তার 'আর-রুহ' কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেমের মতে, নবি-রাসুলদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ তাঁরা নিজেই ছিলেন দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষক।

২. জীবন উৎসর্গকারী শহিদ: যারা আল্লাহর জমিনে দ্বিন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হন, তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সুনানে নাসায়ির ২০৫৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাঠে শহীদের মাথার ওপর তরবারির ঝলকানিই কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট।

৩. দেশের সীমান্ত প্রহরী: দেশের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়া অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়, তাঁরাও এই দায় থেকে মুক্ত। সুনানে নাসায়ির ৩১৬৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মৃত ব্যক্তি কবরের যাবতীয় ফিতনা ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. জুমার দিনে মৃত্যু: সপ্তাহের সেরা দিন জুমার বার। এই দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে তিনি বিশেষ সুবিধা পান। সুনানে তিরমিজির ১০৭৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। কবর হলো অনন্তকালের প্রবেশদ্বার। দুনিয়ার সাময়িক জীবনের আমলই নির্ধারণ করবে এই প্রবেশদ্বারটি আমাদের জন্য শান্তির হবে নাকি শাস্তির।

৫. পেটের পীড়ায় মৃত্যু: শুনতে অবাক লাগলেও পেটের অসুখে ভুগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও এই ছাড় পাবেন। মুসনাদে আহমদের ১৮৩১০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে পেটের রোগ হত্যা করেছে, কবরে তাকে শাস্তি বা জেরার মুখোমুখি হতে হবে না।

৬. সুরা মুলকের নিয়মিত পাঠক: যারা প্রতি রাতে নিয়ম করে সুরা মুলক তিলাওয়াত করেন, এই সুরাটি স্বয়ং কবরে এসে তাদের পাহারা দেবে। সুনানে তিরমিজির ২৮৯০ নম্বর হাদিসে এই সুরাটিকে ‘নাজাত দানকারী’ বা মুক্তিদাতা বলা হয়েছে, যা পাঠককে কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।

মৃত্যু চিরন্তন সত্য। তবে আমরা যদি সুরা মুলক তিলাওয়াতের মতো আমলগুলো জীবনে নিয়মিত করতে পারি, তবে কবরের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও মিলতে পারে পরম মুক্তি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। কাবিননামায় লেখা হলো কয়েক লাখ টাকার দেনমোহর। কিন্তু এর পরই শুরু হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা–কেউ বলেন, এই টাকা মেয়ের বাবার কাছে থাকবে; কেউ বলেন, সংসারের প্রয়োজনে স্বামীই ব্যবহার করবে; আবার কোথাও মেয়েটি নিজেই জানে না, এই টাকার প্রকৃত মালিক আসলে কে!

অথচ ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিয়েছে। দেনমোহর কোনো পারিবারিক উপহার নয়, এটি একজন নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং তার ব্যক্তিগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে বিবাহ করেছ, তাদের নির্ধারিত মোহর তাদেরকে প্রদান করো।’ (সুরা আন-নিসা, ২৪)

এ আয়াতে তাদেরকে শব্দটি সরাসরি স্ত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেনমোহরের মালিক স্ত্রী নিজেই। তার বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের এতে কোনো স্বত্ব নেই, যদি না স্ত্রী স্বেচ্ছায় কাউকে তা প্রদান করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এই সৌন্দর্যময় নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নারীর আর্থিক স্বাধীনতাকে সম্মান করতেন এবং কখনো দেনমোহরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রথা চালু করেননি। বরং দেনমোহর ছিল নারীর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক।

এ কারণেই আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার কোনো অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে বাধ্য করো না। (সুরা আন-নিসা, ১৯)
এই আয়াত প্রমাণ করে, একবার দেনমোহর স্ত্রীর হাতে পৌঁছে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়। স্বামী চাইলে জোর করে তা ফেরত নিতে পারেন না, এমনকি স্ত্রীর পরিবারও তার অনুমতি ছাড়া এর ওপর কোনো দাবি করতে পারে না।

বর্তমান সমাজে অনেক নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে দেনমোহরের টাকা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ সামাজিক চাপে তা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন, আবার কেউ স্বামীর প্রয়োজনে দিয়ে পরে আর ফেরত পান না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর নারীর অর্থনৈতিক মর্যাদার এক অনন্য স্বীকৃতি।

বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের বন্ধন নয়; এটি অধিকার ও দায়িত্বেরও চুক্তি। আর সেই চুক্তির সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো–ইসলাম একজন নারীকে বিয়ের মুহূর্তেই এমন একটি সম্পদের মালিক বানিয়েছে, যার ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এই অধিকার রক্ষা করাই সুন্নাহ, আর তা অস্বীকার করা অন্যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (২ জুলাই)

.৪৮ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন