মুসলিম হিসেবে হিজরি বর্ষ তথা চন্দ্র বর্ষের হিসাব সংরক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট সময়জ্ঞান রাখা জরুরি। ফিকহি পরিভাষায় এ জ্ঞান অর্জন ফরজে কেফায়া। তবে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত পালনে চন্দ্র বর্ষের হিসাব জানা অত্যাবশ্যকীয়।
মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত সময়। সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে মানুষ অনলাইনে এবং অযথা আড্ডায় অনেক সময় নষ্ট করে। ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটানো মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন তোমরা নামাজ আদায় করে নেবে তখন দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করবে, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন (যথানিয়মে) নামাজ কায়েম তথা প্রতিষ্ঠা করবে। নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ কায়েম করা মুমিনদের অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)
সময়ের গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহতায়ালা মানুষের অস্তিত্বের অবস্থানের তিনটি ধাপ উল্লেখ করেছেন। দণ্ডায়মান, বসা এবং শোয়া—এ তিনটি অবস্থাতেই আল্লাহর জিকির-ফিকির ও নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন ও সময়কে ধারণ করা ছাড়া সফলতা অর্জন করা যায় না। সময়ের গুরুত্বহীনতা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে (ডুবে) আছে, কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যধারণের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর, আয়াত: ১-৩)
ইসলামে মানুষের জন্য অনর্থক কাজে সময় ব্যয়ের সুযোগ নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কাজেই যখনই অবসর পাও ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ দাও।’ (সুরা ইনশিরা, আয়াত: ৭-৮)
সময় নদীর স্রোতের মতো প্রবহমান। একই জলপ্রবাহে যেমন দুবার ডুব দেওয়া যায় না, তেমনি একই সময়কে দুবার পাওয়া যায় না। ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, সৌভাগ্যবান কারা? তিনি বললেন, সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে এবং তা নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, দুর্ভাগা কারা? তিনি বললেন, দুর্ভাগা তারা যারা দীর্ঘায়ু পেয়েছে এবং তা বদ আমলে কাটিয়েছে বা আমলবিহীন অতিবাহিত করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৯)
শেষ বিচারের দিন সময়ের যথাযথ হিসাব দেওয়া ছাড়া মানুষ এক পা পর্যন্ত নড়তে পারবে না। (তিরমিজি, হাদিস: ৬১২)
সময়কে কাজে লাগানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো লক্ষ্য স্থির করা। লক্ষ্যহীন মানুষ সবচেয়ে বেশি সময়ের অপচয় করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে তার বিপরীত পাঁচটি জিনিসের আগে মূল্যায়ন করো ও তার সদ্ব্যবহার করো। তোমার যৌবনকে বার্ধক্যের আগে, সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, সচ্ছলতাকে দারিদ্র্যের আগে, অবসরকে ব্যস্ততার আগে, জীবনকে মৃত্যুর আগে।’ (বায়হাকি, হাদিস: ১০২৪৮)
সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করে নিজেকে যদি দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণমুখী কাজে নিয়োগ করা যায়, তা হলে জীবন হবে সুন্দর ও সার্থক।
লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ, ঢাকা