ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মাস রমজান। আমল-ইবাদতের মৌসুম। পবিত্র কোরআনসহ অধিকাংশ আসমানি কিতাব এ মাসেই নাজিল হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসটিতে ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসে বিভিন্ন দিবসও রয়েছে। চলুন জেনে নিই রমজান মাসের কোন দিনে কী দিবস রয়েছে—
- ১০ রমজানে রাসুল (সা.) পরিবারের সদস্য ইমাম হাসান (রাযি.) জন্মগ্রহণ করেন। (আত-তবাকাতুল কুবরা, ইবনে সাদ: ১/২২৬) এ দিনটিকে ইমাম হাসানের ভক্তরা তার জন্মদিবস হিসেবে পালন করে থাকেন।
- ১২ রমজানে ঈসা (আ.)-এর ওপর আসমানি কিতাব ইঞ্জিল নাজিল হয়। (তাফসিরে বাগাভি, ১/২১৭)
- ১৭ রমজানে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ হয়। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫/৫)
- ১৯ রমজানে আমিরুল মুমিনিন আলী (রা.) শহিদ হন। (তারিখে দিমাশক, ৪২/৫৭১)
- ২০ রমজানে পালিত হয় মক্কা বিজয় দিবস। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৬/৫২৭)
- ৬৫৮ হিজরির ২৫ রমজানে আইনে জালুতের যুদ্ধ ও তাতারি প্রতিরোধ সংঘটিত হয়। (ইকদুল জুমান ফি তারিখি আহলিজ জামা, বদরুদ্দিন আইনি, পৃষ্ঠা ৬১)
- ২৭ রমজানকে অনেকেই পালন করেন মুসলিমদের একটি বিজয় দিবস হিসেবে। সেটা হলো হিত্তিনের যুদ্ধে জয়লাভ। (তারিখুল ইসলাম, জাহাবি: ৪৫/৪০৩)
- রমজানের শেষ ১০ দিনে আরও একটি দিবস রয়েছে। আর সেটা হলো, আল-কুদস দিবস। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার দাউদ (আ.)-এর পুত্র সোলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠিত করেন এবং মহান আল্লাহর মহিমা তুলে ধরতে সেখানে গড়ে তোলেন মসজিদ আল-আকসা। (মুসলিম, ৫২০)
- এ ছাড়া প্রতি রমজানের শেষ শুক্রবারকে বলা হয় জুমাতুল বিদা। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- রমজানের শেষ ১০ দিনে রয়েছে লাইলাতুল কদর নামক একটি বিশেষ রজনি। এটি এমন একটি রাত যাকে এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।
ঈদের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সংযমের মাস রমজান। শুরু হয় শাওয়াল মাস। প্রতি বছর শাওয়াল মাসের ১ তারিখ বিশ্বের মুসলমানরা পালন করেন ঈদুল ফিতর। ঈদের চাঁদ দেখা থেকে ঈদের সকাল হওয়ার মাঝে একটি রাত রয়েছে। এই রাতের গুরুত্ব অনেক।
লেখক: সাংবাদিক