এক মাস ফরজ রোজা রাখার পর মুসলিম পরিবারে আগমন ঘটে ঈদুল ফিতরের। ঈদ আরবি শব্দ। অর্থ ফিরে আসা। এক মাস রোজা পালনের পর স্বাভাবিক জীবনাচারে ফিরে যাওয়ায় এই ঈদের দিনে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। ঈদ দিবসের ব্যবহারিক অর্থ তাই খুশির দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাতিরই খুশির দিন রয়েছে। আর আমাদের খুশির দিন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।’ (বুখারি, হাদিস: ৯৫২)
সুদীর্ঘ এক মাস কঠোর সংযম ও কৃচ্ছ্র সাধনের পর পরিতৃপ্তিবোধ জেগে ওঠে সবার মনে। আর তার বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরিধানে, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে একত্রে ঈদের নামাজে শামিল হওয়ায়, নামাজ শেষে পারস্পরিক ভালোবাসা বিনিময়ে। সব মানুষের মাঝে এই আনন্দ ছড়িয়ে দিতে গরিব-অসহায়কে ঈদের নামাজের আগে সদকাতুল ফিতর দানের বিধান দিয়েছে ইসলাম। এ কারণে রমজান মাসের শেষে ঈদ উৎসবকে শরিয়তের পরিভাষায় ঈদুল ফিতরও বলা হয়।
ঈদুল ফিতর ও আজহার পালনের সঙ্গে রোজা, হজ ও জাকাতের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে ইসলামে ঈদ উৎসব পালন একটি নিছক আনন্দ বিনোদনের পর্ব নয়; বরং এর মধ্যে আছে সামাজিক দায়িত্ব পালন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পালনের তাগিদ। মাসব্যাপী যথাযথ রোজা পালনের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ প্রকৃত রূপ লাভ করে, সদকাতুল ফিতর ও জাকাত আদায়ের মাধ্যমে নিজের আনন্দ বিলিয়ে দেওয়ার আসমানি তাগিদ পালনের সুবর্ণ সুযোগ মেলে। এদিকে পবিত্র হজ পালনের পাশাপাশি আল্লাহর রাস্তায় নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তিকে কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের মহাউৎসব ঈদুল আজহা।
ঈদুল ফিতরে সুন্নত কাজের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, মিসওয়াক করা, নামাজের আগে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, চোখে সুরমা লাগানো, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, ঈদের মাঠে যাওয়ার আগে মিষ্টান্ন গ্রহণ করা ও সদকাতুল ফিতর আদায় করা, ঈদগাহে যে পথে যাবে নামাজ শেষে অন্য পথে আসা, যথাসম্ভব পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া, ঈদগাহে যাওয়ার সময় নীচু স্বরে ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ পড়তে পড়তে যাওয়া। এ দিন সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করা এবং প্রতিবেশী, এতিম ও গরিবকে পানাহার করানো। এ দিন পরস্পরকে অভিবাদন জানানোও উত্তম কাজ।
ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে সংযম, সৌহার্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ পরিব্যাপ্তি লাভ করুক- এই হোক এবারের ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। সালাম ও ঈদ মোবারক।
লেখক: সাবেক সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর