জিনদের নিয়ে আমাদের সমাজে নানা গল্প চালু আছে। চালু আছে অনেক কাল্পনিক কাহিনি। তাদের দেখা-না দেখা নিয়েও আছে হরেকরকম কথাবার্তা। জিনদের কি দেখা যায়? চলুন জেনে নিই—
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মোরগের ডাক শুনলে তোমরা আল্লাহর কাছে রহমতের দোয়া করবে, কারণ মোরগ ফেরেশতাদের দেখতে পায়। আর গাধার ডাক শুনলে আল্লাহর কাছে শয়তানের কবল থেকে আশ্রয় চাইবে, কারণ গাধা শয়তানকে দেখতে পায়।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৩০৩)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, গাধা ও কুকুর জিনদের দেখতে পায়। পশুপাখিরা জিন ও ফেরেশতাদের দেখতে পায়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
আল্লাহতায়ালা প্রাণীদের এমন অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন, যা মানুষদের দেননি। নির্দিষ্ট প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নির্ণয় করা হয়। ভূমিকম্পের আগমন টের পেলে এসব প্রাণী খুব দ্রুত পালিয়ে বেড়ায়। বিপদ খুব কাছে চলে এলে তারা কান পেতে তা শোনে। তারা এমন সব আওয়াজ শোনে, যা আমরা শুনতে পাই না। আধুনিক প্রযুক্তি এখনো এতটা উন্নত হয়নি, যা দিয়ে পৃথিবীর বুকের ভেতর প্রোথিত এসব ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত থেকে নিশ্চিতভাবে আগাম সতর্কতা লাভ করা যায়। সংঘটিত কোনো পরিবর্তন দেখে আসন্ন বিপদের খবর পাওয়া যায়। অথচ আল্লাহ ছোট ছোট এসব প্রাণীকে এমন কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন, যার সাহায্যে তারা এই ধরনের অনেক আগাম খবর জানতে পারে।
আল্লাহতায়ালা মৌমাছিকে দান করেছেন অসাধারণ কিছু ক্ষমতা। তারা অতিবেগুনি রশ্মি দেখতে পায়। মানুষ যা খালি চোখে দেখতে অক্ষম। মৌমাছি সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে সুবিধাজনক কোণ তৈরি করে পথ দেখতে পারে। সন্ধানী মৌমাছি যখন মধুর খোঁজে মৌচাক থেকে বের হয়ে আসে, আল্লাহ তখন তাকে ফুলবাগানের দিকে পথ দেখান। মৌচাক থেকে দূরদূরান্তে গিয়ে সুধার সন্ধান নিয়ে চাকে ফিরে আসে। চাকে এসে কর্মী মৌমাছিকে সুধাসম্পন্ন বাগানের অবস্থান জানায়। চাকে পতিত সূর্য-রশ্মির সঙ্গে নির্দিষ্ট কোণে অবস্থান করে বলে দেয়, কোন পথে যেতে হবে। আল্লাহ এদের এই ক্ষমতা দিয়েছেন।
আল্লাহ পশুপাখিদের বিশেষ সক্ষমতা দিয়েছেন, তাই তারা জিন ও ফেরেশতাদের দেখতে পায়। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। ইমাম বুখারি মুসয়াব ইবনে উমাইর (রা.)-এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন, তার ঘোড়া রাতে কোরআন তেলাওয়াতের সময় যে ছোটাছুটি করছিল, তা মূলত ফেরেশতাদের দেখার কারণে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসয়াব (রা.)-কে বলেন, ‘তারা ছিল ফেরেশতা, তোমার সুমধুর তেলাওয়াত শুনতে তারা জড়ো হয়েছিল। যদি তুমি তেলাওয়াত করতেই থাকতে, সকালে মানুষ তাদের দেখতে পেত। তারাও মানুষদের থেকে আড়াল হতো না।’ (বুখারি, হাদিস: ৫০১৮)
জিনরা অদৃশ্যের খবর ও ভবিষ্যৎ জানে না। কোনোভাবেই মানুষের চেয়ে জিন জাতি শ্রেষ্ঠ নয়। মানুষ আল্লাহর সেরা সৃষ্টি। আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষকে আল্লাহ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন সব জীবের মধ্যে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদের স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদের উত্তম জীবন উপকরণ দিয়েছি এবং তাদের অনেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।’ (বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭০)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক