বিভিন্ন প্রকারের ফিৎনা-ফাসাদ কিয়ামতের অন্যতম আলামত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আঁধার রাতের ন্যায় ফিৎনা আসার পূর্বেই তোমরা নেক আমলের দিকে ধাবিত হও। (কেননা এমন এক সময় আসবে) যে সময় সকালে একজন মুমিন হলে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীন বিক্রি করে দেবে। (মুসলিম-১১৮; মিশকাত-৫৩৮৩)
অন্যত্র তিনি বলেছেন, ‘কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় চরম ফিৎনা আসতে থাকবে। ওই সময় সকাল বেলা যে ব্যক্তি মুমিন থাকবে সে সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে এবং সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি মুমিন থাকবে সে সকাল বেলা কাফের হয়ে যাবে। এ সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে, দণ্ডায়মান ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে এবং চলমান ব্যক্তি দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। এ সময় তোমরা তোমাদের ধনুক ভেঙে ফেল, ধনুকের ছিলা কেটে ফেল এবং তোমাদের তরবারিগুলো পাথরের ওপর আঘাত করে ভেঙে ফেল। তোমাদের কারও ঘরে বিপর্যয় ঢুকে পড়লে সে যেন আদম (আ.) এর দুপুত্রের মধ্যে উত্তম জনের (হাবিল) ন্যায় হয়ে যায়।’ (আবু দাউদ-২৫৫১, ইবনে মাজাহ-৩৯৬১)
কেউ মারতে এলে নিজে তাকে মারবে না। যেমন হাবিল তার ভাইকে বলেছিলেন, ‘যদি তুমি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তোমার হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যার জন্য আমার হাত বাড়াব না। আমি বিশ্ব প্রভু আল্লাহকে ভয় করি। আমি মনে করি, এর ফলে তুমি আমাকে হত্যার পাপ ও তোমার পাপসমূহের বোঝা একত্রে নিয়ে জাহান্নামবাসী হবে। আর সেটাই হলো জালেমদের যথাযোগ্য কর্মফল (সুরা মায়েদাহ, ২৮-২৯)। একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) চাদর মুড়ি দিয়ে লোকদের সামনে বের হয়ে বললেন, ‘হে লোকসকল! অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় ফিৎনা তোমাদের আচ্ছাদিত করবে। হে লোকসকল! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তা হলে অধিক হারে কাঁদতে ও অল্প হাসতে। (আহমদ-২৪৫৬৪)
সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় ফিৎনা তোমাদের আচ্ছাদিত করবে। লোকদের মাঝে উঁচু পাহাড়ে আরোহণকারীই কেবল সেই ফিৎনা থেকে রক্ষা পাবে। যে তার ছাগলের দুধ পান করে দিনাতিপাত করবে। অথবা এমন লোক রক্ষা পাবে যে তার ঘোড়ার লাগাম ধরে সর্বদা রাস্তায় প্রস্তুত থাকবে। তার তরবারি যা উপার্জন করে দেবে তা থেকে সে খাবে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, ২৪৬০)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক