শীতকাল মুমিনদের জন্য ইবাদতের মৌসুম। শীতকালে দিন ছোট, রাত বড়। ছোট দিনে রোজা রাখা সহজ। রাত বড় বলে বেশি সময় রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করা যায়। শীত, গ্রীষ্ম, শরৎ, হেমন্ত, বসন্ত- ঋতুর এ পালাবদল। এটা সম্পূর্ণই আল্লাহর অনুগ্রহ। মুমিনদের জন্য শিক্ষণীয়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীবজন্তু সৃজনের মধ্যেও নির্দেশনাবলি রয়েছে বিশ্ববাসীর জন্য’। (সুরা জাসিয়া, ৪)
শীতকাল যেন এক সুবর্ণ সুযোগ। ছোট দিনে রোজা রাখা সহজ। কষ্ট কম হয়। রাত বড়। একটু ঘুমিয়ে, একটু জেগে আল্লাহকে ডাকা যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, নবি করিম (সা.) বলেছেন, শীতকাল মোমিনদের জন্য আমলের মৌসুম। এর দিনগুলো ছোট, যাতে সহজে রোজা রাখা যায় আর রাতগুলো লম্বা লম্বা, যা কিয়ামুল লাইল (রাতে নফল ইবাদত)-এর জন্য অধিক উপযুক্ত। আল্লাহ চান কোনো না কোনোভাবে বান্দা তার পথে থাকুক। তার সন্তুষ্টি অর্জনে চেষ্টা করুক। সেজন্য বিভিন্ন সুযোগ আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মুমিনরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। আমের ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন, শীতল গনিমত হলো শীতকালে রোজা। (তিরমিজি, ৮০২)।
হজরত উমর (রা.) বলেন, শীতকাল হলো ইবাদতকারীদের জন্য গনিমতস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য শীতকালের চেয়ে প্রিয় কোনো সময় আছে কি না আমার জানা নেই। শীতকালে আমরা নানারকম শাকসবজি খেতে পারি। বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শালগম, গাজর, শিম ইত্যাদি সবজির পসরা চোখে পড়ে। মানুষের খাদ্যে সৃষ্টিকর্তা বৈচিত্র্য রেখেছেন। খাদ্যবস্তুর প্রতি মানুষ লক্ষ করে না কেন? জমিন শুকনো, ফেটে চৌচির হয়ে থাকে। কে সেখানে পানির ব্যবস্থা করে। শুকনো জমিনে শাকসবজি বেড়ে ওঠে। মানুষ মনে করে, আমিই তো সব করলাম।
অথচ এসব কর্ম মানুষের ক্ষমতার মধ্যেই ছিল না। যদি না আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিতেন। সব সৃষ্টিতেই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব আছে।
আল্লাহ বলেন, মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমি তো অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। অতঃপর মাটিকে বিদীর্ণ করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্যাদি, আঙ্গুর, শাকসবজি, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফলফলাদি ও ঘাস। এসব তোমাদের ও তোমাদের পালিত পশুকুলের জীবনধারণের জন্য। (সুরা আবাছা, ২৪-৩২)
আল্লাহ কেবল মানবসম্প্রদায়ের জন্যই নয়, অন্য সব জীবের খাদ্য উপকরণের সুব্যবস্থা রেখেছেন। শীতবস্ত্র নেই। প্রচণ্ড শীতে পথেঘাটে অসংখ্য মানুষ কষ্ট পায়। যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই অসহায় শীতার্তদের সাহায্য করা উত্তম আমল। এতে আল্লাহপাক খুশি হন। আল্লাহর দয়া পেতে হলে মানুষের প্রতি দয়া করতে হবে। নবি করিম (সা.) বলেছেন, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। (মুসলিম, ২৩১৯)।
এক হাদিস থেকে জানা যায়, প্রিয় নবি (সা.) বলেছেন, যে মুমিন কোনো বস্ত্রহীন মুমিনকে বস্ত্র পরিধান করাবেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতের পোশাক পরিধান করাবেন। শীতকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখিরা আসে। প্রকৃতিতে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একদল মানুষ অতিথি পাখি শিকার করে। এটা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। অতিথি পাখিরা আমাদের ক্ষতি করে না। বরং উপকার করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে কেউ যথাযথ কারণ ছাড়া কোনো পাখি হত্যা করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার হিসাব নেবেন। (নাসায়ি, ৪৪৪৫)।
লেখক: প্রাবন্ধিক