উমরার সফর একজন মুমিনের হৃদয়ের এক সুপ্ত আশা। ভালোবাসা ও স্বচ্ছ নিয়তে পৌঁছতে চাই আঙিনায়। কিন্তু অধিকাংশ উমরাযাত্রীর পূর্বে বিমানযাত্রার অভিজ্ঞতা না থাকায় বিমানবন্দরে অনেকে অনেক ভুল করেন। বিমানবন্দরে করণীয় কাজগুলো হলো—
সঠিক সময়ের কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছান।
অন্য সাথি থাকলে তাদের জন্য বিমানবন্দরে বাইরে অথবা ভেতরে প্রবেশ করে অপেক্ষা করুন। সিরিয়াল মেনে কর্তব্যরত আনসার বাহিনীকে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি দেখিয়ে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করুন। ভেতরে প্রবেশ করার পথে ব্যাগ ও লাগেজ স্ক্যান করুন।
এর পর যে বিমানে যাত্রা করবেন সেটার কাউন্টার খোঁজ করে সেখানে সিরিয়াল মেনে ব্যাগ ও লাগেজ জমা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করুন। এখানে তারা ব্যাগের ওজন করবেন এবং আপনাকে সিট প্রদান করবেন। একসঙ্গে পাশাপাশি বসতে চাইলে কাউন্টারের দায়িত্বশীলকে সেটা জানাতে হবে। সাধারণত ওনারা রিকুয়েস্ট করলে সম্ভব হলে একসঙ্গে সিট প্রদান করেন। সিট একসঙ্গে না দিলেও সমস্যা তেমন হয় না। বিমানে গিয়ে সিটের মানুষকে রিকুয়েস্ট করলে সিটা পাল্টিয়ে একসঙ্গে বসা যায়।
বিমানের সিট নম্বরসহ টিকিটের কপি ও মালপত্রের টোকেন গ্রহণ করুন এবং সেটা পাসপোর্টর সঙ্গে সংরক্ষণ করুন। এ সময় জেনে নিন আপনার ব্যাগ কোন বিমানবন্দর থেকে সর্বশেষ গ্রহণ করবেন। এর পর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে বোডিং সম্পন্ন করুন। বোডিং মানে হচ্ছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট ও কোনো মামলা আছে কি না- সব চেক করে আপনার ছবি তুলে রাখবেন এবং আঙুলের ছাপ রাখবেন। এবং আপনার পাসপোর্টের সিল মেরে সৌদি যাওয়ার চূড়ান্ত অনুমতি প্রদান করবেন।
টিকিটের মধ্যেই সাধারণত বিমানের শেষ ‘ওয়েটিং রুম’ কোন গেটে, সেটা প্রদান করা হয়। না বুঝলে অন্যদের থেকে জেনে নিন।
বোডিং সম্পন্ন করার পর বসার ভালো স্থান থাকে সেখানে বসে অন্যদের জন্য অপেক্ষা করুন। যারা বাসা থেকে ইহরাম পরে আসেন না তারা এখানে ইহরাম করে নিতে পারেন। মসজিদের অজু করা, ইহরাম পরা ও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে।
সম্ভব হলে পরিবারের লোকদের বোডিং সম্পন্ন হওয়ার সংবাদ দিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক