দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সনি তাদের নতুন সুপারজুম কমপ্যাক্ট ক্যামেরা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। নতুন মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ সনি আরএক্স১০ ফাইভ’। এতে শক্তিশালী ২৪ থেকে ৬০০ মিলিমিটারের অপটিক্যাল জুম লেন্স এবং ২০.১ মেগাপিক্সেলের সেন্সর রয়েছে।
নয় বছরের পুরোনো ‘আরএক্স১০ ফোর’ মডেলের তুলনায় এর বাহ্যিক নকশায় বেশ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। ক্যামেরার ভেতরে যুক্ত হয়েছে দ্রুতগতির প্রসেসর, আপডেট অটোফোকাস ব্যবস্থা ও উন্নত ভিডিও ধারণক্ষমতা। ২ হাজার ৩০০ ডলার দামের কারণে এটি বর্তমানে বাজারের অন্যতম দামি কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় পরিণত হয়েছে।
আগের সংস্করণগুলোর মতো নতুন মডেলটিও পর্যটক ও স্ট্রিট ফটোগ্রাফারদের বিশেষ সুবিধা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ২৪-৬০০ মিলিমিটার সমতুল্য এফ২.৪-৪.০ লেন্স দূরের দৃশ্যকে দারুণভাবে কাছে আনতে সক্ষম। ক্যামেরায় ২০.১ মেগাপিক্সেলের ১ ইঞ্চি স্ট্যাকড সেন্সরটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে এটি কম আলোতেও চমৎকার মানের ছবি নিশ্চিত করতে পারে। যদিও ক্যামেরার উচ্চমূল্য বিবেচনা করে সনি এর মেগাপিক্সেল আরও বাড়াবে বলে অনেক গ্রাহক আশা করেছিলেন। নতুন এই মডেলে আগের মতো বিল্ট-ইন ফ্ল্যাশ সুবিধা রাখা হয়নি।
নতুন প্রসেসর যুক্ত করার কারণে ক্যামেরাটির ছবি তোলার গতি অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলেকট্রনিক শাটার মোডে ব্ল্যাকআউট ছাড়া এখন প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমে (৩০ এফপিএস) ছবি তোলা যাবে, যা এর আগের মডেলে ছিল ২৪ এফপিএস। এতে সনির সর্বাধুনিক ‘কন্টিনিউয়াস শুটিং স্পিড বুস্ট’ ফিচার যুক্ত হয়েছে। অটোফোকাস ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আলাদা একটি এআই প্রসেসরের সাহায্যে এটি এখন মানুষ, পাখি ও প্রাণীর মুখ, চোখ, মাথা এবং সম্পূর্ণ শরীর নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি গাড়ি, ট্রেন, উড়োজাহাজ ও কীটপতঙ্গও শনাক্ত করা সম্ভব। বিষয়বস্তু হঠাৎ ঘুরে গেলে বা এলোমেলো নড়াচড়া করলেও এটি ফোকাস ধরে রাখতে পারে। কন্টিনিউয়াস ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে এর গতি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
ক্যামেরাটিতে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে ভিডিও ফিচারে। ফোরকে রেজল্যুশনে সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেমে ১০-বিট ভিডিও ধারণ করা যাবে এতে। এ জন্য পুরো সেন্সরের প্রশস্ততা ব্যবহার করা হয়। ফলে ভিডিওর মান হয় অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও স্পষ্ট। সুপার স্লো-মোশন ভিডিওর জন্য ফোরকে রেজল্যুশনে ১২০ এফপিএস এবং ফুল এইচডিতে ২৪০ এফপিএস সমর্থন করবে এটি। হাঁটার সময় ভিডিও ধারণ আরও মসৃণ করতে এর স্ট্যাবিলাইজেশন ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। ক্যামেরাটির নকশা আগের চেয়ে অনেক বেশি ছিমছাম ও চারকোণা আকৃতির করা হয়েছে, যা অনেকটা এ৭ ফাইভ মডেলের মতো। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের জন্য এতে জয়স্টিক, কন্ট্রোল ডায়াল ও এএফ-অন বাটন রাখা হয়েছে।
এর ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার (ইভিএফ) এবং পেছনের পর্দার রেজল্যুশন আগের চেয়ে যথাক্রমে ৩.৬৯ মিলিয়ন ডট এবং ১.৬২ মিলিয়ন ডটে উন্নীত করা হয়েছে। তবে পেছনের পর্দাটি কেবল ওপর-নিচ করা যায়, পুরোপুরি ঘোরানো যায় না। ফলে ভ্লগিং বা সেলফি তোলার ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক নয়। এত দামি একটি ক্যামেরায় এই ফিচারের অনুপস্থিতি অনেককে হতাশ করতে পারে। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে ইউএইচএস-টু এসডি কার্ড স্লট, মাইক্রোফোন ও হেডফোন পোর্ট। এর এনপি-এফজেড১০০ মডেলের শক্তিশালী ব্যাটারি একবার ফুল
চার্জে ৬৩০টি পর্যন্ত ছবি তুলতে সক্ষম। ডেটা ট্রান্সফার ও দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য এতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ইউএসবি-সি পোর্ট। এ ছাড়া ফোরকে রেজল্যুশনে সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমে লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধাও রয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে ক্যামেরাটি বাজারে পাওয়া যাবে। দাম কিছুটা বেশি হলেও উন্নত জুম সক্ষমতা এবং দুর্দান্ত ভিডিও ফিচারের কারণে এটি অনেকের নজর কাড়বে।