ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে সাড়ে ছয় বছর ধরে কোনো কমিটি নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোরও একই অবস্থা! আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ও পরে তা বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া।
দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, ১৬ বছর ধরে তারা বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এখন সময় এসেছে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করার। ঘর গোছানোর। কমিটি না থাকার কারণে দলীয় কার্যক্রমে এক প্রকার স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ ছাড়া সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনো বিকল্প নেই। তবে আগের মতো ‘ড্রয়িংরুম’ নির্ভর কমিটি না দিয়ে ত্যাগীদের প্রাধান্য দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে নানা ঘটনা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ও পৌর বিএনপি কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। পরের বছর ২০১৯ সালের ৩ জুলাই শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও হামলা-মামলার রায়ে ৯ বিএনপির নেতা-কর্মীর ফাঁসি, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন পাবনার একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশই ঈশ্বরদী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এ রায়ের পরদিন ৪ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক ও সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪৩ সদস্যের পাবনা জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শুরু করে। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর পৌর কমিটি না করে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা পাল্টা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করলে সংকট আরও জোরালো হয়। তখন থেকেই দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির নেতা বিষ্টু কুমার সরকার বলেন, ‘এখন ঘর গোছানো দরকার। কমিটি না থাকলে, নেতৃত্ববিহীন সংগঠন কখনো শক্তিশালী হয় না। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে যত দ্রুত সম্ভব কমিটি গঠন করতে হবে।’
পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘জেল-জুলুম, নির্যাতিত হয়েও আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেগম জিয়ার ছায়াতলে থেকে ও জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এখন সময় এসেছে আদর্শ, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করার। আমরা চাই দলকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি গঠন করা হোক।’
পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক নেতা-কর্মী চরমভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন সময় এসেছে তাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার। আগের মতো ড্রয়িংরুমে বসে যদি ত্যাগীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে কখনোই তা মেনে নেওয়া হবে না। সকলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের বিষয়টি নেতৃবৃন্দ গুরুত্ব দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। জেলা, উপজেলায় কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে হাবিব বলেন, ‘শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা-মামলার ফরমায়েশি রায়ে মৃত্যুদণ্ডসহ ঈশ্বরদী বিএনপির ৪৭ নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামীকাল ঢাকায় একটি আদালতে এ মামলার শুনানি হবে। আশা করছি তারা জামিন পাবেন। নেতারা কারামুক্ত হয়ে আসার পরই কমিটি নতুন করে সাজানো হবে। যারা ত্যাগী, একনিষ্ঠ, রাজপথের পরীক্ষিত তাদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে।’