ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্কে রেফারির পাশে ফিফা লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ট্রাম্পের খোঁচা ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় কীভাবে উদযাপন করলেন হালান্ড? ফাঁশ করলেন বান্ধবী ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প চবিতে ক্যানটিন সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো রাজবাড়ীতে তরুণ-তরুণীকে বেঁধে পিটিয়ে বিয়ে মেসি না সালাহ? বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন বর্ণবাদী আক্রমণের জবাবে প্যারাগুয়ের সিনেটরকে ধুয়ে দিলেন এমবাপ্পে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের পিরামিড অভিযানে মেসিবাহিনী সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা ৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল কোয়ার্টার ফাইনালে কে হচ্ছে বেলজিয়াম মুখোমুখি? মায়াবী আভার বন পিটুনিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন, ম্যাচ কবে-কখন? পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম ভ্যাঙ্কুভারে ইউরোপ-লাতিন লড়াই

শ্রীপুরে মিলেনি ঢালাইয়ের নিচে নারীর মরদেহ, ফের অভিযানে পুলিশ

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:২৬ পিএম
শ্রীপুরে মিলেনি ঢালাইয়ের নিচে নারীর মরদেহ, ফের অভিযানে পুলিশ
আসামিদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের শ্রীপুরে নারীকে হত্যার পর মরদেহ নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনের নিচতলায় আরসিসি ঢালাইয়ে নিচে খনন করে সন্ধান মিলেনি নারীর মরদেহের। তবে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে উদ্ধারে কাজে অংশ নেওয়া র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। আসামিদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বেড়াইদেরচালা এলাকায় আব্দুল লতিফের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নিচতলার পেছনের অংশে আরসিসি ঢালাই ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মোছা. তাছলিমা আক্তারের বাদী হয়ে তার মেয়ে মোছা. সুমাইয়া আক্তারের নিখোঁজ সংবাদে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের হানিফ (৪০) ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার কাকরকান্দি গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮) এর নাম উল্লেখ করে ৩/৪ জনের নাম অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্প মামলার তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আসামি জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার জয়নাল আবেদীন র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়াকে হত্যার পর বেড়াইদেরচালা এলাকায় আব্দুল লতিফের নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনের পেছনে একটি স্টোর রুমের নিচে দুই স্তরের আরসিসি ঢালাই করে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান।

এমন খবরে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ওই বাড়ির পছনের অংশের মেঝে ভেঙ্গে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালায়। কিন্তু খোড়াখুড়ি করার পর নিখোঁজ নারীর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মরদেহ মাটি চাপা দেওয়ার খবরে আশপাশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা ভিড় করে।

শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, আসামির দেখানো স্থানে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে খুঁড়েও কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এঘটনায় বাড়ির মালিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিখোঁজ নারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ বিষয়ে পোড়াবাড়ি র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার জুন্নুরাইন বিন আলম বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পলাশ প্রধান/মাহফুজ

 

লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের কালেক্টিভ ক্যাম্পে গৌরবময় অর্জন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়নামতি রেজিমেন্টের ৭ ও ১০ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত রেজিমেন্ট কালেক্টিভ ক্যাম্প ২০২৬-২৭-এ লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুন অংশগ্রহণ করে গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ৩২৫ জন ক্যাডেটের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে লিডিং ইউনিভার্সিটির ক্যাডেটরা শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট (পুরুষ), ৭ নম্বর ব্যাটালিয়ন: ক্যাডেট কর্পোরাল সৌরভ মোহন বিশ্বাস (সিএসসি-৬৫); বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন: ক্যাডেট সার্জেন্ট সৈকত দাস (সিএসসি-৬২); উপস্থিত বক্তৃতা (ইংরেজি) প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান: ক্যাডেট কর্পোরাল সৌরভ মোহন বিশ্বাস (সিএসসি-৬৫); বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ: ক্যাডেট কর্পোরাল সৌরভ মোহন বিশ্বাস (সিএসসি-৬৫)।

এ ছাড়া আন্তঃকোম্পানি ড্রিল প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয় লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুন। এ দলে ছিলেন প্যারেড কমান্ডার ক্যাডেট সার্জেন্ট সৈকত দাস, ক্যাডেট কর্পোরাল সৌরভ মোহন বিশ্বাস, ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল কাজী জান্নাতুল আফরোজা সুলতানা এবং ক্যাডেট স্বপ্নীল ধর।

উল্লেখ্য, ক্যাম্পের সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সফলভাবে উপস্থাপনা করেন লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের ক্যাডেট কর্পোরাল সৌরভ মোহন বিশ্বাস। কালচারাল সার্জেন্ট এনসিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্যাডেট সার্জেন্ট সৈকত দাস।

ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের ক্যাডেটরা হলেন- ক্যাডেট সার্জেন্ট সৈকত দাস (সিএসসি-৬২), ক্যাডেট কর্পোরাল সৌরভ মোহন বিশ্বাস (সিএসসি-৬৫), ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল কাজী জান্নাতুল আফরোজা সুলতানা (ইংরেজি-৬৫), ক্যাডেট স্বপ্নীল ধর (সিএসসি-৬৬), ক্যাডেট মো. মাহমুদ রেজা সৌরভ (বিবিএ-৬৩) এবং ক্যাডেট স্নিগ্ধা চন্দ সুপ্তি (সিভিল-২৮)।

রেজিমেন্ট কালেক্টিভ ক্যাম্প ২০২৬-২৭-এ সব বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী ক্যাডেটকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে এক বার্তায় লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের প্রতিটি সদস্যের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দলগত প্রচেষ্টার সম্মিলিত স্বীকৃতি।

এ ছাড়া ক্যাম্পটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য ময়নামতি রেজিমেন্ট, সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা, বিএনসিসি স্টাফ এবং প্রশিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

এ গৌরবময় অর্জনে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য লিডিং ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি প্লাটুনের পক্ষ থেকে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী, উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন এবং প্রফেসর আন্ডার অফিসার নাঈম আহসানের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

রিফাত/

রাজবাড়ীতে তরুণ-তরুণীকে বেঁধে পিটিয়ে বিয়ে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
রাজবাড়ীতে তরুণ-তরুণীকে বেঁধে পিটিয়ে বিয়ে
ছবি:সংগৃহীত

রাজবাড়ী সদরের চর খানখানাপুর গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে এক তরুণ ও এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে গৃহবধূর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ (তালাক) সম্পন্ন করে ওই তরুণের সঙ্গে গৃহবধূর বিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার খানখানাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  গত রবিবার বিকেলে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে মেহগনিগাছের সঙ্গে একই রশিতে এক তরুণ ও এক গৃহবধূকে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে নারী-পুরুষসহ অসংখ্য উৎসুক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁধা অবস্থায় ওই তরুণ বারবার স্থানীয়দের রশি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করছেন। এক যুবকের হাত ধরে অনুরোধ করলে তিনি জানান, রশি খুললে উপস্থিত লোকজন তাকে মারধর করবেন। এ সময় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি এগিয়ে এসে রশি খুলতে নিষেধ করেন। কেউ খুললে তাকে মারধরের হুমকি দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার নবুওছিমদ্দিন এলাকার নিলয় মোল্লার (২৪) সঙ্গে চর খানখানাপুর গ্রামের ফুপাতো ভাই আকাশের স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল। শনিবার রাত প্রায় ১২টার দিকে নিলয় ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করতে গেলে আকাশ তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর আকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা নিলয়কে মারধর করেন। গৃহবধূসহ দুজনকে বাড়ির উঠানে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

সেখানে থাকা নবুওছিমদ্দিন এলাকার বাসিন্দা হাসেম শেখ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা রাতেই সেখানে যাই। দেখি নিলয় ও আকাশের স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আকাশ জানিয়ে দেয়, সে আর এই মেয়ের সঙ্গে সংসার করবে না। পরে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একজন মৌলভীকে ডেকে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিলয়ের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভোরের দিকে তারা একসঙ্গে চলে যান। গাছে বেঁধে রাখার ঘটনাটি আকাশ ও তার পরিবারের লোকজন করেছেন। আমরা শুধু স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি।’

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি জানার জন্য স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ভাড়া আট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত
ছবি: খবরের কাগজ

ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান ও হকার বসিয়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে আট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। নগরীর যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন।

তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট কমানো এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাইকিং, লিখিত নোটিশ এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে একাধিকবার সতর্ক করা হয়।

তিনি বলেন, ‘সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ আমরা নিজেরা মাঠে গিয়ে নির্দেশনা দিই। পরে বারবার সতর্ক করার পরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে অবৈধ হকার ও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়ে আসছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নগরীর রানীরবাজার এলাকার আটটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো রানীরবাজার সড়ক এলাকার সারা বয়লার হাউস, আরব সুইট অ্যান্ড বেকারি, ট্রাই বেকারি, কাজী ফজলুল হক স্টোর, জেলিকা বেকারি, আল বারাকা হোটেল, মেসার্স হাজি অ্যান্ড সন্স এবং আবেদন স্টোর।

গতকাল দুপুরে কুসিকের উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক স্মারকে জানানো হয়, নগরীর ফুটপাত, সড়ক এবং সড়কের পাশের দোকানের সামনে অবৈধভাবে হকার, ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নগরীর স্বাভাবিক যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্মারকে আরও বলা হয়, এ সমস্যা নিরসনে কুসিকের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া, মাইকিং, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, উচ্ছেদ অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে দোকানের সামনে অবৈধ হকার ও ভ্যানগাড়ি বসাতে সহযোগিতা করে আসছে। তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হওয়ার পরই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর রানীরবাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী হকারদের অন্তত ৩০টি ভ্যান নষ্ট করা হয়। একই অভিযানে একটি ভবনের পার্কিংয়ে হকারদের ভ্যান সংরক্ষণের জন্য জায়গা দেওয়ার অভিযোগে ভবন কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দেওয়া হয়। কুসিক জানিয়েছে, ফুটপাত দখল, যানজট সৃষ্টি এবং অবৈধ কার্যক্রমে সহযোগিতার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ
ক্যাপশন: নদীভাঙনে ইতোমধ্যে একাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা মাদ্রাসাটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী এলাকা থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

তিন দফা নদীভাঙনে সব হারিয়েও হাল ছাড়েননি শান্তি বেগম। প্রায় ২০ বছর আগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামে নতুন করে তুলেছিলেন ছোট্ট একটি ঘর। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে সেই ভিটাতেই চলছিল তার কষ্টের সংসার। কিন্তু গত রবিবার গভীর রাতে যমুনার আগ্রাসী স্রোত মুহূর্তেই গিলে নেয় তার এই শেষ সম্বল।

এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধার। খোলা আকাশের নিচে বসে নদীর দিকে তাকিয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘তিনবার নদী আমার ঘর নিয়েছে। ভাবছিলাম আর হয়তো ভাঙবে না। কিন্তু এবার শেষ সম্বলটাও চলে গেল। এখন কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব কিছুই জানি না। হাতে খাবার, টাকা-পয়সা কিছুই নেই।’

শুধু শান্তি বেগম নন, যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের শত শত পরিবার। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর তীরজুড়ে শুধু আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব। কোথাও মানুষ ভাঙনের আগে ঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, কোথাও আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো বসতভিটাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাচ্ছেন। কয়েক দিনের ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। নদী প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা গ্রাস করছে।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার ভয়াল থাবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। নদী থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছে চারতলা একাডেমিক ভবন। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও টয়লেট নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদরাসার দুটি ভবন যেকোনো সময় নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। জানা গেছে, আশপাশে কোনো উচ্চবিদ্যালয় না থাকায় কয়েকটি গ্রামের শত শত শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে।

স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আর কোনো হাইস্কুল নেই। এই মাদরাসা নদীতে চলে গেলে শত শত ছেলেমেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। তিন-চার কিলোমিটার দূরে একটি স্কুল আছে, সেখানে যেতে নদীপথ ছাড়া উপায় নেই। এত দূরে সন্তানদের পাঠানোর সামর্থ্যও অনেক পরিবারের নেই। তাই সরকার যেন দ্রুত মাদ্রাসাটি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।’

মাদরাসা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সে বলে, ‘এই মাদ্রাসা যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আমাদের আর পড়াশোনা হবে না। এত দূরে গিয়ে পড়ার সুযোগ আমাদের নেই। আমরা খুব ভয় আর দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

হারুনুর রশিদ নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে আগে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু কাটা হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে অনেকবার জানিয়েছি। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে ড্রেজার বন্ধ করা যায়নি। এখনো দক্ষিণ দিকে ড্রেজার চলছে। নদীর তলদেশ থেকে মাটি তুলে নেওয়ার কারণেই ভাঙন অনেক বেড়ে গেছে।’

ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মোসা. নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমার ঘরে যা কিছু ছিল সব নদীতে চলে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। স্থানীয়দের সাহায্যে কয়েকটা হাঁড়ি-পাতিল বের করতে পেরেছিলাম। হাঁস-মুরগিও নদীতে চলে গেছে। এখন আর কিছুই নেই।’

একই গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছিল। বড় বড় মাটির অংশ নদীতে ভেঙে পড়ছিল। সেই শব্দে ঘুম ভাঙে। কিছু সরানোর সুযোগ পাইনি। ছাগল, ঘর, দরজা সব নদী নিয়ে গেছে। শুধু প্রাণটা নিয়ে বের হতে পেরেছি।’

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাদ্রাসার সামনে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী নদীশাসন ছাড়া ভাঙন বন্ধ করা সম্ভব নয়।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এই চরটি সম্পূর্ণ বালুময়। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চরের কোথাও শক্ত মাটির স্তর নেই। ফলে প্রতি বছরই ভাঙনের ঝুঁকি থাকে।’

সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম
সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের নুরুল আমিন (৬৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তান (৫০) ও ছেলে ফরহাদ শাহ (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল আমিনের বাড়িতে একটি মুদি দোকান রয়েছে। সেই দোকানঘর দুপুরে মেরামত করছিলেন তিনি ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ। এসময় দোকান ঘরের টিনে বিদ্যুৎ লাইনের তার জড়িয়ে যায়। এতে নুরুল আমিন ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এসময় স্থানীয়দের চিৎকার শুনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দোকানঘর মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

দেওয়ান গিয়াস/এএফ