গাজীপুরের শ্রীপুরে নারীকে হত্যার পর মরদেহ নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনের নিচতলায় আরসিসি ঢালাইয়ে নিচে খনন করে সন্ধান মিলেনি নারীর মরদেহের। তবে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে উদ্ধারে কাজে অংশ নেওয়া র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। আসামিদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বেড়াইদেরচালা এলাকায় আব্দুল লতিফের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের নিচতলার পেছনের অংশে আরসিসি ঢালাই ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মোছা. তাছলিমা আক্তারের বাদী হয়ে তার মেয়ে মোছা. সুমাইয়া আক্তারের নিখোঁজ সংবাদে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের হানিফ (৪০) ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার কাকরকান্দি গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮) এর নাম উল্লেখ করে ৩/৪ জনের নাম অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্প মামলার তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আসামি জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার জয়নাল আবেদীন র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়াকে হত্যার পর বেড়াইদেরচালা এলাকায় আব্দুল লতিফের নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনের পেছনে একটি স্টোর রুমের নিচে দুই স্তরের আরসিসি ঢালাই করে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান।
এমন খবরে র্যাব-১ এর সদস্যরা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ওই বাড়ির পছনের অংশের মেঝে ভেঙ্গে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালায়। কিন্তু খোড়াখুড়ি করার পর নিখোঁজ নারীর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মরদেহ মাটি চাপা দেওয়ার খবরে আশপাশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা ভিড় করে।
শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, আসামির দেখানো স্থানে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে খুঁড়েও কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এঘটনায় বাড়ির মালিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিখোঁজ নারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
এ বিষয়ে পোড়াবাড়ি র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার জুন্নুরাইন বিন আলম বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পলাশ প্রধান/মাহফুজ