বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশ ইতোমধ্যে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প প্রত্যক্ষ করেছে। মেট্রোরেল স্বপ্নডাঙায় চড়েছে। পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ট্রেনসেবা যাত্রীদের সেবার মান ও প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠিক সে সময়ই লক্ষ করা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায় পুরোনো স্টেশনগুলোর ভগ্নদশা। খবরের কাগজ পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে- মাধনগর রেলস্টেশনের আয় বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি সেবার মান। দেশের অনেক স্টেশনের আধুনিকায়ন হলেও এই স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত।
১৯২৭ সালে নির্মিত হয় নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় মাধনগর রেলস্টেশন। প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই রেলস্টেশন ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ যাতায়াত করেন। দিন দিন বেড়েছে এই স্টেশনের যাত্রীর সংখ্যা। বেড়েছে আয়ও। শুধু বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা, লোকবল, নিরাপত্তার অভাবে শঙ্কায় থাকেন যাত্রীরা।
স্টেশনটিতে প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা যাত্রীর সংখ্যার তুলনায় কম। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী। একটি মাত্র ওয়াশরুম। সেখানে নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। অথচ স্টেশনে কর্মরত ১২-১৩ জন স্টাফ এবং যাত্রী সবাই এটি ব্যবহার করেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটিমাত্র বিশ্রামাগার যেটা আছে, সেটাও ব্যবহারের অনুপযোগী।
স্টেশনটিতে বহু বছর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অবৈধ দোকানপাট ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক যাত্রী প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছেন। ট্রেনের টিকিট দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কাউন্টার মাস্টার। টিকিট বিক্রির কাউন্টারও মাত্র একটি। যাত্রীরা জানান, মাত্র হাতে গোনা কয়টি ট্রেন এই স্টেশনে থামে; যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এই স্টেশনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২০টি ট্রেন যাতাযাত করে। ঢাকা ও খুলনাগামী আন্তনগর ট্রেনের স্টপেজ আরও বাড়ানো দরকার। দীর্ঘদিনেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তথ্যমতে, নাটোর জেলায় ১২টি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে মাধনগর একটি। এই স্টেশনে ঢাকাগামী একটি, রাজশাহীগামী দুটি আন্তনগর, খুলনাগামী একটি ছাড়াও রাজশাহীগামী একটি লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। প্রতি মাসে এই স্টেশন থেকেই পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা আয় হয়। উৎসবের সময় সেটা সাত লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায়।
স্টেশনমাস্টার মো. মমিন উদ্দিন প্রামাণিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্টেশনে যাত্রী, স্টাফ কারও জন্য বিশ্রামের জায়গা নেই। যেটা আছে তা ব্যবহারের অনুপযোগী। অফিসের চালসহ প্ল্যাটফর্মের শেডগুলোতে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। অল্প একটু বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না। আধুনিক অফিস কক্ষ, বিশ্রামাগার, নিরবচ্ছিন্ন পানিপ্রবাহসহ ওয়াশরুম, বড় প্ল্যাাটফর্ম সবই প্রয়োজন। স্টেশনের লোকবলসহ বাড়াতে হবে নিরাপত্তাকর্মীও। যাত্রীসেবা বাড়ালে আয় আরও বাড়বে।’
এই স্টেশনে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের ট্রেনের স্টপেজ বাড়াতে হবে। স্টেশনটিতে সেবার মান বাড়িয়ে একটি আধুনিক স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা।