আসছে ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্রতিবছর ঈদকে ঘিরে ঘরমুখী মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। বিশেষ করে যানজটের কারণে ঘরমুখী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়। এবারও এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যে। কারণ যানজট এখন নিত্যব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। সরকার নীতি-নির্ধারণীদের নিয়ে প্রতিবছর দুর্ভোগ কমানোর জন্য নানারকম পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু খুব একটা লাভ হয় না। এবার দীর্ঘ ছুটি পেয়ে ঘরমুখী মানুষ আগেভাগেই গ্রামে চলে গেছেন। ফলে দুর্ভোগ কিছুটা কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমীক্ষা অনুযায়ী, এবারের ছুটিতে রাজধানী ছাড়তে পারেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। এ হিসাবে প্রতিদিন ঢাকা ছাড়বেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। এর বিপরীতে বর্তমান পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বড়জোড় ২২ লাখ। বাস, রেল, লঞ্চ ও বিমানে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডিব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সড়কে বিআরটিএর সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইনসও সক্রিয় রয়েছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, গণপরিবহন অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে এবং খোলা ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহনে ১৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে।
আশঙ্কা রয়েছে, সিটি পরিবহনের লক্কড়-ঝক্কড় যান নিয়ে। এগুলোর ফিটনেস থাকে না। দূরযাত্রায় বাসগুলো রাস্তায় কোথাও আটকে থাকলে তখন দীর্ঘ যানজট তৈরি হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে রেকার রাখার অনুরোধ করেছেন অনেকে। ট্রাফিক বিভাগ এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। বিকল হয়ে পড়া বাসগুলো যেন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়।
১০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্পটের বিষয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে সতর্ক করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব স্পটের ৬০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ঈদে দেশে ৭১৪টি স্পটে যানজট হতে পারে- এমন খবর গণমাধ্যমে এসেছে। যার মধ্যে ১৪০টি স্পটে প্রখর নজরদারি থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে নজরদারি করবে ড্রোন। এটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ছুটি। ঈদের ছুটির মধ্যে ঝড়বৃষ্টি হলে যাত্রী ভোগান্তি বাডড়বে। ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এই সময় চালকদের সতর্ক থেকে গাড়ি চালাতে হবে। বিনা টিকিটে যাতে কেউ রেল ভ্রমণ না করতে পারে সেজন্য সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হোক সেটাই প্রত্যাশা।
পৃথিবী থেকে সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের বিভীষিকা দূর হোক। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন দৃঢ় হোক। পরিশেষে, খবরের কাগজের সুপ্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার ও শুভানুধ্যায়ী সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও গভীর ভালোবাসা।