দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি ঘটছে। তাপপ্রবাহে পুড়ছে মানুষ। তীব্র গরমে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। একদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অন্যদিকে দেশজুড়ে এডিস মশার বিস্তারে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এবার দেশে মশা ও পানিবাহিত রোগ আগের চেয়ে ভয়ানকভাবে বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ববিদরা। এ ছাড়া মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ডায়রিয়া ও কলেরায় মহামারির শঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। ইতোমধ্যে জ্বর-সর্দি-কাশি দেখা দিয়েছে ঘরে ঘরে। কলেরা ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তাপপ্রবাহের কারণে দেশজুড়ে ডেঙ্গু, কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার বিস্তার ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সারা বছরই কলেরার প্রকোপ থাকলেও সরকারি পর্যায় থেকে এটিকে গোপন রাখা হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতির বড় অবনতি ঘটতে পারে। ফলে এসব রোগের বিষয়ে দেরি না করে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা জরুরি। অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। একদিকে গরমে মানুষের শরীর থেকে বেশি ঘাম বের হয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হবে, অন্যদিকে মানুষ পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির অভাবে দূষিত পানি পান করে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ ও সি-সহ আরও কিছু রোগের জীবাণু ও ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। তাপমাত্রার প্রভাবে এডিস মশার বিস্তারের কারণে ডেঙ্গু আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বায়ুদূষণের প্রভাবে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও তীব্র হতে পারে। কয়েক দিন ধরে দেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে তা যদি আরও বেড়ে যায়, তাহলে তাপজনিত বিভিন্ন রোগ ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়বে। ফলে ঘর থেকে খোলা আকাশের নিচে বের হতে হলে সবাইকে সতর্ক থাকা দরকার। যতটা সম্ভব ছায়া দেখে চলাচল করা, ছাতা ব্যবহার করা, নিরাপদ পানি সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা যত বেশি থাকবে, মৌসুমি রোগব্যাধির ব্যাপ্তিও ততই বাড়বে। বাংলাদেশে সারা বছরই ফ্লু শনাক্ত হয়ে থাকে। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরে ফ্লু শনাক্তের হার বৃদ্ধি পায় এবং জুন থেকে জুলাই মাসে এর প্রকোপ সর্বোচ্চ হয়। এ কারণে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৌসুম শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিয়ে সুরক্ষিত রাখা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, মৌসুমি রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান ও সুষম খাবার গ্রহণ করা, ছাতা নিয়ে বের হওয়া, রোদ এড়িয়ে চলা, লবণযুক্ত পানি পান করা জরুরি। বয়স্ক ও শিশুদের ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
তীব্র তাপপ্রবাহ ও রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনমতো চিকিৎসাসামগ্রী রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তদারকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা জোরদার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মতো সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।