পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু শুরুতেই ঘরমুখী মানুষকে হয়রানি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে রেল। মহাসড়কে উত্তরের পথে দীর্ঘ যানজট লক্ষ করা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজট লেগেই থাকছে দিনভর। কোনো কোনো এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সড়কের যানজট কমাতে গত বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ২২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।
এবার ঈদুল আজহায় ঢাকার সদরঘাট নৌবন্দর থেকে যাত্রী পরিবহনের জন্য ২০০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা নৌবন্দরের পরিচালক আলমগীর হোসেন। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে রেলব্যবস্থায় শিডিউল বিপর্যয়ে মানুষের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। গত বুধবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যেসব ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে; সবগুলোই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ছেড়েছে। সড়কপথে ঈদযাত্রায় অব্যবস্থাপনায় যানজটে ঘরমুখী মানুষের তীব্র দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মহাসড়কে দায়িত্বে থাকবে। ঈদযাত্রায় শুরুর দিন থেকে মহাসড়ক মনিটরিংয়ের জন্য ওড়ানো হবে ড্রোন ক্যামেরা। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কোনো যানজট যেন তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রতিটি স্থানে হাইওয়ে পুলিশ ও ডিএমপি যৌথভাবে সক্রিয় থাকবে। পশুবাহী গাড়িগুলোকে অবশ্যই সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত হাটের ভেতর লোড-আনলোড করতে হবে।
তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয়। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহন বাড়তি ভাড়া আদায় করলে সেই বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার।
ঈদযাত্রার প্রথম দিনে শুরুর দিকে দুটি ট্রেনে কোচ সংযোজন ভুল হওয়ায় সেগুলো সংশোধন করতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এতে এ ট্রেনগুলোর বিলম্বের প্রভাব পড়ে অন্য ট্রেনেও। এতে যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা করছেন এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওভারপাসের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদের আগে ও পরের দিনগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মহাসড়কের পাশে বেশি হাট বসেছে কুমিল্লা এলাকায়। হাটের কারণে ওই সড়কের গাড়ির গতি কমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে লাখো মানুষ পড়ে ভোগান্তিতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়কে কিছুটা অব্যবস্থাপনা ও পশুর হাটের কারণে যানজট বাড়তে পারে।
মহাসড়কের পাশে এবার ২১৭টি পশুর হাট বসেছে এবং ১৫৫টি যানজটপ্রবণ স্পট রয়েছে। এসবের কার্যকর ব্যবস্থা না নিতে পারলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে গ্রামে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ঈদে আসা-যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। তথ্যমতে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়কে প্রায় ৫০ হাজার বাস-মিনিবাস চলাচল করবে। পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী বিপুলসংখ্যক ট্রাক চলবে। এবার ঈদের ছুটি তিন দিন হওয়ায় আসা-যাওয়া মিলিয়ে এ কয়দিন যানজটের কবলে পড়তে হতে পারে।
ঈদুল আজহার সময়ে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে যানজট স্পট, কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির পশুবাহী গাড়ির কারণে যাতে ঘরমুখী মানুষকে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থেকে কাজ করতে হবে। সড়কের সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে ডিএমপি ঘোষিত ২২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে যানজটের তীব্র দুর্ভোগ থেকে ঘরমুখী মানুষকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।