‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। বিশেষ এই অভিযানে নেমেছে যৌথ বাহিনীর বিশেষায়িত দল। সরকারের ভাষ্য অনুসারে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে চলছে
এই অভিযান।
খবরের কাগজে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত শনিবার রাতে এই অভিযানে নেমেছে যৌথ বাহিনী। এতে সেনাসদস্যের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাবসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। প্রধানত দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করছেন ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে এই অভিযানে ১ হাজার ৩০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা লক্ষ করেছেন, ৮ আগস্ট সরকার গঠনের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নানা সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনমনে বাড়ছিল উৎকণ্ঠা। স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ‘সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার এবার শুধু এতে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে সর্বাত্মক অভিযানে নেমেছে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অস্থিতিশীল এলাকাগুলোকে। অভিজ্ঞ মহল একে স্বাগত জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি ঘটছিল, তাতে এই অভিযানের যৌক্তিকতা আছে। স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হচ্ছে, এতে অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে। তবে এই অভিযান নিয়ে অভিন্ন মত থাকলেও অনেকেই সরকারকে সচেতন থাকতে বলেছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য থাকা জরুরি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোই যুক্তিযুক্ত হবে। কোনো অবস্থাতেই নিরপরাধ বা নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে, এই অভিযান যেন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত না হয়। কারণ, অতীতে আমরা এ ধরনের অভিযানের সময় আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেখেছি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এবার কিছুতেই যেন তা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সাবেক পুলিশপ্রধান আবদুল কাউয়ুম বলেছেন, ‘সরিষার ভেতরে ভূত’ রয়েছে, ইতোমধ্যে এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে পরিস্থিতি যেন অস্থিতিশীল হয়ে না ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই অভিযানের সাফল্যের ওপর দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করছে। দেশের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার প্রকৃত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। জনজীবনে দ্রুত ফিরে আসবে স্বস্তি, এটাই প্রত্যাশা।