স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এলে এ দেশে দাম বাড়বে ওষুধের। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম খরচে কাঁচামাল কেনার সুযোগও পাবে না। এতে করে দেশে বেশির ভাগ ওষুধের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এমনিতেই তিন বছর ধরে দেশে ওষুধের দাম কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এখন অনেক পরিবারের সংসার খরচের প্রায় অর্ধেকই যায় ওষুধ কিনতে। অনেকে খরচ জোগাড় করতে না পেরে প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ একটি পরিবারের স্বাস্থ্য খাতে মোট ব্যয়ের ৬৭ থেকে ৭০ শতাংশ চলে যায় ওষুধ কিনতে। ওষুধ কিনতে খরচ বাড়ার কারণে সাধারণ আয়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। ওষুধ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়বে দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বড় মাপের প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোরকমে টিকে থাকতে পারলেও বিপাকে পড়বেন ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। লোকসানে পড়ে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ আয়ের মানুষের পক্ষে এখনই ওষুধের খরচ জোগাড় করা কষ্টকর। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দাম আরও বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে। এ পরিস্থিতি এড়াতে এখন থেকে জরুরিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এলডিসি থেকে উত্তরণ নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। তবে ওষুধশিল্পের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন পর্যন্ত দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রিপস চুক্তির আওতায় পেটেন্ট ছাড়ে জেনেরিক ওষুধ তৈরি করছে। ১৫১টি দেশে বাংলাদেশ থেকে উৎপাদিত ওষুধ রপ্তানি হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এ সুবিধা থাকবে না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। অনেক জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দামও বাড়বে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকায় আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা ওষুধের কাঁচামাল বিভিন্ন ধরনের ছাড়ে কেনার সুযোগ পায়। এলডিসি থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এলে সুবিধা ক্ষেত্রবিশেষে কমবে বা থাকবে না। তাই আমদানি-নির্ভরতা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ খবরের কাগজকে বলেন, যে কাঁচামালগুলো দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো এখনো উৎপাদনে সক্ষম নয়, তার দ্রুত নিবন্ধন করে নিতে হবে। যত বেশিসংখ্যক নিবন্ধন করে রাখা যায় তত ভালো। কিছু কোম্পানি এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ডিজিডিএ থেকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে বসে এটা আরও গতিশীল করতে পারে। সাধারণ মানুষকে বেশি দামে ওষুধ কেনা থেকে বাঁচাতে এটা করতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমাদের দেশে স্থানীয় বাজারে ওষুধের দাম বেড়ে গেলে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। ধনীদের তেমন সমস্যা না হলেও সাধারণ আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়বে। একচেটিয়াভাবে ওষুধ আমদানি হলে এখনকার চেয়ে আমদানি করা ওষুধের দাম আরও বাড়ানো হবে। এটা ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ওষুধ কেনার সক্ষমতা হারাবে। স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদন কমে গেলে আমদানির ওপর নির্ভর করবে। এ জন্য সরকারকে শিল্পপার্ক স্থাপনে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ওষুধশিল্পে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি, সরকার এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ওষুধশিল্পের সংকট উত্তরণে সক্ষমতা অর্জন করবে।