ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চারঘাটে শিশু ধর্ষণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ধর্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিপক্ষে মহালড়াইয়ে সাইবারিকে হারাচ্ছে মরক্কো সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতিসহ রেফারির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল আনোয়ারায় পানিবন্দি অর্ধশতাধিক গ্রাম, সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার প্রথমবার সিনেমায় শাহরুখ সুহানা এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৫টি মনোনয়ন পেল ‘দ্য পিট’ বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার স্বামী ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাবেন যারা ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প টেক্সাসে ‘চেতনাতে নজরুল’: হৃদি হকের ব্যতিক্রমী সংগীত-নাট্য উপস্থাপনা ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত রিকশাচালক সাকিবুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারণা দিচ্ছে ডক্টরস২৪ জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড চীনে বন্যায় নিহত ৩৯ আর্জেন্টিনার সঙ্গে বিতর্কিত ম্যাচের পর কোচ নিয়ে বড় পদক্ষেপ মিসরের মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে রেফারিদের পাশে কলিনা কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস পর্তুগালের নতুন কোচ হতে যাচ্ছেন জর্জ জেসুস! আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কার্যকারিতা

রয়টার্সের জরিপ নির্বাচনের আগে তরুণদের আশায় ভাটা

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
নির্বাচনের আগে তরুণদের আশায় ভাটা
ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান মুজতবা রাফিদ তার বাবা-মা ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই আন্দোলন অপরিহার্য।

তবে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগে রাফিদের সেই আশা কিছুটা  স্তিমিত হয়ে গেছে। রাজনৈতিক ডামাডোলের পর এবারই এটা প্রথম নির্বাচন। ২৫ বছর বয়সী রাফিদ বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেখানে লিঙ্গ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। আমরা নীতিগত পরিবর্তন ও সংস্কারের আশা করেছিলাম, কিন্তু বাস্তবতা আমাদের স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে।’

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর দমন-পীড়ন, কর্মসংস্থানের অভাব ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমে আসেন। তারা চেয়েছিলেন আমূল পরিবর্তন এবং একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’। কিন্তু অনেকের মতে, নির্বাচন হলে ২০০৮ সালের পর প্রথম শেখ হাসিনাবিহীন সরকার গঠিত হবে, কিন্তু এখনো বড় কোনো সংস্কার হয়নি এবং নতুন কোনো কার্যকর বিকল্প রাজনৈতিক দলও গড়ে ওঠেনি। ফলে সরকার গঠনের লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো হলেও বিতর্কিত এসব দলই এগিয়ে আছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স রাজধানী ঢাকায় ৩০ বছরের নিচে ৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে। অধিকাংশই তুলনামূলকভাবে মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারার ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত হলেও প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

‘পুরোনো শক্তি বনাম ছাত্র-ইসলামপন্থি জোট’
৩০ বছরের নিচের ভোটাররা, যাদের সাধারণত জেন জি বলা হয়, এই অভ্যুত্থানের চালিকাশক্তি ছিল। তারা বাংলাদেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ শাহান বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং ভোট দিতে যাবেই। ফলে নির্বাচনের ফলাফলেও তাদের বড় প্রভাব পড়বে।

অনেকে আশা করেছিলেন, আন্দোলনের কিছু নেতার নেতৃত্বে গঠিত নতুন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তরুণদের সমর্থন পাবে। কিন্তু দলটি সেই সমর্থন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। কট্টরপন্থি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও কমিয়ে দিয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সদরুল আমিন বলেন, তারা নৈতিক ভূমি হারিয়েছেন। যারা অতীতের বোঝামুক্ত ‘নতুন বাংলাদেশ’ চেয়েছিলেন, তারা এখন মনে করছেন, তাদের হয় পুরোনো শক্তি না হয় ছাত্র-ইসলামপন্থি জোটের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

২৪ বছর বয়সী হিন্দু তরুণী শামা দেবনাথ বলেন, রাজনীতি এখনো ‘হয় এটা না হয় ওটা’–এই কাঠামোর মধ্যেই আটকে আছে, নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি বা বিকল্প নেই।

‘বিপ্লবের চেতনা হারিয়ে গেছে’
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও জেন জি প্রজন্মের অনেককে হতাশ করেছে। সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা দমনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

২৩ বছর বয়সী বৌদ্ধ শিক্ষার্থী হেমা চাকমা বলেন, ‘এক বছর পর আমার মনে হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। আমি বলছি না আগের পরিস্থিতি ভালো ছিল। কিন্তু এখন সহিংসতা অনেক বেড়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

তরুণদের সাক্ষাৎকারে অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। এই অর্থনৈতিক সংকটই ছিল সেই বিদ্রোহের মূল প্রেরণা, যার পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নিতে হয়।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, নতুন দল হওয়ায় তারা নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। দলটির সদস্যরা বেশির ভাগই তরুণ, তাদের পর্যাপ্ত সম্পদ, তৃণমূল সংগঠন ও আর্থিক শক্তি নেই। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটটি আদর্শিক নয়, কৌশলগত। আর শরিয়াহ আইন চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। আসিফ বলেন, ‘আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যতে তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব, যেমনটা আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

ভোট দিতে আগ্রহী মানুষ
সব হতাশা সত্ত্বেও বেশির ভাগ জেন জি তরুণ রয়টার্সকে বলেছেন, তারা নির্বাচন নিয়ে এখনো আশাবাদী। এই নির্বাচনে ৩০০টি আসনে ভোট হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার নিয়ে একটি গণভোটও হবে। সেই ভোটে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা জোরদারের প্রস্তাব রয়েছে।

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ৯৭ শতাংশ। এই ভোটারদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি সমর্থন প্রায় সমান।

২০২৪ সালের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ও ছাত্রনেত্রী উমামা ফাতেমা (২৬) বলেন, “মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি ‘স্থিতিশীল সরকারই’ বাংলাদেশকে সঠিক পথে নিতে পারে।”
কারও কারও কাছে সেই স্থিতিশীলতার অর্থ বিএনপি

২৫ বছর বয়সী মাইশা মালিহা বলেন, ‘নতুন ছাত্রদের দল আমাদের আশা ভেঙে দিয়েছে। তাই আমি বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের জন্য একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত দল দরকার, যাদের মাঠে পর্যাপ্ত লোক আছে।’
অন্যদিকে কেউ কেউ ইসলামপন্থিদের সুযোগ দিতে চান। ২০ বছর বয়সী এরিশা তাবাসসুম বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে আগেও দেখেছি, তাই জামায়াতকে নতুন বিকল্প মনে হচ্ছে।’

‘হাল ছাড়তে রাজি নই’
ব্রিটেন থেকে ফিরে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন চিকিৎসক তাসনিম জারা। কিন্তু ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোটের কারণে তিনি দল ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তার লক্ষ্য ‘একটি সত্যিকারের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের আশা দিয়েছিল আমাদের মতো যারা পুরোনো রাজনৈতিক বলয়ের অংশ ছিল না, তারাও রাজনীতিতে ঢুকে সেটাকে বদলাতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে একটি সত্যিকারের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির সম্ভাবনা আছে। তবে সেটা রাতারাতি তৈরি হবে না।’

এমন উদ্যোগ এখনো কিছু তরুণ ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলছে। ২৫ বছর বয়সী ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী এইচ এম আমিরুল করিম বলেন, ‘এখন না হলেও একদিন নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে। এই স্বপ্ন আমি এখনো দেখি। আমি হাল ছাড়তে রাজি নই।’ সূত্র: রয়টার্স

ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বড় আকারের ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন ট্রাম্প।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সময় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই বিমানঘাঁটির কিছু অংশ ব্যবহার করেছিল। ট্রাম্প তার হুমকিও আরও জোরদার করেছেন এবং সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে তেহরান যেভাবে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোরভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।’

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে বুশেহরে অবস্থিত ইরানের প্রধান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমপ্লেক্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী চাবাহার, কোনারক, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক অন্যতম। এ ছাড়াও ইরানশাহরে অবস্থিত একটি প্রধান বিমান ঘাঁটিও মার্কিন সামরিক বাহিনীর তীব্র হামলার শিকার হয়েছে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা জোরালো সামরিক অভিযান শুরু করে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে পূর্বের যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি এখন পুরোপুরি ‘অকার্যকর’ হয়ে গেছে। সূত্র:  এনডিটিভি

আজহার/

চীনে বন্যায় নিহত ৩৯

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
চীনে বন্যায় নিহত ৩৯
টাইফুন মেসাক-এর কারণে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন/ সংগৃহীত

চীনে ঝড় মেসাক-এর প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে নাননিং শহরের ডেপুটি মেয়র ডিং উই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মৃতের সংখ্যা ছয়জন বলা হলেও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তা ৩৯ জনে পৌঁছায়।

তিনি জানান, শুধু নাননিং শহরের বাঁধ ভাঙার ঘটনাতেই ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গুয়াংশি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে জলাধারগুলো উপচে পড়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ছবি: সংগৃহীত

বন্যার কারনে এলাকাগুলো থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পানিতে আটকেপড়া মানুষদের উদ্ধারে ড্রোন এবং নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুয়াংশির দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ হয়েছে। কিছু এলাকায় ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৯০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উদ্ধারকাজে আট হাজারেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তীব্র স্রোত এবং ভাসমান ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের ডেপুটি মেয়র জানিয়েছেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, তবে দুই দিন কিছু এলাকায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নাননিংয়ের আওতাধীন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হেংঝু শহরে কাদা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং জীবাণুনাশক ছিটানোর জন্য কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক মেরামতের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে ৬০ হাজারেরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎসংযোগ পুনস্থাপন করা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/

মাঝ আকাশে প্রশিক্ষকের আত্মহত্যা, বিমান অবতরণ শিক্ষানবীসের

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
মাঝ আকাশে প্রশিক্ষকের আত্মহত্যা, বিমান অবতরণ শিক্ষানবীসের
ছবি: সংগৃহীত

মাঝ আকাশেই চলন্ত বিমানের দরজা খুলে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক অভিজ্ঞ পাইলট। আর ককপিটে বসা প্রশিক্ষকের এমন আকস্মিক ঘটনার পর মানসিক ধাক্কা সামলে একাই বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করান ২২ বছর বয়সি এক অনভিজ্ঞ  শিক্ষানবীস।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় বলেন, গত শনিবার এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত পাইলটের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২), যিনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর ছিলেন।

সংবাদমাধ্যম টিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেরতাজ্জো ‘সেসনা ১৫০’ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে রোজারিও নামের ২২ বছর বয়সি এক ছাত্রকে নিয়ে আকাশে উড়ছিলেন। জবানবন্দিতে শিক্ষার্থী রোজারিও জানান, মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় বেরতাজ্জো আকস্মিক নিজের মাথার হেডসেট এবং সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার আগে তিনি ছাত্রকে ‘তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও’ বলেই চলন্ত বিমান থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বেরতাজ্জো যে ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ ফ্লাইং স্কুলে কর্মরত ছিলেন, তার পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বেরতাজ্জো অত্যন্ত চমৎকার হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। সেদিন সকালেই তিনি আরেক ছাত্রকে নিয়ে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। তিনি যে এমন কিছু করতে পারেন, তার কোনো আভাসই ছিল না।’

আলভারেজ আরও বলেন, ‘ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা কোনো গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করার মতোই কঠিন ছিল কাজটি। পাশে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কিভাবে তিনি এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্তটি নিলেন, তা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।’

এ দিকে প্রশিক্ষকের এমন আকস্মিক আত্মহননে, আকাশেই সম্পূর্ণ হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন রোজারিও। তবে অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তি ও সাহসের পরিচয় দিয়ে বিমানটিকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে অবতরণ করান তিনি।

উল্লেখ্য, নিহত লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো কেবল আর্জেন্টিনাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ চিলিতেও দীর্ঘদিন ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন।

থিওটোনিয়াস/

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা, নিহত ৩

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা, নিহত ৩
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের কাছে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে দেশটির খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতি জানিয়েছেন, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আহভাজের উপকণ্ঠে একটি স্থানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে হায়াতি সাংবাদিকদের বলেন, 'এই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।'

তিনি আরও জানান, বর্তমানে উদ্ধারকারী ও মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

এর আগে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলার ইরানি সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করতে মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর অতিরিক্ত হামলা চালিয়েছে।

এই হামলাগুলো এমন সময় চালানো হলো যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক 'শেষ' হয়ে গেছে এবং বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানে আবারও হামলা চালাবে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

তামান্না রুপা/অমিয়/

মার্কিন সন্ত্রাসবাদী তালিকা থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল সিরিয়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মার্কিন সন্ত্রাসবাদী তালিকা থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল সিরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দেওয়ায় মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দামেস্ক। এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি' হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।

পরবর্তীতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন এই সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কংগ্রেসকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক নোটিশকে স্বাগত জানায়।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, 'এই পদক্ষেপটি সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদী দেশের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়বে। সেই সঙ্গে এটি দেশ পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরি করবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।' এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সিরিয়া।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪৫ দিনের কংগ্রেসনাল নোটিশ পিরিয়ড শেষে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন।

রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, 'সিরিয়ার জনগণকে একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এটি আরেকটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে, সিরিয়াকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ দেবে এবং দেশটির জনগণের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।'

আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প এবং আল-শারার মধ্যকার বৈঠকের পর এই ঘোষণাটি আসে।

ওই বৈঠকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ওপর থেকে বেশিরভাগ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও, ১৯৭৯ সাল থেকে দেশটি ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসবাদী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই তালিকাটিকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হতো।সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

তামান্না রুপা/অমিয়/