ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফরাসি দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, নিন্দার ঝড় পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’ বিশ্বকাপে ভিএআর-এর সুবিধাভোগী আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো, খেসারত দিতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও ইরানকে দুই দিনের ব্যবধানে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু আর্জেন্টিনার সাফল্যকে অস্বাভাবিক বললেন মেসি পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার হাতিয়ায় পানিবন্দিদের পাশে ছাত্রদল গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট গোপালগঞ্জে ১২ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির পোনা জব্দ চাঁদাবাজির মামলায় কথিত সাংবাদিক শফিকুলসহ ৩ জনের কারাদণ্ড মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যমজ ৩ বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ব্যাংককে বারে আগুন, নিহত ২৭ নোবিপ্রবিতে গুচ্ছ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি, ক্লাস শুরু ১৯ জুলাই শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ, ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি শিবচরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য জাককানইবিতে শুরু হলো ৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব সংবিধান সংশোধন-সংস্কার: মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল প্রকৌশলীর কাজে চিকিৎসক, লক্ষ্যের নেই অগ্রগতি বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি আইএমএফের সঙ্গে হবে না: অর্থমন্ত্রী বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী, একঝলক দেখতে মহাসড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় হবিগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ত্রিপুরার ‘চাকমা গেট’ পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ অনুষ্ঠানে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথের উদ্বোধন জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্ন জমা দিলেই কর ছাড়

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় বহাল

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৪০ পিএম
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৭ এএম
জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় বহাল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে দলটির আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রবিবার (১৯ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের রায় বহালই থাকল। 

রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, ডিসমিস ফর ডিফল্ট (অনুপস্থাপনের জন্য খারিজ)। অর্থাৎ চূড়ান্ত শুনানিতে জামায়াতের আইনজীবীরা অংশ নেওয়ায় আপিলটি উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী তাদের আপিলটি ভবিষ্যতে রিস্টোর (পুনঃউপস্থাপন) করতে পারবে। এদিকে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মিছিল, সভা, সমাবেশ বন্ধ চেয়ে করা এবং আদালত অবমাননার অভিযোগসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করেননি সর্বোচ্চ আদালত। এতে জামায়াতের মিছিল, সভা, সমাবেশ করতেও কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। 

একই সঙ্গে জামায়াতের আপিল আবেদনটি জামায়াতের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান এবং জামায়াতের মিছিল সমাবেশ ও আদালত অবমাননাসংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবে কি না সে বিষয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের আইনজীবী মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে জামায়াতের আপিল খারিজ হলেও সংবিধান অনুযায়ী দলটি স্বাভাবিক রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতের প্রধান আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীর পক্ষে সময় চেয়ে শুনানি মুলতবি রাখতে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। আবেদনটি আদালত আমলে নেননি, খারিজ করে দিয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল সেটিও ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন আদালত। ফলে আমাদের আপিলটি ডিসমিস ফর ডিফল্ট হিসেবে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে না। আমাদের প্রতিপক্ষ দুটি আবেদন দিয়েছিলেন, আমাদের আপিল ডিসমিস হওয়ার কারণে তাদের আবেদনও আদালত রিজেক্ট করে দিয়েছেন। রায় অনুযায়ী, জামায়াতের আবেদনটি ভবিষ্যতে রি-স্টোর (পুনঃউপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে।’ 

জামায়াতের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত বিভিন্ন কর্মসূচি বন্ধ চেয়ে করা আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিবন্ধন বাতিলে রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের আপিল খারিজ হওয়ায় দলটির আর কোনো অস্তিত্ব থাকল না। তাই জামায়াত কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। কোনো মিছিল-মিটিং করতে পারবে না। দলটি এখন যদি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে তাহলে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাব।’ এর আগে গত ১২ নভেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী সময় চান। শুনানি পিছিয়ে দিতে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান আবেদন করেন।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। পরের বছর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির তৎকালীন মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (পরে প্রধান বিচারপতি, বর্তমানে ল কমিশনের চেয়ারম্যান) ও বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুল জারির পর ওই বছরের ডিসেম্বরে একবার, ২০১০ সালের জুলাই ও নভেম্বরে দুইবার এবং ২০১২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও দুইবার তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে। এতে অন্যতম সংশোধনীতে দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ রাখা হয়।

পরে জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১০ মার্চ প্রধান বিচারপতি বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনের প্রশ্ন জড়িত থাকায় বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের বৃহত্তর (লার্জার) বেঞ্চ গঠন করেন। শুনানি শেষে একই বছর ১ আগস্ট বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেন, ‘এ নিবন্ধন দেওয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।’ একই বছরের ২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জামায়াতে ইসলামী আপিল করে। আপিলটি শুনানির জন্য চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ বলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করতে চূড়ান্তভাবে দুই মাস সময় দেন। এদিকে, হইকোর্টের রায় অবৈধ হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সভা, সমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১০ বছর পর রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে পৃথক আবেদন করেন মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ তিনজন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ২৫ ব্যক্তি। জামায়াতের আপিল ও সব আবেদন একসঙ্গে শুনানি করেন আপিল বিভাগ।

এমএ/

২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা
হাইকোর্ট

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় কেউ পদত্যাগ করলে পেনশন বা অবসর-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের বিপরীতমুখী রায় বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা অবসরজনিত কোনো সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। ফলে এ বিধান আইনসঙ্গত এবং কার্যকর।

মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছর বিবেচনায় ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক পাওয়ার আবেদন করেন তিনি। তবে একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণ্য করা যায় না। পাশাপাশি ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের আওতায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ ও পরিশোধের নির্দেশ দেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী কর্মচারীরা পেনশন সুবিধা দাবি করতে পারবেন না- এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকায় দেশে ফেরামাত্রই গ্রেপ্তার করে তাকে জেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো তিনি নিজে নিজে আসার কোনো সুযোগ নেই। হয় প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।

আর শেখ হাসিনা (রয়টার্সে) যেটা বলছেন, তিনি এবং তার দলীয় নেতা-কর্মীরা একত্রে এসে আত্মসমর্পণ করবেন। এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তিনি তো এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি তো স্বাধীন নেই অথবা তিনি আত্মগোপনে নেই।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয় তার বক্তব্য বাংলাদেশে তার নেতা-কর্মীদের কোনোভাবে একটু উজ্জীবিত রাখা কিংবা একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।’

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ-পরবর্তী আপিল প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সেকশন ২১-এর ৩ পরিষ্কার করে বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকায় তিনি প্রথমত জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয়, তা হবে।

জমির উদ্দিনের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ এএম
জমির উদ্দিনের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্ট আধাবেলা বন্ধ
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে রবিবার (১২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের 'কোর্টসমূহের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ থাকবে'। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী এবং সুপ্রীম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ ১২ জুলাই রবিবার ভোর ৪:১৯ ঘটিকায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।'

তার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতি নিজের, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের এবং রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, 'তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আজ (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগের কোর্টসমূহের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ থাকবে। একই সাথে আজ চেম্বার কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।'

মাহমুদুল আলম/এএফ

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে
চলার অনুরোধ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: খবরের কাগজ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে সব গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

তথ্য বিবরণীতে দেশের সব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধীর কোনো ধরনের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যাপারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার কোনো প্রকার ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য সরাসরি কিংবা ধারণকৃত অবস্থায় কোনো গণমাধ্যমে (টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক মাধ্যম) প্রচার বা প্রকাশ না করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকরা প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে তথ্য বিবরণীতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো সাহেদুল ইসলাম (৩৭) ও রিশাদ তায়ানী (২৫) নামে দুইজনের কাছে থেকে তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তিনদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

ফৌজদারি কার্যবিধি-র ৫৪ ধারায় বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডাইরি মূলে (জিডি) গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

দেশের কোনো জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে তারা জড়িত কিনা সে সম্পর্কে তথ্য জানতে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম। 

আবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে। এরপর বিমানে করে সিঙ্গাপুর পুলিশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মারফত সংবাদ পেয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশনে ডিউটি অফিসারের কক্ষে উপস্থিত হয়ে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ও ৩টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। আসামিদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। আসামিরা যে-কোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করার সম্ভাবনা বিদ্যমান। আসামিরা বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর গিয়ে ধর্তব্য অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়।

আসামিরা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা, কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন কিনা এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের জোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে কিনা এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিনা তা জানার জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আদালতে শুনানিতে তাদের পক্ষে কোনো আবেদন ছিলো না। আদালতে তাদের কোনো স্বজনকেও দেখা যায়নি। 

জলিল উজ্জ্বল/নাঈম