বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের পিস্তল ছিনতাই ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এ আদেশ দেন।
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ চলাকালে ঘটা ওই ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় সোমবার (২৭ নভেম্বর) আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন শামসুজ্জামান দুদুকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই দুদুকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। আর স্বপনকে কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে হাজির করা হয়। আসামিদের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আদালতে পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বেলা ৩টা ১০ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের উসকানি ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পল্টন থানাধীন পুলিশ ক্যানটিনে ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ইটপাটকেল মেরে জাদুঘরের গ্লাস ভেঙে ক্ষতি সাধন করেন। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। চানমারী পুলিশ লাইনসের ডিউটি পোস্টে অগ্নিসংযোগসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তির রক্ষার্থে তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে তিন দিক থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন এবং এএসআই এরশাদুল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার পিস্তল ও আট রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় গত ১ নভেম্বর খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পল্টন থানায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এমএ/