জিন আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহতায়ালা জিনদের অস্তিত্বের বিষয়টি কোরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ (সা.)-কে মানব ও জিনজাতির রাসুল হিসেবে পাঠানো হয়েছে। ইসলামের যাবতীয় বিধান মানুষের পাশাপাশি তাদের জন্যও দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বলুন, আমার কাছে ওহি এসেছে, নিশ্চয় জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে কোরআন শ্রবণ করেছে। অতঃপর তারা বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কোরআন শুনেছি।’ (সুরা জিন, আয়াত: ১)
অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানবজাতির কিছু লোক জিনজাতির কিছু লোকের কাছে আশ্রয় চাইত। ফলে তারা জিনদের আত্মগরিমা আরও বাড়িয়ে দিত।’ (সুরা জিন, আয়াত: ৬)
উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইসলামপূর্ব মানুষের কথা জানিয়েছেন। যারা জিনদের কাছে আশ্রয় চাইত। জাহেলি যুগে সফরে কোথাও বিশ্রামের জন্য বিরতি নেওয়ার সময় মানুষ বলত, ‘আমি এই এলাকার জিনের বাদশাহর কাছে দুষ্ট জিন থেকে আশ্রয় চাইছি।’ (তাফসিরুল জালালাইন, পৃষ্ঠা: ৭৭১)
কোরআন ও হাদিসের বহু জায়গায় জিনদের অস্তিত্বের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। অতীত ও বর্তমানের অসংখ্য মানুষ নানাভাবে জিনের অস্তিত্ব টের পেয়েছে। অনেকে অবশ্য বুঝে উঠতে পারেনি যে, সেগুলো জিন ছিল। কেউ তাদের ভেবেছে আত্মা, কেউ অদৃশ্য মানব, কেউ ভিনগ্রহের প্রাণী; কেউ আবার এরকম কোনো কিছু। জিনদের অস্তিত্বের চাক্ষুষ একটি প্রমাণ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ চোখে তাদের দেখেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের কোরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছেন। এ ছাড়া তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে খাবার চেয়েছে। মুমিন জিনেরা তাদের খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেসব পশু আল্লাহর নামে জবাই করা হবে, সেগুলোর হাড় তোমাদের খাবার। তোমাদের হাতে পড়ামাত্রই তা মাংস দিয়ে আবৃত হয়ে যাবে। আর গোবর তোমাদের পশুদের খাবার।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪৫০)
এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) শৌচকর্মে হাড় ও গোবর ব্যবহার করতে নিষেধ করে বলেছেন, ‘তোমরা মলমূত্র ত্যাগের পর পবিত্রতা অর্জনের কাজে হাড় ও গোবর ব্যবহার করো না, এগুলো তোমাদের ভাই জিনদের খাবার।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪৫০)
আরোহণের জন্য জিনদের বাহন রয়েছে। যাতায়াতের জন্য পশুও ব্যবহার করে তারা। জিনদের জগৎ আসলেই বিশাল। মানুষ হয়তো সেটা কল্পনাও করতে পারবে না। বস্তুগত উপায়ে তাদের সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতে পারি না। সেই অজানাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে তাদের অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ কোনো বিষয়ে কারও অজ্ঞতা, সেই বিষয়ের অনস্তিত্বের প্রমাণ হতে পারে না।
বর্তমান যুগে এর সহজতম উদাহরণ মহাশূন্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগেও মহাকাশ সম্পর্কে বলতে গেলে আমরা কিছুই জানি না। আবার মহাশূন্যে ভাসমান বায়ুতে আছে অসংখ্য তরঙ্গ। যা আমরা খালি চোখে দেখত পাই না। সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা দাবি করছে, ‘মানবেতিহাসের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের মুখ থেকে যত ধ্বনি বেরিয়েছে, সেগুলো আজও বায়ুতরঙ্গে বিদ্যমান’। অথচ আমরা তার কিঞ্চিৎ পরিমাণও দেখতে পাই না। এমন অসংখ্য জগৎ ও বিষয়বস্তু রয়েছে, যেসবের রহস্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক