আল্লাহতায়ালা মানুষকে দুঃখ-কষ্ট, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা দেন ঈমান-আমলের পরীক্ষার জন্য। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারেন, তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। আল্লাহ তাদের প্রতি খুশি হন। তাই দুঃখ-কষ্ট এলে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। নামাজ পড়তে হবে।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। আর আল্লাহর পথে নিহতদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা বুঝ না। তোমাদের ভয় ও ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনোকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান করো। নিশ্চয়ই যারা বিপদকালে বলে থাকে, আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এদের প্রতি রয়েছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও করুণা। আর এরাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩-১৫৭)
উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা বিপদ বা দুঃখ-কষ্টে মানুষের করণীয় কী, সে সম্পর্কে বলেছেন। করণীয় হলো, বিপদ এলে ধৈর্য ধরতে হবে। নামাজ আদায় করতে হবে। বলতে হবে, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন’ বা আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এই তিনটি কাজ করতে পারলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আছে পুরস্কার। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকবেন। তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও করুণা দান করবেন। এবং তাদের দেবেন হেদায়াত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও সংকট এসেছে। যুদ্ধে জড়াতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো ভেঙে পড়তেন না। দুঃখ পেতেন না। তিনি ধৈর্য ধরতেন। নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি যেকোনো সংকটে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি মাঝেমধ্যে বেলাল (রা.)-কে বলতেন, ‘হে বেলাল, আজান দিয়ে আমাদের শান্তি দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৮৫)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোঁটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)
লেখক: ইমাম ও খতিব, আজগর আলী প্রধান জামে মসজিদ, ঢাকা
, , , ,