ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে মেসিদের সুইস দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ কাজে লাগছে না কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী পুলিশকে বারবার টার্গেট, অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা! সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান চলছে সাইবার মব! গোল্ডেন বুটের লড়াই: মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড? ১১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন শেখ হাসিনা দুই শিকারির লড়াই বিশ্বকাপ এখন এমবাপ্পের খেলাঘর ১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি তবু সবার সেরা ইয়াসিন বুনু মেসির বিকল্প হওয়া অসম্ভব: নিকো পাজ ‘সতীর্থদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি রোনালদো’ সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, খেলা কবে? শেষ মুহূর্তে মেরিনো ম্যাজিক, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন নীরবতা ভেঙে আবেগঘন বার্তা ভিনিসিয়ুসের রুইজ-কেটেলারের গোলে প্রথমার্ধ শেষে সমতায় স্পেন-বেলজিয়াম পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুস

পোশাক কারখানায় গুজব আতঙ্কে হুড়োহুড়ি, আহত ১৬

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৩ পিএম
পোশাক কারখানায় গুজব আতঙ্কে হুড়োহুড়ি, আহত ১৬
ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে হঠাৎ গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওয়াশরুম থেকে বের হওয়া শ্রমিককে ভূতে ধরেছে বা জিনে ধরেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে কারখানাজুড়ে। এ ঘটনায় ১৬ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফলে মালিক পক্ষ দ্রুত কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে এবং হুজুর ডেকে কারখানায় ঝাড়ফুঁক করে। 

কারখানার শ্রমিক রহিমা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ওয়াশরুমের দরজায় একজন শ্রমিক মাথা ঘুরে পড়ে গেলে তাকে দেখে আরও ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক পড়ে যান। এতে শ্রমিকদের জিনে ধরেছে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সবাই দ্রুত নিচে নামতে থাকেন। আমি দৌড়ে নিচে নেমে আসি। 

এ ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে শ্রমিকরা পুনরায় নিচ থেকে ওপরে গিয়ে তাদের স্ব-স্ব জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান। 

তবে মালিক পক্ষের দাবি, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সরকারি বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আজও বন্ধ নিয়ে শ্রমিকরা ছুটির পরিধিটা বাড়িয়ে নিল। এতে কারখানার ক্ষতি হয়েছে ৭ লাখ টাকার মতো। 

ডিজিএম সুমন চক্রবর্তী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটি শ্রমিকদের চক্রান্ত কি না, আমাদের তা সন্দেহ হচ্ছে। এটি তদন্ত করে দেখা হবে।’

পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
উখিয়ায় জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর/ ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড়ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছে ১৯ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।  মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল বৈরী প্রকৃতিই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড এ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

পেকুয়ার শিলখালী, টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপর।

অনুসন্ধানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে এস্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না। বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যাতে ঘটছে হতাহতের ঘটনা। 

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে, যার বেশির ভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল কারিগর। ওইসব এলাকা লবণাক্ত ও বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ–এই পাহাড়খেকো বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং স্থানীয় মাঝি (দালাল) সিন্ডিকেট। মাসোহারা বা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা পাহাড় কাটায় পরোক্ষ সহযোগিতা দেন এবং আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচানোর নিশ্চয়তা দেন। তবে কোনো কর্মকর্তা বদলি হওয়ার সময় হলে বা ওপরের মহলের চাপ থাকলে তড়িঘড়ি করে কিছু মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে পাহাড়ের অস্তিত্ব আর থাকে না। সচেতন মহলের দাবি, গত দুই বছর আগে থেকে যদি কঠোর আইন প্রয়োগ করা হতো, তবে আজকে এই মৃত্যুর মিছিল দেখতে হতো না।

অনুসন্ধানে পাহাড়ধসের একটি প্রধান কারিগরি কারণ উঠে এসেছে। পাহাড়ি এলাকায় যারা বাড়ি তৈরি করছে, তারা শুধু নিজেদের সীমানার ভেতরের পাহাড়ের অংশটুকু কেটে সমতল করছে। এর ফলে ঠিক তার পাশেই থাকা অন্যজনের জমির পাহাড়ের অংশটি খাড়া দেয়ালের মতো উঁচুতে ঝুলে থাকছে। প্রাকৃতিকভাবে ঢালু পাহাড়কে এভাবে সোজা (৯০ ডিগ্রি) খাড়া করে কেটে ফেলায় ওপরের অংশটির পুরো ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যখনই ভারী বর্ষণ হয়, তখন ওপরের ওই খাড়া ও অরক্ষিত অংশটির মাটি নরম হয়ে হুড়মুড় করে নিচের তৈরি করা ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। মানুষের এই অবিবেচক ও আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের কারণেই পাহাড়ধসের ঘটনাগুলো ঘটছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। 

পাহাড় কাটা রোধে প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান চললেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। তবে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে পাহাড় কাটা ও গর্জন গাছ পাচারের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি পাহাড় কাটা রোধে রাতের বেলা দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আমাদের বন কর্মীদের ওপর স্থানীয় সিন্ডিকেটের হামলা ও আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় যারাই অন্যায় করবে, তাদের কাউকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 

লোকদেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমায় স্বস্তি, রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: টানা পাঁচ দিনের রেকর্ড বর্ষণ ও জোয়ারের পানির দাপট কাটিয়ে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম নগরীতে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসায় মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে পাঁচ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নগরজীবন। তবে মহানগরের সড়কগুলো থেকে পানি নামলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়ে গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদের মতো বাণিজ্যিক এবং নিচু এলাকার মূল সড়কগুলো থেকে পানি অনেকটাই নেমে গেছে। কয়েকদিন ধরে এসব এলাকার যেসব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে ছিল, পানি কমায় শুক্রবার সেগুলোতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। সড়কে পানি কমে আসায় গণপরিবহন ও রিকশা চলাচলও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ দিনে চট্টগ্রামে ১০২০ মিলিমিটারের বেশি ঐতিহাসিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির বেগ ও স্থায়িত্ব কমে এসেছে। যদিও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কষ্ট কমলেও নগরীর পাহাড়গুলোতে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি সম্পূর্ণ নরম হয়ে যাওয়ায় লালখান বাজার, মতিঝরনা, আকবরশাহ, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী এলাকার পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগরে পাহাড় ও দেয়াল ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জোরদার মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। নগরীর আকবরশাহ ও খুলশী এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বেশ কিছু পরিবারকে জোরপূর্বক চসিকের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের দখল ছেড়ে অন্যত্র যেতে রাজি নয় বসতিরা। তাই পাহাড় থেকে মানুষকে সরাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম মিঞা বলেন,  মহানগরে পাহাড়ধসে আর যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আগামী রবিবার থেকে আরও স্বাভাবিক হবে আবহাওয়া। তবে বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। কারণ পাহাড়ের মাটি নরম। 

১০০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

টানা বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ও বাঁশখালীর ১০০টি পরিবারকে আগাম আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়। 

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘নো রিগ্রেট পলিসি’ অনুসারে আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ৯ জুলাই বাঁশখালী উপজেলার পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০টি পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা
প্রতীকী ছবি।

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মো. ওয়াহিদ শেখ ওই শিশু পরিবার এলাকার একটি বাজারে দর্জির দোকানের মালিক। তিনি সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াত করার সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এর ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে শারীরিক জটিলতার শিকার হয়। গত ৬ জুলাই শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর জানা যায় সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

এদিকে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গত ৮ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার ও আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধিনে নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফাজতের আবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মামলার একদিন পরেই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি
ছবির ক্যাপশন:পানাম নগরীর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঐতিহাসিক পানাম নগরীর প্রবেশদ্বারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতুটি পুরনো আদলে পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পানাম নগরীতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সোনারগাঁয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি।

মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক সোনারগাঁ পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক আরিফুর রহমান, কমিটির সদস্যসচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, সোনারগাঁ সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কবি মোয়াজ্জেনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাখখার সাগর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সোনারগাঁ শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন, সুমন আল হাসান এবং প্রকৌশলী বাবুল মোল্লাসহ আরও স্থানীয় ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, পানাম নগরীর প্রবেশপথে এক সময় একটি ছোট কিন্তু ঐতিহাসিক প্রাচীন সেতু ছিল। সেতুটি পানাম নগরীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০১ সালের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সেতুটি ভেঙে ফেলে। ফলে হারিয়ে যায় এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন।

তারা আরও বলেন, পানাম নগরী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেতুটি আগের নকশা ও আদলে দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ
বান্দরবানের সদর উপজেলায় বন্যা নিমজ্জিত এলাকা। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। ঘরে বন্দি অসহায় বৃদ্ধের মরদেহ ভেসে উঠেছে বানের পানিতে। নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে কিশোরীর। পানির তোড়ে সড়ক ভেঙেছে। ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের খেত। পানিবন্দি লোকালয়ে এখন হাহাকার–‘একটু চাল পাওয়া যাবে? শিশুরা কাঁদছে।’

বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বাঁধ ভেঙে প্লাবিত গ্রাম, পানিবন্দি লাখো মানুষ

মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সড়কের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। পানির স্রোতে ধানখেত ও শাকসবজির ক্ষতি হচ্ছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকা ও মনু নদীর উজিরপুর এলাকা দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব স্থানে ঝুকিপূর্ণ বাঁধ আছে, তা মেরামতের চেষ্টা চলছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শিশু-বৃদ্ধসহ গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পানিবন্দি পরিবারগুলো। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। 

ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম এলাকায় বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নামছে। এর প্রভাবে তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর ও কুশিয়ারা, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রক্তি, সদর উপজেলার চলতি নদে পানি বেড়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা, দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি উঠেছে। এসব পয়েন্টে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১ হাজার ২০১ জন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও ইরা, ব্র্যাক ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম, শুকনো খাবার, ওষুধও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পানির চাপ বাড়লে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীর তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানান ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।’

শেরপুরে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায়ও। মহারশি নদীর পানি বেড়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শ্রীবরদী উপজেলার রানী শিমুল, গোবিন্দপুর, চক্রপুর ও বড়ইকুচি এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নাকুগাঁও পয়েন্টে ভোগাই নদী এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টের নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। 

১০৯ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে যশোর পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যশোর পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। অবিরাম বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। 

খাদ্যসংকট 

টানা আট দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২০ হাজার মানুষ। মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এসব এলাকায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছে।
ঝালকাঠি জেলার নিম্নাঞ্চলে কৃষি শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। মাঠে পানি জমে থাকায় দিনমজুররা কাজে যেতে পারছেন না। 

ঝালকাঠি সদরের বিষখালী নদীতীরবর্তী চর ভাটারকান্দা এলাকায় নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কিছু স্থানে ব্লক দিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হলেও নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

অসহায় বৃদ্ধের মৃত্যু

এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামে মনু নদের বাঁধ ভেঙে যায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। কিন্তু বৃদ্ধ আশরাফ মিয়া কোথাও যেতে পারেননি। বন্যার পানি বাড়তে থাকে রাতে। পরে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে দেখেন ঘরের ভেতরে পানিতে ভাসছে আশরাফ মিয়ার মরদেহ। টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বন্যার পানিতে ডুবে ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সকালে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝর্ণা (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ আশিক (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
 
যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে 

অতি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে নুরজাহান চা-বাগানের গোয়ালবাড়ী নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নৌ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত। বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারও মানুষ।

বন্যা পরিস্থিতির সুখবর নেই

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ধীরগতিতে হ্রাস পেতে পারে, যাতে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটাতে পারে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীসংলগ্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীরগতিতে হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ ছাড়া ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
ধুনটের শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় বালির বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধের চেষ্টা / খবরের কাগজ

যমুনা নদীর ভাঙনে বগুড়ায় ধুনট উপজেলায় হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। জুলাই মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এ ভাঙনে ইতোমধ্যেই শহরাবাড়ি নৌ-ঘাট এলাকার প্রায় ৮০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসই) আরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে বালুভর্তি ২৫ হাজার বস্তা ও ১০ হাজার জিও টিউব নদীতে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে যে জরিপ হয়েছে, তাতে দেখা যায় শহরাবাড়ি এলাকায় নদীর গভীরতা ৪০ মিটার থেকে ৪২ মিটার। গভীরতার ভিত্তিতে বস্তা ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে তীর ভাঙন কিছুটা কমেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা জানান, গত বছর বন্যার সময় নদী ভাঙনে শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় একটি বাজারের প্রায় অর্ধেকই নদীতে বিলীন হয়েছে। যমুনা নদী এখন ভাঙছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধের কাছে ২শ থেকে ৩শ মিটারের মধ্যে। এ বাঁধটি ভেঙে গেলে ভাটিতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নদীভাঙনে বসতবাড়ি ছেড়েছেন যারা তাদের একজন সারিয়াকান্দি উপজেলার আওলাকান্দি গ্রামের মো. নূরু শেখ। তিনি দাবি করেন আওলাকান্দিতে যখন তার বাড়ি ছিল তখন যমুনা নদীর প্রবাহ ছিল বাড়ি থেকে আরও পূর্ব দিকে। নূরু শেখ বলেন, বাড়ি ভেঙে এখন নিয়ে এসেছি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ধনুট উপজেলার বানিয়াযান এলাকায়। বহু বছর আগে যে নদীভাঙন শুরু হয়েছে, তা এখনো বন্ধ হয়নি। ফলে যমুনার ডান তীরে হাজার হাজার পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম সহকারী মনজুর রহমান বলেন, আমার কর্ম এলাকাতেই গত কয়েক দিনে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। কিন্তু তাতেও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শহরাবাড়ি নৌঘাট এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। 

শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানঘর হুমকির মুখে পড়েছে। গত বছর বন্যায় নদীতে যাওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। নদীতে ফেলার অপেক্ষায় বেশ কয়েক হাজার জিও ব্যাগ তীরে প্রস্তুত রাখা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে। তাদের অভিজ্ঞতা- যখন নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে তখন তীরে ভাঙন শুরু হয়। আবার যখন পানি কমতে শুরু করে তখনো ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৮ বছর আগে যমুনা নদীর ডান তীর রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আর ভাঙন থাকবে না। ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন প্রয়োজন ২ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে নেওয়া ওই প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করতে না পারায় সারিয়াকান্দি ও ধুনটে গত ৯ বছরে নদীতে গেছে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমি। সারিয়াকান্দিতে একটি গ্রাম হঠাৎ করে নদীতে বিলীন হলে অন্তত ২৫০টি পরিবার সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।