ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ফ্লোরিডার বিমানবন্দরের নাম হলো ‘ট্রাম্প’ আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লবের পরিবেশ পদকে সম্মানিত ৬ প্রকৃতি সংরক্ষক দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের প্রশ্ন করতে দিন প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি রাজপাল যাদবের তিন মাসের কারাদণ্ড তহবিল সংকটে ১০ লাখ নারী জরুরি সেবাবঞ্চিত: জাতিসংঘ চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন ফিলিপাইনে ভূমিধসে ৫ জন নিহত বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিতে থাকা ১০০ পরিবার পেল সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইপসার সহায়তা চকরিয়ায় নৌকাডুবির পর নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ নরওয়ে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়? এ মাসেই ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট

কবি বেলাল চৌধুরী: নির্বাসিতের আত্মদণ্ড

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৯ পিএম
কবি বেলাল চৌধুরী: নির্বাসিতের আত্মদণ্ড
ড. খোরশেদ আলম

বেলাল চৌধুরীর কবিতায় রাজনীতি প্রকট নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা, দেশভাগ আসে প্রতীকীভাবে। ‘যে ধ্বনি চৈত্র শিমুলে/ রক্তের মতো ফুটে ওঠে প্রান্তরের ধুলোয়/ সে ধ্বনির ভাষা আমি বুঝি না/ তবু কান পেতে শুনি।’ চৈত্র, শিমুল, রক্ত, প্রান্তর, ধুলো শব্দগুচ্ছ বাংলার ভূমি, ঋতু, সময় ও ইতিহাস। ইতিহাস এখানে রহস্যময়তার অন্তরালবর্তী। জীবনানন্দের মতো তা ‘কবিতার অস্থির ভিতরে’ ‘ইতিহাস চেতনা’, যার ‘মর্মে’ ‘পরিচ্ছন্ন কালজ্ঞান।’ তার অনেক কবিতা অস্তিত্ব, কাল ও নৈঃসঙ্গের অপ্রতিম চিহ্ন

সাত বছর আগে (২৪ এপ্রিল ২০১৮) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেলাল চৌধুরী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আজীবন স্বপ্ন ফেরি করা মানুষটির জোটেনি স্থায়ী আবাস, এমনকি হয়নি স্থায়ী জীবিকার উপায়। সুদর্শন বলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাকে ডাকতেন ‘যুবরাজ’। সিনেমার নায়কের মতো এক জীবন যাপন করেছেন তিনি। শৈশব-কৈশোরের ফেলে যাওয়া অতীত তাকে টানত। ছোটবেলায় রেলগাড়ির ড্রাইভারকে ভাবতেন অসাধারণ স্বপ্নময় মানুষ। ঠিক একদিন সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারে চেপে কলকাতা চলে গিয়েছিলেন। কুমির চাষ, পেরেকের ব্যবসা, পুস্তক বাণিজ্য- বিচিত্র পেশা ধরেছেন ও ছেড়েছেন। স্বাপ্নিক, সাহসী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের মতো সব ঘটনা। তবে ওসব কিছুতেই ফেল করে তিনি হয়ে উঠলেন কবি, কথাকার, সাহিত্য সংগঠক। বোহেমিয়ান জীবনযাপনের কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের চেয়েও তিনি যেন একধাপ অগ্রসর।

বেলাল চৌধুরী ছিলেন ‘পদাবলী’ কবিতা সংগঠনের প্রাণপুরুষ। কলকাতায় ‘কৃত্তিবাস’, বাংলাদেশে ‘পদাবলী’- উভয়ের লক্ষ্য অগ্রবর্তী চৈতন্য নির্মাণ। ‘পদাবলী’ জনভিত্তিক, আধ্যাত্মিক, ঐতিহ্যনিষ্ঠ, আধুনিকতার সংমিশ্রণ- যার প্রভাব পড়েছে তার রূপক, উপমা, প্রকৃতি ও ভাবরুচিতে। এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য না হলেও তার কাব্যচিন্তা, ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীল নেতৃত্ব উত্তরকালেও স্পষ্ট। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, শক্তির প্রভাব আত্মস্থ করে এক নতুন শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তরুণ কবিদের পথনির্দেশে তার উৎসাহ ও ঔদার্যের মধ্যে ছিল সেই ছায়া। বিশেষত নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম তার ভাষার স্বাচ্ছন্দ্য, চিন্তা ও আলোকধারায় আবেশিত। 

ব্যতিক্রমী এই মানুষটির গ্রন্থপাঠ কিংবদন্তিতুল্য। বিশ্বসাহিত্যের সর্বভুক পাঠক হিসেবে শুধু নয়, তিনি হয়ে উঠেছিলেন মুক্তচিন্তক, অসাম্প্রদায়িক, অমায়িক, বন্ধুপ্রিয় ও তারুণ্যঘেঁষা। নিঃস্বার্থ ও পরোপকারী বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি ছিলেন দুই বাংলার লেখকদের সংযোগ সেতু। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- ‘নিষাদ প্রদেশে’, ‘আত্মপ্রতিকৃতি’, ‘স্থিরজীবন ও নিসর্গ’, ‘স্বপ্নবন্দী’, ‘সেলাই করা ছায়া’, ‘কবিতার কমলবনে’, ‘যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে’ ও ‘বত্রিশ নম্বর’।

বেলাল চৌধুরীর কবিতায় প্রকৃতি প্রেম, সহচর ও দর্শনের প্রতীক। তার স্মৃতি-নস্টালজিক কবিতার উপকরণ যেন প্রকৃতির স্নিগ্ধস্বর। গন্ধমাখা ‘নীল জামা’ তার বাল্যস্মৃতির প্রতীক। ‘আত্মপ্রতিকৃতি’তে চিহ্নিত সরল সৌন্দর্য- ‘সারাদিন আমি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে ঘুরে/ কী দেখেছিলাম? ভাট ফুল, আকন্দের ঝোপঝাপ/ মাছরাঙাদের অকারণ খিটিমিটি?/ গ্রামীণ ছবিতে আজ আর নেই সেই কিংবদন্তীখ্যাত/ মসলিন, নকশিকাঁথার দিন!/ রোগা দুঃখী নদী,/ কুলুকুলু শব্দ বা গরুর খুরে ধুলো ওড়া কাব্যিক গোধূলি।’ গ্রামীণ রূপক-প্রতীকের আড়ালে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে অন্তর্জগতের ভাষ্য। ‘সেই সুখ’ কবিতায়ও মেলে সমপ্রতিধ্বনি। আসলে জীবন মানে অপূর্ব হৃদস্পন্দন। পাখিদের এ ডালে ও ডালে ঘোরাঘুরি আনন্দময় স্বভাব-প্রতীক। ‘তুমি সেই বৃক্ষ’ কবিতায় ‘বিটপী’, ‘শাল’, ‘সেগুন’, ‘ঝাউ’-  প্রকৃতির রহস্যঘেরা- অটল হয়েও তা নমনীয় কোমল। বৃক্ষখুনি সেখানে কুঠার ফেলে রচনা করে ভালোবাসার গান। জীবনের জটিলতা-বিভ্রান্তি-বিশৃঙ্খলার বিপরীতে তিনি হতে চেয়েছেন দৃঢ়-পরিশীলিত-নান্দনিক। কঠোরতা ও কোমলতার ভারসাম্যে রয়েছে মুক্তির দর্শন। মানুষ এমন বদলে যাবে- সহিংসতাও যেখানে স্থবির হয়ে যায়। 

‘স্বদেশ’ কবিতায় প্রেমিকার ‘আঁচল ছোঁয়া নীলাম্বরী মেঘে’ জীবনের গভীর প্রশান্তি। এই জীবন বেলাশেষের রোদের মতো আত্মনিবেদিত। আবেশপূর্ণ জীবনের জলছবিতে প্রভাসিত চিরায়ত গ্রামবাংলা- ‘তোমার যেমন ইচ্ছে, আছি আমি-/ ঝিরিঝিরি পাতার ভেতর ভেতর হাওয়ার নাচে/ রাত্রিদিন তোমার ধানের ক্ষেতে/ উদাসী বাউল; ভাটিয়ালি গান ভেসে/ যায় কোন নিরুদ্দেশে; আছি আমি/ বেলা শেষের রোদের মতো/ গড়িয়ে তোমার পায়ে পায়ে’...। প্রকৃতি ও প্রেমিকার শরীর ও মানস যেন একাকার। প্রেম পরম, কখনো চরম ব্যথার; কখনো তা স্মৃতিছায়াচ্ছন্ন, নিরেট নিঃসঙ্গ। ‘সন্ধ্যার মত নিঃসঙ্গ’ ধ্রুপদী উপমা হয়ে ওঠে, যেখানে লীন হয়েছে সময় ও আবেগ, কিন্তু উবে গেছে প্রেম- ‘এখন আমি সন্ধ্যার মত নিঃসঙ্গ/ কেউ ফিরে আসে না ঘরে, যেমন ফিরে আসে না ছায়া/ নির্দিষ্ট কাঠামো থেকে…।’ 

বেলাল চৌধুরীর কবিতায় রাজনীতি প্রকট নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা, দেশভাগ আসে প্রতীকীভাবে। ‘যে ধ্বনি চৈত্র শিমুলে/ রক্তের মতো ফুটে ওঠে প্রান্তরের ধুলোয়/ সে ধ্বনির ভাষা আমি বুঝি না/ তবু কান পেতে শুনি।’ চৈত্র, শিমুল, রক্ত, প্রান্তর, ধুলো শব্দগুচ্ছ বাংলার ভূমি, ঋতু, সময় ও ইতিহাস। ইতিহাস এখানে রহস্যময়তার অন্তরালবর্তী। জীবনানন্দের মতো তা ‘কবিতার অস্থির ভিতরে’ ‘ইতিহাস চেতনা’, যার ‘মর্মে’ ‘পরিচ্ছন্ন কালজ্ঞান।’ তার অনেক কবিতা অস্তিত্ব, কাল ও নৈঃসঙ্গের অপ্রতিম চিহ্ন। পৌরাণিক দেবতা বা বীরযোদ্ধা হয়ে ওঠে তার অনুভব- ‘আমার গোপন পাপগুলি এতদিন পর/ বিরূপ-বৈরিতায় শস্ত্রপাণি হয়ে উঠেছে’। অন্যদিকে ‘কুলাঙ্গার’ কবিতায় মেকি গণতন্ত্রের উল্লাসী কুরাজনীতিকে তিনি অভিশপ্ত বলতে নির্দ্বিধ।

শিল্পীর আত্মজিজ্ঞাসা, সামাজিক দ্বিধা কবিতায় তৈরি করে একধরনের আত্মজৈবনিক নাট্যরূপ। ফলে গালমন্দও হয়ে ওঠে শৈল্পিক। তার কণ্ঠে মানিয়ে যায়- ‘শালা শুয়ারের বাচ্চা’। ‘খর্বকায় বামনের গান’ কবিতায় আত্মগর্বিত মিথ্যাকে তিনি আক্রমণ করেন- ‘ওরে ও, বুড়ো হাবড়া’, ‘বরকনদাজি গুল গল্প’, ‘বার ফট্টাই’ ইত্যাদি বলে। আবার চরম একাকিত্বে অনিকেত-উদ্বাহু হয়ে আত্মপ্রতারক আধুনিকতাকে তিনি পরিহাস করেন, যার পূর্বপুরুষ হয়তো বাংলাদেশের অখ্যাত গ্রামগঞ্জের কৃষিজীবী। এজন্য বলেছেন- ‘অধুনা আত্মপ্রতারণায় নগরনিবাসী আমি…’

বেলাল চৌধুরী জীবদ্দশায় যা পেয়েছেন, তা একজীবনে অতুল্য। দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি, পুরস্কার, সম্মাননা, সর্বোপরি তিনি জনপ্রেমে সিক্ত হয়েছেন। ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে কবি বেলাল চৌধুরী ছিলেন সার্বভৌম মানব। তার অনুপম হাতে অনূদিত হয়েছে বোর্হেস, নেরুদা, ডিলান টমাস, অক্তাভিও পাস প্রমুখ। তিনি ছিলেন জীবনের পাঠশালায় স্বশিক্ষিত মানুষ। দিলদরিয়া, বন্ধুপ্রতিম, অন্তরঙ্গ সুহৃদ মানুষটির প্রয়াণের বেহাগ সুর বেজে উঠেছিল তার নিজেরই কবিতায়-
‘নির্বাসনে মৃত্যুদণ্ড- ঠাণ্ডা চোখে দেখছি আমি
নীল কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে আমার দেহ।’

কবিতা ভেজা বাতাস

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ভেজা বাতাস

শহর থেকে অনেক দূরে থাকে সে 
যেখানে চোখের পাশে বর্ষার জল 
হারানো দিনের গান, নীপবনে কাক 
ভেজা বাতাস লাগে বুকে, রুখে কে?
তার কথায় অসময়ে পাগল হই শুধু 
বারান্দার ওপাশে গভীর জগৎ
থেকে থেকে বৃষ্টি থামে, কথার জোয়ারে 
ছন্দপতন হয় না। আসে সুরের পাখি। 
দুজনার সুবাসে হারাই দুজন 
নদীতে প্রবল ঢেউ, আশপাশে নেই কেউ 
দীর্ঘ হয় রাত, কীসের  জাতপাত?
হৃদয়ে বর্ষা নামুক, খুলে যাক দ্বার...।

কবিতা কালো মেঘ শাদা মেঘ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
কালো মেঘ শাদা মেঘ

আমার সমস্ত আকাশজুড়ে
ঘন ঘন কালো মেঘ
শাদা মেঘ কবে ছিল মনে নেই! 
ষোড়শ বছরে ঢের হারালাম। 

বিষাদে বিষাদ যোগ হয়ে 
শাদা মেঘগুলি 
কালো বর্ণ ধারণ করে
সমগ্র আকাশে বরষা
এখন, আমার মেঘগুলির নেই ভরসা
কেবল নির্বুদ্ধিতায় ভেসে বেড়ায়
কেউ করে না যতন।

কবিতা শ্রাবণের চিঠি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
শ্রাবণের চিঠি

আকাশজুড়ে মেঘের ভেলা, কাজল কালো ছায়া 
কদম ফুলের গন্ধে মাতাল অদ্ভুত কিছু মায়া।
জানলা ভেজা জলের ফোঁটায় তোমার ছবি আঁকি 
বুকের ভেতর ভালোবাসার নাম না জানা পাখি! 
অঝোর ধারায় নামলো বৃষ্টি রিমঝিমিয়ে সুরে,
স্মৃতির খেয়া ভাসলো আবার অনেক অনেক দূরে।
জানলা ঘেঁষে একলা আমি, হাত বাড়িয়ে দিই 
বৃষ্টির প্রতি ফোঁটায় যেন তোমার ছোঁয়া নিই।
সবুজ পাতা ভিজছে দেখ, ভিজছে মাটির বুক 
মেঘের ডাকে লুকিয়ে আছে একলা থাকার সুখ।
শহরের বুকে এই যে নামলো স্নিগ্ধ শ্রাবণ ধারা 
তোমার কথা মনে হলে হই যে দিশেহারা ! 

কবিতা জলছবি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
জলছবি

আকাশের গায়ে মেঘেদের আনাগোনা,
তা দেখে শহর দুচোখে স্বপ্ন সাজায়।
এই বুঝি ফের বৃষ্টির ফোঁটা ঝরবে,
দূরে আনমনে কে যেন বেহাগ বাজায়।

ধোঁয়া ওঠা কাপে রুগ্ন হাতের স্পন্দন,
মন পড়ে থাকে প্রবাসী ছেলের কাছে।
জানালার কাঁচে কাটাকুটি খেলে বৃষ্টি,
ডানা ভাঙা পাখি আশ্রয় খোঁজে গাছে।

ট্রাম ছুটে চলে রোজকার পথ ধরে,
ভিজে বাদামের ঠোঙাতে আটকে মন।
ঝড়ের দাপটে হলো না তো আজ দেখা,
ঝগড়া আদর ছুঁয়ে থাক টেলিফোন।

নোনা ধরা টবে হাসনুহেনার গাছ,
ভাঙা কার্নিশ ভরে ওঠে আগাছায়।
পুরোনো স্মৃতিকে কে আর আঁকড়ে বাঁচে,
ইলিশের প্রেমও জমে যায় বর্ষায়।

আমার শহরে আদুরে বৃষ্টি নামুক,
ধুয়ে যাক যত মন খারাপের দাগ।
ভালোবাসা হোক সে ধ্রুবতারার মতো,
থাক না যতই মান-অভিমান, রাগ।

কবিতা আদি বৃষ্টি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আদি বৃষ্টি

বেলকোনির বাইরে যে ঝুম বৃষ্টি
তা অবিকল বৃষ্টি নয়
কেবল টুপ টুপ শব্দের ভেতর
প্রকৃত বৃষ্টিরা যায় না

আদী বৃষ্টি–নিঃশব্দে ঝ’রে
শিরি ফরহাদের মতোন
সে রকম বৃষ্টি আমাকেও ছুঁয়ে যাক

যে বৃষ্টি পাহাড়ে যায়
মসজিদ, মন্দিরে যায়
আসলে তাদের নির্দিষ্ট পিতা নেই বলে

আমিও চাই, নন্দনে ভিজি, বৃষ্টিকুহুকে হাঁটি
সেরকম বৃষ্টি, আমার আসুক