যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা খাতে তহবিল কাটছাঁট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া এবং গাজার যুদ্ধ নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার সুযোগ বন্ধের চেষ্টা করছে। তবে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা সরকারের হুমকির বিরুদ্ধে লড়বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা রক্ষা করবে।
রোচেল সান নামে এক ছাত্রী বলেন, ‘আমি এখানে ভালো গবেষণা করতে এসেছি, কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থীরা না থাকলে সেটা সম্ভব নয়।’ তিনি একটি প্ল্যাকার্ডে লেখেন- ‘আমার এখন থিসিস লেখা উচিত, কিন্তু এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বারবার লড়াই করতে হচ্ছে।’
ন্যান্সি ক্রিগার নামে এক অধ্যাপক জানান, তার স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণার জন্য সরকার যে অনুদান দিত, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের গবেষণায় সাধারণত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টাকা দেয় না, তাই সরকারের অনুদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘যারা গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন বা ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন বা ভয় পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছেন।’
ফ্লোরিডার এক অধ্যাপক বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীরা ভীত। তারা জানে না কখন তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।’
ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫০ জন বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শ্রমমন্ত্রী রবার্ট রেইচ বলেন, ‘স্বৈরশাসকের সঙ্গে সমঝোতা করলে চলবে না।’ সূত্র: এপি, আল-জাজিরা