ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন পাট প্রতিমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ফটিকছড়িতে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের দাবিতে হরতাল চলছে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তিতাস নদীর তীর ভরাট করায় এনসিপি নেতাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক

হেমন্তে ফোটে রাজ-অশোক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:১৪ এএম
হেমন্তে ফোটে রাজ-অশোক
ছবি : লেখক

আমাদের দেশে যে কয়েক ধরনের অশোক দেখা যায়, তার মধ্যে স্বর্ণ-অশোক এবং রাজ-অশোক বেশ দুর্লভ। এই তিন অশোকের মধ্যে রাজ-অশোক সবচেয়ে বেশি দুর্লভ। ঢাকায় বলধা গার্ডেনের সাইকি ও সিবিলি অংশ মিলিয়ে ৪-৫টি গাছ আছে। সিবিলিতে একটি নতুন অশোকগাছ রোপণ করেছিলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণেও একটি গাছ রয়েছে। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাংলাদেশ সফরকালে রাজ-অশোকের এই চারাটি রোপণ করেন সেখানে। ইদানীং আরও কয়েকটি স্থানে লাগানো হয়েছি গাছটি। পোশাকি নাম আমর্হাস্টিয়া হলেও বাংলায় (রাজ-অশোক) নামকরণ করেন নিসর্গী ও বলধা গার্ডেনের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রয়াত শ্রী অমৃতলাল আচার্য। আমাদের দেশে এর বংশ বৃদ্ধি ততটা সহজসাধ্য নয়। ব্রিটিশ-ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়ামের (১৮২৩-১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে) স্ত্রী লেডি আর্মহার্স্টের নাম অনুসারে ফুলটির মূল নামকরণ করা হয়।

রাজ-অশোক (Amherstar nobilis) মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ। সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা, ডাল ও কাণ্ড অশোকের মতোই। গাছের উপরিভাগে কাণ্ড ও ডালপালা থেকে মঞ্জরিদণ্ড বের হয়। হাতখানেক লম্বা মঞ্জরিদণ্ডে বিপরীত সজ্জায় চার-পাঁচটি ফুল থাকে।

পুষ্পদণ্ডের গোড়ার ফুলটি প্রথমে ফোটে। তারপর ক্রমশ পরের কলিগুলো ফোটে। প্রস্ফুটনকাল হেমন্ত থেকে শীত অবধি। কদাচ গ্রীষ্মেও দেখা যায়। অন্য অশোক থেকে এই ফুল বড় এবং গাঢ়-লাল। বড় পাপড়িটির মাথার মাঝখানে সাদা ও লালে খুব সুন্দর করে চিত্রিত। কৃষ্ণচূড়ার একটি পাপড়িও অনেকটা এ রকম। রাজ-অশোকের ফুল না দেখে গাছ শনাক্ত করা মুশকিল। মূলত ফুল দেখেই তিন ধরনের অশোকগাছ আলাদা করে চেনা যায়।

সাধারণ অশোকের জন্মস্থান দক্ষিণ ভারত, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, আসাম, আরাকান ও মিয়ানমার। আরাকান, মিয়ানমার ও চট্টগ্রামের বৌদ্ধবিহারে এই গাছ যত্নের সঙ্গে চাষ করা হয়। তিন জাতের অশোক একই সঙ্গে থাকলে প্রস্ফুটন প্রাচুর্য দারুণ উপভোগ্য হবে। মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে রাজ-অশোকের পরিকল্পিত বীথি দেখা যায়।

প্রাণ-প্রকৃতি বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি
শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে কচুরিপানার ওপর বসা একটি পুরুষ হলুদ মোমলেজি সুচফড়িং। ছবি- লেখক।

২০২২ সালের ৬ নভেম্বরের ঘটনা। পরিযায়ী জলচর ও ঝোপঝাড়ের শাখাচারী পাখির সন্ধানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ‘বাইক্কা বিল জলাভূমি অভয়াশ্রম’-এ এসেছি। হাঁটতে হাঁটতে অভয়াশ্রমের অফিস পেরিয়ে হিজল-করচের বাগানে চলে এলাম। ওখান থেকে সামনের দিকে এগোলাম ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার জন্য। কিন্তু টাওয়ারের নিচ ও আশপাশে প্রচুর পানি থাকায় ওপরে উঠতে পারলাম না। কাজেই বাধ্য হয়ে পেছন ফিরে অভয়াশ্রমের অফিসের সামনে চলে এলাম। বিলে এখনো যথেষ্ট পানি। অতএব সিদ্ধান্ত নিলাম নৌকায় করে বিলময় ঘুরে ঘুরে পাখির ছবি তুলব।

অফিসের সামনে থেকে নৌকায় চড়ে টাওয়ারের দিকে এগোলাম। বিলে বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, সাপগলা, জলময়ূর, জলমুরগি, কালেম ও সরালি হাঁস দেখা যাচ্ছে। সরালির ডাকে পুরো বিল মুখরিত হলেও অন্যান্য প্রজাতির হাঁস চোখে পড়ল না। এমনকি এ দেশের আবাসিক বালিহাঁসেরও সন্ধান পেলাম না। আকাশে খানিক পরপর সরালি ও ছোট পানকৌড়ির ঝাঁক উড়ছে, মাঝেমধ্যে ছোট বা ধূপ বকের ঝাঁকও উড়ছে। কখনোবা জলময়ূরের ছোট ঝাঁক। মাঝেমধ্যে দু-একটি ভুবন ও শঙ্খচিলকেও উড়তে দেখা যাচ্ছে। মোট কথা, পরিচিত পাখি ছাড়া শীতের পরিযায়ী বা নতুন কোনো পাখির দেখা মিলল না।

তবে নতুন পাখির খোঁজ তেমন একটা না মিললেও বিলভর্তি উড়ন্ত রঙিন কীটপতঙ্গের কোনো কমতি ছিল না। সরু দেহের রঙিন পতঙ্গগুলো বিলজুড়ে উড়ে বেড়াচ্ছিল। আর মাঝে মাঝে ওরা বসছিল নানা প্রজাতির জলজ আগাছা, কচুরিপানা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম ও শালুক ফুল-পাতায়। কখনোবা বাতাসে স্থির হয়ে উড়ছিল। দেখতে দারুণ লাগছিল। আবার দু-একটি পতঙ্গ এসে আমাদের নৌকাতেও বসছিল। যেহেতু পরিযায়ী বা নতুন কোনো পাখি পাচ্ছি না, তাই এসব উড়ন্ত পতঙ্গগুলোর ছবি তুলেই সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। ছবি তোলার জন্য ওদের পিছু পিছু নৌকা ছোটাতে ছোটাতে একসময় পাখির কথা ভুলেই গেলাম। ব্যস্ত হয়ে পড়লাম নানা আকার, বর্ণ ও প্রজাতির পতঙ্গ নিয়ে। ওদের মধ্যে নীল রঙের সরু দেহের

একটি পতঙ্গ বারবার আমাদের নৌকার কাছাকাছি আসছিল। ওর নাম দিয়েছি নীল পরী। খানিক পরে এক জোড়া নীল পরীকে সঙ্গমরত অবস্থায়ও দেখা গেল। ওদের ছবি তুলে সামনের দিকে এগোতেই কচুরিপানার ওপর হলুদ রঙের সরুদেহী একটি পতঙ্গকে বসে থাকতে দেখে নৌকা থামালাম। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ওর ছবি তুললাম। নতুন পাখি না পেয়ে শুরুতে মন খারাপ হলেও বিলজুড়ে ঘুরে ঘুরে রঙিন পতঙ্গগুলোর ছবি তোলায় সেই মন খারাপ ভাবটা তো থাকলই না, বরং ওদের সঙ্গে সময়টা ভালোই কাটল।

শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল জলাভূমি অভয়াশ্রমে দেখা এই হলদে পতঙ্গটি এ দেশের এক অনিন্দ্য সুন্দর সরু দেহের ফড়িং বা সুচফড়িং, যার ইংরেজি নাম Yellow Waxtail. সচরাচর দৃশ্যমান ও স্বল্পঝুঁকিসম্পন্ন এই সুচফড়িংটি Coromandel Marsh Dart নামেও পরিচিত। এর কোনো বাংলা নাম নেই। তাই ইংরেজি নামের অনুবাদে ওর নাম রেখেছি হলুদ মোমলেজি। সিনাগ্রিওনিডি (Coenagrionidae) গোত্রের সুচফড়িংটির বৈজ্ঞানিক নাম Ceriagrion coromandelianum (সেরিয়াগ্রিওন করোম্যান্ডেলিয়ানাম)। বাংলাদেশ ছাড়াও এটিকে পাকিস্তান, নেপাল, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় দেখা যায়।

হলুদ মোমলেজি মাঝারি আকারের সুচফড়িং। পুরুষের তুলনায় স্ত্রী আকারে লম্বা ও হৃষ্টপুষ্ট হয়। স্ত্রীর উদরের দৈর্ঘ্য ২৯ থেকে ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার। অন্যদিকে পুরুষের উদরের দৈর্ঘ্য ২৮-২৯ মিলিমিটার। স্ত্রী ও পুরুষের পেছনের ডানার আকার যথাক্রমে ১৮-১৯ ও ২০ মিলিমিটার। পুরুষের উদরের রং উজ্জ্বল হলুদ। স্ত্রীর উদর সোনালি-হলুদ থেকে বাদামি, তবে ফ্যাকাশে। বক্ষ সবুজাভ। চোখ হলদেটে-সবুজ। 

এদের দেশের সর্বত্র ঘাস ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদসম্পন্ন অগভীর জলাশয়ে দেখা যায়। পুরুষগুলো জলাশয়ের কিনারায় ঘাস ও লতাপাতার ওপর বসে থাকে। আর স্ত্রীগুলো প্রায়ই উড়ে দূরে চলে যায়। ওরা মাছি ও ডাঁশজাতীয় পতঙ্গ শিকার করে খায়। সারা বছর ওড়াউড়ি করে। 

হলুদ মোমলেজি বছরজুড়েই প্রজনন করে। এদের বংশবৃদ্ধি ও জীবনচক্র অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। প্রজননকালে পুরুষগুলো সচরাচর আগাছাপূর্ণ পুকুর, খাদ বা জলাশয় ও ধানখেতের কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু এলাকা দখলে রেখে আধিপত্য বিস্তার করে। সেখানে কোনো দীর্ঘ পূর্ব-প্রণয় ছাড়াই দ্রুত মিলনে ইচ্ছুক স্ত্রীকে আঁকড়ে ধরে একটি যুগল বন্ধন তৈরি করে। এরপর সম্পূর্ণ সঙ্গম চক্র সম্পন্ন করার জন্য জোড়াটি কাছাকাছি কোনো নিরাপদ গাছপালার দিকে উড়ে যায় এবং বাতাসের মধ্যে ডানা ঝাপটে তৈরি করে বিশেষ এক ভঙ্গি, যাকে ইংরেজিতে ‘Mating wheel’ বলা হয়।

সঙ্গম শেষে পুরুষটির কড়া পাহারায় স্ত্রীটি পানিতে ভাসমান কিংবা পানি থেকে জেগে ওঠা জলজ উদ্ভিদের ওপর ডিম পাড়ে। কিছুদিন পর সেই ডিম ফুটে জন্ম নেয় অপূর্ণাঙ্গ সুচফড়িং বা Nymph শাব্দিক অর্থে যাকে ‘জলপরী’ বলা যায়। ডানাবিহীন এই জলপরীগুলোকে দেখলে মোটেও মনে হবে না যে এরা সুচফড়িং। বরং অন্য কোনো প্রজাতির জলজ পতঙ্গ বলেই মনে হবে। নিজেদের খোলস কেটে ডানাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ সুচফড়িং রূপে বেরিয়ে আসার আগে জলপরীদের পুরোটা জীবন পানিতেই বিকশিত হয়। পূর্ণবয়স্ক সুচফড়িং দুই থেকে আট সপ্তাহ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কগুলো দুই মাস থেকে এক-দুই বছর বাঁচতে পারে। 

লেখক: পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

তামাটে পাতার মাঝে আগুনের শিখা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
তামাটে পাতার মাঝে আগুনের শিখা
ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের নার্সারিতে ফ্লেম ভায়োলেট।      ছবি: লেখক

প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি ফ্লেম ভায়োলেট। এই উদ্ভিদের প্রধান আকর্ষণ হলো এর পাতা এবং ফুলের চমৎকার রঙের বৈপরীত্য। এর বৈজ্ঞানিক নাম Episcia cupreata. এটি Gesneriaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। চিরসবুজ বহুবর্ষজীবী বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ। এটি মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের (বিশেষ করে কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা) আদি নিবাসী উদ্ভিদ। এর নজরকাড়া পাতার বুনন এবং জ্বলজ্বলে আগুনের মতো লাল-কমলা ফুলের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে ইনডোর প্ল্যান্ট বা গৃহসজ্জার উদ্ভিদ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত ৩০ জুন ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের বাংলাদেশ নার্সারিতে এই উদ্ভিদের দেখা পাই।

এর পাতাগুলো ডিম্বাকৃতির, কিছুটা খসখসে এবং মখমলের মতো নরম রোমশ (velvety) ভাবযুক্ত। পাতার রং জাতভেদে গাঢ় তামাটে (coppery-green), ব্রোঞ্জ, বা বেগুনি-সবুজ হতে পারে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, পাতার শিরাগুলো হালকা সবুজ বা রূপালি-সাদা রঙের হয়ে থাকে, যা পাতায় একটি চমৎকার ধাতব বা মেটালিক আভা তৈরি করে।

বসন্ত থেকে শরৎকাল পর্যন্ত এই গাছে ফুল ফোটে। ফুলগুলো আকারে ছোট এবং ট্রাম্পেট বা চোঙাকৃতির হয়ে থাকে। পাপড়ির রং সাধারণত টকটকে লাল বা কমলা-লাল হয় এবং ফুলের ভেতরের অংশ বা হলদেটে গলাটি প্রায়ই ছিটছিট দাগযুক্ত থাকে। তামাটে পাতার পটভূমিতে এই উজ্জ্বল লাল ফুলগুলো যেন আগুনের শিখার মতো জ্বলে ওঠে, আর এ কারণেই এর নাম হয়েছে ‘ফ্লেম ভায়োলেট’।

এ গাছটি আকারে বেশ ছোট ও ঝোপালো হয় (উচ্চতায় সাধারণত ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি)। তবে এটি রানার বা লতানো কাণ্ডের (stolons) সাহায্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝুলন্ত টবে রাখলে এর লতাগুলো নিচের দিকে ঝুলে পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করে।

নান্দনিক সৌন্দর্য ছাড়াও ঘরোয়া পরিবেশে এবং উদ্যানবিদ্যায় ফ্লেম ভায়োলেটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ঝুলন্ত ঝুড়ি (hanging baskets), টেরারিয়াম (terrarium) এবং ঘরের জানালার পাশে রাখার জন্য এটি একটি আদর্শ উদ্ভিদ। এর রঙিন পাতা ঘরের ভেতরের একঘেয়েমি দূর করে একধরনের ক্রান্তীয় বা ট্রপিক্যাল আবহ তৈরি করে। ল্যান্ডস্কেপিংয়ের ক্ষেত্রে ছায়াযুক্ত স্থানে গ্রাউন্ড কাভার (মাটি ঢেকে রাখার উদ্ভিদ) হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য ইনডোর প্ল্যান্টের মতো ফ্লেম ভায়োলেটও ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে। তা ছাড়া ঘরে সবুজের ছোঁয়া ও রঙিন ফুলের উপস্থিতি মানসিক চাপ কমাতে এবং কাজের মনোযোগ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

উদ্যানপ্রেমীদের কাছে এটি জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর সহজ বংশবিস্তার প্রক্রিয়া। এর রানার বা লতা কেটে খুব সহজেই নতুন চারা তৈরি করা যায়, যা নতুন বাগানকারীদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

ফ্লেম ভায়োলেট আর্দ্র এবং উষ্ণ পরিবেশ পছন্দ করে। একে সরাসরি তীব্র সূর্যের আলো থেকে দূরে রেখে উজ্জ্বল, পরোক্ষ আলোতে (indirect light) রাখা উচিত। টবের মাটি সব সময় হালকা আর্দ্র রাখতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি জমে শিকড় পচে না যায়। ঘরের শুষ্ক বাতাস এড়াতে এর চারপাশে কিছুটা আর্দ্রতা বজায় রাখলে গাছটি দীর্ঘকাল তার সতেজতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখে। স্বল্প পরিসরে এবং কম যত্নে ঘরের কোণে প্রকৃতির রং ছড়িয়ে দিতে ফ্লেম ভায়োলেটের জুড়ি মেলা ভার।

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ 

অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম
ক্যাপশন: সাভারে দেখা নীল পুনম প্রজাপতি ছবি: লেখক

এ বছরের মে মাসের ঘটনা। রোদ দেখে এক দিন বাড়ি থেকে বের হলাম। সাভার যেতে যেতে বেলা বেড়ে গেল। রোদটা বেশ চড়িয়ে উঠেছে। যেতে যেতে পথে ক্যান্টনমেন্টের পাশে ডিসি নার্সারিতে ঢুকে পড়লাম। ওখানে গেলে মাঝে মাঝে কিছু নতুন গাছপালা দেখা যায়। উদ্দেশ্য হচ্ছে সেগুলোর খোঁজ নেওয়া আর ছবি তোলা। অনেক গাছেই ফুল ফুটেছে। সেসব ফুলে মধু খেয়ে বেড়াচ্ছে প্রজাপতিরা। এগুলোর ছবি তোলা বড্ড মুশকিল। দুই সেকেন্ড সময়ও ফুলে থিতু হয়ে বসে না।

চোখ পড়ল একটা গাছের তলায়। মাটির কাছাকাছি একটা গাছের পাতার ওপর ঘাপটি মেরে ডানা মেলে বসে আছে এক কৃষ্ণসুন্দরী। অপরূপা সে, যেন তার কালো ডানা থেকে নীল অভ্রের ছটা ঠিকরে বের হচ্ছে। ছবি তোলার বেশ ভালো পজিশনও পাওয়া গেল। ছবি তোলার পর তাকে শনাক্ত করা গেল, প্রজাপতির নাম নীল পুনম। যে প্রজাপতির ছবি তুললাম, সেটি মেয়ে প্রজাপতি। পুরুষটার ডানায় নীল দাগগুলো বড় হয়, বিশেষ করে পেছনের ডানা জোড়ায় দুটি বড় নীলাভ সাদা ছোপ থাকে।

নীল পুনম প্রজাপতির ইংরেজি নাম ব্লু মুন বাটারফ্লাই বা গ্রেট এগফ্লাই, প্রজাতিগত নাম Hypolimnas bolina, লেপিডোপ্টেরা বর্গের নিমফালিডি গোত্রের পোকা। প্রজাতিগত নামের শেষাংশ বোলিনা এসেছে গ্রিক পুরাণের একটি চরিত্র থেকে। গ্রিক ভুগোলবিদ পসানিয়াসের বিবরণ অনুযায়ী, বোলিনা ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের আচাইয়া অঞ্চলের একজন সুন্দরী কুমারী। সূর্য ও আলোর দেবতা অ্যাপোলো তার প্রেমে পড়েন। কিন্তু বোলিনা সে প্রণয় নিবেদন ফিরিয়ে দেন ও অ্যাপোলের হাত থেকে বাঁচতে তিনি সাগরে ঝাঁপ দেন। তখন অ্যাপোলো তাকে জলপরীতে রূপান্তর করেন। নীল পুনমের ডানা যেন সেই জলপরীর ডানার মতো!

এরা এ দেশে এসেছে মাদাগাস্কার ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। তবে এখন এশিয়ার অনেক দেশেই এদের দেখা যায়। এ দেশের প্রায় সর্বত্র এদের দেখা যায়। সাধারণত ঘন ও স্যাঁতসেঁতে ঝোপঝাড়, ফুলের বাগান, বন ও বনের প্রান্তে এলাকা, আবাসিক এলাকা প্রভৃতি স্থানে এদের দেখা যায়। এরা সোজাসুজি ওড়ে। ফুলের মধু পান করার সময় এরা ডানা চারটি আধা ভাঁজ করে রাখে। ডানা প্রসারিত করলে সেসব ডানার এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তের বিস্তার হয় ৭০ থেকে ৮৫ মিলিমিটার।

জিনগত পলিমরফিজম ও ফেনোটাইপিক প্লাস্টিসিটির কারণে স্ত্রী নীল পুনম প্রজাপতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তনশীল বা বহুরূপী স্বভাবের হয়। এই পরিবর্তনের চিহ্ন প্রথম প্রকাশিত হয় পৃষ্ঠদেশে, সেখানে সাদা ও নীল দাগগুলো পরিবর্তিত হয়। কিন্তু স্ত্রীদের নিচের বা অঙ্কীয় দেশের চেহারা পুরুষের মতো একই থাকে। শীতল দিনে রং বেশি গাঢ় হয়। স্ত্রী প্রজাপতির আকার পুরুষের চেয়ে একটু বড় হয়। গাঢ় কালো রঙের প্রতিটি ডানার মাঝখানে একটি করে সাদাটে ছোপ থাকে, যার কিনারা থেকে নীল দ্যুতি বের হয়। সামনের ডানায় এক সারি সাদা ছোট বৃত্ত থাকে। পক্ষান্তরে পুরুষ নীল পুনম হয় একরূপী। ডানার পৃষ্ঠদেশ কুচকুচে কালো, তাতে সুস্পষ্ট তিনটি ছোপ বা দাগ থাকে, সামনের ডানায় থাকে দুটি ও পেছনের ডানায় থাকে একটি। 

স্ত্রী নীল পুনম পাতার নিচের দিকে ফ্যাকাশে ও স্বচ্ছ কাচের মতো সবুজাভ গম্বুজাকৃতির ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়ার পর এরা প্রায় ১৪ থেকে ২৪ দিন পর্যন্ত বাচ্চা বা কীড়া (Caterpillar) অবস্থায় থাকে। এই সময়ে এরা মূলত উদ্ভিদের কচি পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। বেড়েলা, বড় নুনিয়া, পর্তুলিকা, মিষ্টিআলু ও তুঁত ইত্যাদি গাছ এদের প্রধান আশ্রয়স্থল এবং খাবার উৎস। স্ত্রী নীল পুনম প্রজাপতি বেশ মাতৃত্বপরায়ণ, তাদের মধ্যে চরম মাতৃত্ব স্বভাব দেখা যায়। কোথাও ডিম পাড়ল–এ নিয়ে সাধারণত অন্য প্রজাপতিরা তার কোনো খোঁজখবর রাখে না। কিন্তু নীল পুনম প্রজাপতি ডিম পাড়ার আগে ভালো করে দেখে নেয় যে সে পাতায় কোনো পিঁপড়ে আছে কি না। ডিম ফুটে বাচ্চা বের না হওয়া পর্যন্ত ওরা সক্রিয়ভাবে ডিমগুলো পাহারা দেয়।

ডিমগুলোর ওপর তারা একধরনের সুরক্ষামূলক ছাতা তৈরি করে, যা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন পরজীবী বোলতার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অন্য দিকে পুরুষ প্রজাপতিরা নিজেদের এলাকা নিয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল স্বভাবের হয়। তারা হয় প্রচণ্ড ঝগড়াটে ও আক্রমণাত্মক। তার এলাকায় অন্য প্রজাপতি ঢুকে পড়লে তাদের দাবড়িয়ে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি অন্য কোনো প্রাণী বা মানুষ দেখলেও তারা সতর্কভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করে। ওদের আর একটা বেশ মজার স্বভাব আছে। প্রজাপতিরা সাধারণত ফুলের মধু ও শিশির খায়। এরাও খায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নীল পুনম প্রজাপতি তা খায় না, ওরা খায় মানুষের কপালের ঘাম ও প্রাণীর মূত্র। ফুলে এদের সহজে দেখা যায় না।

পুরুষ নীল পুনম প্রজাপতির জীবন সত্যিই অদ্ভুত ও ট্র্যাজিক। এরা ফুলের মধুর চেয়ে পচা ফলমূল, ভেজা মাটি বা পচনশীল উপাদান থেকে পুষ্টি উপাদান বেশি গ্রহণ করে। তার ওপর এদের বড় শত্রু ওলবাকিয়া নামের একটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াটি পুরুষ প্রজাপতিদের বংশই ধ্বংস করে দেয়। প্রজাপতি ডিম পাড়ার পর যেসব ডিম থেকে পুরুষ ছানা জন্ম নেওয়ার কথা, ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া শুধু সেসব ডিমেই সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে পুরুষ প্রজাপতিগুলো ডিম ফুটে বের হওয়ার আগেই মারা যায়। সত্যিই অবিশ্বাস্য ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ার কর্মকাণ্ড।

সম্প্রতি গবেষকরা এসব দেখতে পেয়েছেন। তবে তারা এটিও দেখতে পেয়েছেন যে সামোয়া দ্বীপপুঞ্জের নীল পুনম প্রজাপতিরা ওলবাকিয়ার এই পুরুষ হত্যার বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রজাপতিদের দেহে একটি বিশেষ দমনকারী জিন বিবর্তিত হয়েছে, যা ওলবাকিয়ার এই ক্ষতিকর প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ওলবাকিয়া থাকা সত্ত্বেও পুরুষ ভ্রূণগুলো সফলভাবে বেঁচে থাকতে ও ফুটে বের হতে পারে।

লেখক: কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতির মৃত্যু

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হাতিটি ১৯ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছে।

শনিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা দিকে পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ের পাদদেশে হাতিটির মৃত্যু হয়।

বর্তমানে বন বিভাগের সদস্যরা হাতিটির মরদেহ পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্য কাজ করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে খাবারের সন্ধানে পাহাড়ি এলাকায় আসে হাতিটি। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। এতে হাতিটির পেটের নিচের অংশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল এনে হাতিটির চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাতিটি দেখতে আসা ইমরান হোসেন জানান, হাতিটিকে বাঁচানোর জন্য বন বিভাগের লোকজন চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মতে, হাতিটির শরীরের আঘাত খুবই গুরুতর হওয়ায় মারা যায়। কিন্তু তারা একটি বন্য প্রাণীর হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করছেন।

টেকনাফ উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, শুক্রবার দুপুরে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর থেকেই বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন। পরে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

 টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, আহত হাতিটির পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়া পেটেও গুরুতর আঘাত ছিল। দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি টিম ময়নাতদন্তের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে সৎকার করা হবে।

শাহীন/খাদিজা রুমি/

গাজীপুরে জখম হাতির চিকিৎসায় থাই বিশেষজ্ঞ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম
গাজীপুরে জখম হাতির চিকিৎসায় থাই বিশেষজ্ঞ
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘জয়িতা’ নামের একটি হাতির আক্রমণে অপর হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, হাতিটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশীয় মেডিকেল বোর্ডের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৪ মে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের উপর হামলা করে চার বছর বয়সী হাতি জয়িতা। আক্রমণে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে গেছে।

সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন বলেন, হামলার শিকার হাতি রাজু বাহাদুর পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ছিল। পার্কে থাকা অন্য একটি হাতি থেকে চার বছর আগে জয়িতার জন্ম হয়। বাচ্চা হাতি হওয়ায় জয়িতাকে শেকলে বেঁধে রাখা হতো না। গত ২৪ মে সকালে শেকলে বাঁধা রাজু বাহাদুরের উপর হঠাৎ করে আক্রমণ করে জয়িতা। শেকলে বাঁধা রাজু বাহাদুরের সামনে দুটি পা দুদিকে ছড়িয়ে যায়। এতে একটি পা ভেঙে গেছে। অন্য একটি পায়েও আঘাত পেয়েছে। বর্তমানে রাজু বাহাদুর দাঁড়াতে পারছে না। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। ধীরে ধীরে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় থাইল্যান্ড থেকে আনা হয় চিকিৎসক। বর্তমানে থাইল্যান্ড থেকে আসা মেডিকেল টিমের পরামর্শ ও দেশের মেডিকেল বোর্ডের যৌথ তত্ত্বাবধানে রাজু বাহাদুরের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়েছে।

পার্কের একটি সূত্র জানায়, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ‘রাজু বাহাদুর’ নামের এই হাতিটিকে উদ্ধার করে। জনৈক এক ব্যক্তি হাতিটি দিয়ে বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার হচ্ছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগ হাতিটি উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় নিয়ে আসে। উদ্ধারের সময় রাজু বাহাদুরের বয়স ছিল ৯ বছর। তবে এখন এর বয়স ১০ বছরের বেশি।

পলাশ প্রধান/খাদিজা রুমি/