গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চম্পা আক্তার (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রলোভনে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় কীটনাশক খেয়ে চম্পা আক্তার আত্মহত্যা করে।
সোমবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে তালুক সর্বানন্দ গ্রামের নিজ বাড়িতে ওই ছাত্রীকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে চম্পা আক্তারের মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। নিহত চম্পা আক্তার ওই গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। খাজেমুল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল চম্পা আক্তার।
এ ঘটনায় সোমবার নিহতের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
স্থানীয় ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনজল গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে শাকিল মিয়ার (২০) সঙ্গে চম্পা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক বছর থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চম্পার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন শাকিল। সম্প্রতি তারা দুজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আসেন। বিষয়টি উভয়ের পরিবার জানতো। একপর্যায়ে চম্পা আক্তার বিয়ের জন্য শাকিল মিয়াকে বললে শাকিল বিয়েতে রাজি না হয়ে তাকে আত্মহত্যা করার জন্য বলেন।
এর কিছুদিন পর শাকিলের আত্মীয় সর্বানন্দ গ্রামের সোনা মিয়া চম্পা আক্তারকে কীটনাশক জাতীয় (বিষ) এনে দেন। এর পর গত ১৫ মে পরিবারের অজান্তে চম্পা আক্তার ওই কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ ৩১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়।
চম্পার পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি শাকিলের পরিবার জানতো এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। তবে চম্পাকে বাড়ির বউ করতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত শাকিলের পরিবার। এ কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল চম্পা। শাকিল মিয়ার প্ররোচনায় চম্পা আত্মহত্যা করেছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, মৃত্যুর আগে এক ভিডিওতে নিহত চম্পা আক্তার বলেন, ‘শাকিল আমাকে বিয়ে করবে বলে ওর বোনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বিয়ের জন্য বললে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেন শাকিল। বিষয়টি শাকিলের পরিবার জানে। তারাও বলছে, তুই মর গিয়ে।’
রফিক খন্দকার/মাহফুজ