শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণের ঘটনায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাস পার্থসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে আদনান ও পার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
শুক্রবার (২০ জুন) ওই ছাত্রী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক।
মামলার এজাহার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে সুরমা আবাসিক এলাকায় একটি মেসে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণ করেন তারা। পরে তারা ভুক্তভোগীর অজান্তে ভিডিও ধারণ করে এবং তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেন । এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (৩) ধারা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/ ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় মামলা করেন ওই ছাত্রী। এতে ১নং আসামি শান্ত তারা আদনান, ২নং আসামি স্বাগত দাস পার্থ এবং দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ডিজিটাল ট্রাকিং পদ্ধতিতে শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাশ পার্থকে আটক করে পুলিশ। তাদের একজনকে ক্যাম্পাস থেকে এবং আরেকজনকে সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক সত্যতা মিললে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার আমরা অভিযোগ পাই। অভিযোগ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে প্রক্টর অফিসে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
এদিকে মামলার ১নং আসামি শান্ত তারা আদনান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় করা একটি মামলার আসামি।
ইসফাক/মেহেদী/