বৈরী আবহাওয়ার কারণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বাড়তে শুরু করেছে শিশুরোগীর সংখ্যা। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিশুরোগী বাড়ছে। বহির্বিভাগেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। সদর হাসপাতালে শিশু ও ডায়েরি ওয়ার্ডে ১২৫ জন রোগী ভর্তি আছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৫ জন রোগী। আর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪০ জন রোগী। শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। শয্যা আর ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রোগীর স্বজনদের আর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাওয়ার কথা জানালেন চিকিৎসক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডায়েরি ওয়ার্ডে ১০ শয্যার বিপরীতে ৪০ জন ও শিশু ওয়ার্ডে ১৪ জনের বিপরীতে ৮৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশির ভাগই জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত সপ্তাহের তুলনায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। দিনে গরম রাতে শীত- এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বেশি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্সসহ দায়িত্বরতদের। এদিকে শয্যা আর ঠিকমতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।
প্রেমতলা থেকে আসা এক রোগীর স্বজন শাহনাজ জানান, তিনি তার নাতির ঠাণ্ডা নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতালে বেড আর ঠিকমতো ডাক্তার না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
রোকেয়া নামে একজন বলেন, তার বাচ্চার ঠাণ্ডা জ্বর নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তিনি। এখানে শয্যা না পেয়ে তিনি বারান্দায় বাচ্চাকে নিয়ে একটি বেড বিছিয়ে শুয়ে আছেন। রাতে মশার কামড় আর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ তিনি।
নড়িয়া ভোজেশ্বর জপশা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মাসুদ বলেন, তার সন্তানকে চার দিন ধরে এখানে ঠাণ্ডা, জ্বর নিয়ে এসেছেন। এখানে ডাক্তার ঠিকমতো পাওয়া যায় না। ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বললে তারা বিরক্তি প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. রাজেশ মজুমদার জানান, রাতে গরম আর দিনে ঠাণ্ডা থাকার কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে রয়েছে রোগীর চাপ। অতিরিক্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। শীত ও গরমের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।