পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে মন্ত্রিসভা গঠন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভার চেয়ে এবারের মন্ত্রিসভা ব্যতিক্রম এবং অনেক শক্তিশালী। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে কতটুকু উন্নততর পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হলেও আগামী দিনগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ডলারসংকট, রিজার্ভসংকটের মতো নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে নতুন সরকারকে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের বাণিজ্য অনেকটাই নির্ভর করে এই দুই দেশের ওপর।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঘাটতিসহ নানাবিধ কূটনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আগে থেকেই বাংলাদেশে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক হওয়ার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছিল। তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মেনে নেয়নি। সে কারণেই নতুন সরকারকে আগামী দিনে কূটনীতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় বিপদে ফেলেছে ডলারসংকট। ডলারসংকট ও দর বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক প্রভাব পড়েছে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে। দেশের সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় নিত্যপণ্যের দাম। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিপদের সম্মুখীন। নতুন সরকারকে এসব সমস্যা মোকাবিলায় জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে হবে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া প্রচুর খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে খাদ্যশস্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে না পারায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাংলাদেশের মানুষ দিশেহারা। সরকারের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে বৈদেশিক কূটনীতি ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুই মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি না হওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত হুমকির সম্মুখীন হয়। ফলে দেশের অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। পোশাক খাতের সেই ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধশিল্প, পাটজাত দ্রব্যসহ বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে সরকারকে নতুনভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। চলমান ডলারসংকটের প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সের ওপর। খোলাবাজারে ডলারের দাম বেশি পাওয়ায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠিয়ে হুন্ডি বা ভিন্ন উপায়ে পাঠাচ্ছেন। ফলে দেশে রেমিট্যান্সের আয় একদম কমে যায়। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অর্থনীতির এসব চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশের আগামী অর্থনীতি কেমন হবে তা নির্ভর করছে এবারের গঠিত সরকারের ওপর। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারকে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে তা সত্যিই অভাবনীয় এবং শক্তিশালী। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেবে, সেই প্রত্যাশা দেশবাসীর।