এবারের বইমেলায় আপনি অংশগ্রহণ করেননি কেন?
নানা কারণে এবারের একুশের বইমেলায় আমরা অংশগ্রহণ করিনি। একটি প্রধান কারণ দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চলছে মব শাসন! আগের সরকারের সময়ও আমরা দুবার বইমেলায় অশংগ্রহণ করিনি ইচ্ছে করে! আমরা আসলে দেখতে চেয়েছি বইমেলার বাইরে বই বিক্রির সম্ভাবনা কতুটুকু আছে! এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই প্রকাশকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে অনলাইনে, এসব কারণেও আমরা এবারের বইমেলায় অংশ নিইনি।
প্রায় প্রতিবছর আপনার অংশগ্রহণটা ব্যতিক্রমী ছিল। সেটা ধরে রাখতে অন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না?
বইমেলায় আমরা শ্রাবণ প্রকাশনীতে গত কয়েক বছর একটা খোলা জানালা বানাতাম ‘শ্রাবণের জানালা’। এটা একটা কবিতার মতো বিষয় ছিল! হাজার হাজার মানুষ এই জানালায় ছবি তুলত। এটা মিস করব এবার। মিস করব লেখক-বন্ধু-পাঠকদের ২৮ দিনের আড্ডা! এসবের পরও আমরা অনলাইনে একুশে বইমেলা আয়োজন করেছি মাসব্যাপী! আমাদের ফেব্রুয়ারিবিডি.কম নামে নতুন ওয়েবসাইট থেকে এই মেলার কাজ চলবে।
ফেব্রুয়ারিবিডি.কম-এর মাসব্যাপী অনলাইন বইমেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন। এই ধরনের ব্যতিক্রমী চিন্তা কীভাবে এল?
২০২১ সালেও আমরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলায় অংশ নিইনি। সে বছর আমরা অনলাইন বইমেলার আয়োজন করেছিলাম মাসব্যাপী। ফেব্রুয়ারিবিডি.কম শুধু শ্রাবণ প্রকাশনীর বই বিক্রি করবে না। এ বছর অনলাইন বইমেলায় আমরা প্রগতিশীল লেখক প্রকাশকদের বল বই বিক্রির আয়োজন করছি অনলাইনে।
অনলাইন বইমেলার সুবিধা এবং অসুবিধা কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
অনলাইন বইমেলার বড় সমস্যা হচ্ছে, পাঠক একটি বই ধরে দেখতে পারে না। নতুন বইয়ের গন্ধটা শুকতে পারে না আর বইমেলায় যেভাবে আড্ডা দিতে দিতে চা খেতে খেতে একটা বই কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে কিনতে পারে, এখানে তা পারে না। এ ছাড়া বইমেলার কমিশনেই পাঠক ঘরে বসে আরামে বই কিনতে পারে।
ফেব্রুয়ারিবিডি.কম-এর ওয়েবসাইট আপনি কীভাবে সাজিয়েছেন, যাতে পাঠক উপকৃত হবেন।
ফেব্রুয়ারিবিডি.কম ওয়েবসাইটটি আমরা মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও প্রগতিশীল বই দিয়ে সাজাচ্ছি; যাতে মুক্তমনা পাঠক তাদের প্রিয় বই সহজেই কিনতে পারে। বই কেনা নয়, শুধু এখানে বই আলোচনা, বই সংবাদ-লেখক সংবাদ থাকবে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে বই নিয়ে থাকবে লাইভ অনুষ্ঠান। থাকবে কবিতাসন্ধ্যা আবৃত্তি, গান ও আড্ডা।
অনলাইন বইমেলা কতটুকু জনপ্রিয়তা পাবে বলে আপনি মনে করেন। ভবিষ্যতে অনলাইন বইমেলা পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে আপনার পরিকল্পনা কী?
অনলাইন বইমেলা এখন থেকে চালু হলে অল্প সময়ের মধ্যে এটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন গাড়ি ভাড়া দিয়ে জ্যামে বসে না থেকে তাদের প্রিয় বইটি ঘরে বসে সংগ্রহ করতে চাইবে। এখন তো দুনিয়া ডিজিটাল, মানুষজন ঘরে বসেই কেনাকাটা করছে। ফলে বইকে বইয়ের বিষয় যদি আমরা অনলাইলে জনপ্রিয় করতে পারি, তবে পাঠক বেশি বেশি বই অনলাইন বইমেলা থেকে কিনবে। এখন কিন্তু সারা বছর বই অনলাইনেই বেশি বিক্রি হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কাগজের বই কিনবে না তার প্রস্তুতি চলছে। ফলে আমরা ডিজিটাল বই প্রকাশের দিকেও এগোব।
ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাৎকার: সানজিদুল ইসলাম সকাল
রবীন আহসান
শ্রাবণ প্রকাশনী, ঢাকা