ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক ২৬ বছরেও সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যার বিচার হয়নি ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা কু‌ড়িগ্রামে দুই সপ্তাহে তিস্তার পেটে ২৫ ঘর সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি ঈশ্বরগঞ্জে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার ১৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া ফুটবল থামিয়ে মঞ্চে উঠবেন তারকারা

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৯ এএম
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেভাবে চলছে, তাতে তা দ্রুতই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার ওই মন্তব্য করেন তিনি।

অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও জানান ট্রাম্প। শুধু গত মাসেই ২৫ হাজার মানুষ মারা গেছে উল্লেখ করে বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই সেনা সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্যগুলো করেন হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নীতিমালার নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। সেখানে সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ বন্ধে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

যুদ্ধ বন্ধে ‘কঠোর পরিশ্রম’ করছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প শান্তি চুক্তির অচলাবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এই যুদ্ধ বন্ধ দেখতে চাই। আমি এটির অবসান দেখলে খুশি হব।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লিয়াভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধরত দুই পক্ষের ওপরও ভীষণ হতাশ এবং তিনি তাদের শুধু ‘বৈঠকের স্বার্থে বৈঠক করার’ আচরণটি অপছন্দ করছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও তার দল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান লিয়াভিট। তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলেও উল্লেখ করেন লিয়াভিট।

নিজ নির্বাচনি প্রচার চলাকালে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে এক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে বাস্তবে তা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ, আলাস্কায় দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠক, বারবার আশ্বাস– কোনোটিতেই কোনো কাজ হয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য নানা শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি শর্ত হলো, দনবাস অঞ্চল তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। দনবাস গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। রাশিয়া সেটির কিছুটা দখলে রেখেছে। ইউক্রেনের দখলেও দনবাসের বেশ কিছু অংশ রয়েছে।

বর্তমানে যুদ্ধে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তাতে পুরো দনবাস দখলে পেতে রাশিয়ার আরও দুই বছর লাগতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে ইউক্রেনও কোনোভাবেই নিজ এলাকা বা ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি নয়। ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোও। তাদের শঙ্কা, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান যৌক্তিকভাবে না হলে ইউরোপে রাশিয়ার দিক থেকে আবারও সংঘাত হতে পারে। সব মিলিয়ে শান্তি আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা
সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বিল পাসের প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিবছর সাধারণত দুই দলের সর্বসম্মত সমর্থনে পাস হওয়া ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) নামের এই বিলটি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটে আটকে যায়। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গোলাগুলি ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত মাসেই যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ চলতে থাকা অবস্থায় তার দল প্রতিরক্ষা বিলে সমর্থন দেবে না। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা চাইছে সিনেট এমনভাবে এই বিল নিয়ে আলোচনা করুক যেন দেশে কিছুই ঘটছে না। দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা সংকটকে উপেক্ষা করে আমরা এই বিল এগিয়ে নিতে পারি না।’ ডেমোক্র্যাটদের একযোগে বিরোধিতার কারণে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট পেতে ব্যর্থ হয়।

ভোটাভুটিতে উপস্থিত সব ডেমোক্র্যাট বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে বিলটি সিনেটে পরবর্তী ধাপে যেতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি। সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ‘নিরাপত্তা ফি’ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। যদিও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ফি আরোপের পক্ষে নন। তবে বিশ্বের সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

অবশ্য ট্রাম্পের এই পিছু হটাতেও ডেমোক্র্যাটদের মন গলেনি। চাক শুমার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরান নিয়ে ট্রাম্প কী করছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এটি এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত। তিনি অবিবেচকের মতো যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই এর থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজেননি। যুদ্ধের ১৩৬তম দিন চললেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি।’

এদিকে বিলটি আটকে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। বিলটির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের কথা রয়েছে। এতে সামরিক সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, নতুন চালকবিহীন অস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবও রয়েছে।

ভোটের আগে সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেন, গত দেড় বছরে ডেমোক্র্যাটরা বারবার বাধা দেওয়ার রাজনীতি করেছে। আমি আশা করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমর্থনের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দেবে না।’

এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচ গত সপ্তাহে সহকর্মীদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। যেখানে তারা বলেন, বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এনডিএএ এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না। ডেমোক্র্যাট হিসেবে আমরা এমন কোনো ভোট দিতে পারি না, যা ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চরমপন্থি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে উৎসাহিত করবে।’

ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভ্যান হলেন বলেন, এই বিলের মাধ্যমে পেন্টাগনের জন্য বড় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান ইসরায়েল-নীতির পরিবর্তিত মনোভাবেরই প্রতিফলন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প
তেহরানে ‘ইসলামিক রেভল্যুশন স্কোয়ার’-এ ট্রাম্পবিরোধী বার্তাসংবলিত একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন আর্মি ক্যাডেট

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইতি টানতে নতুন কৌশল খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৩ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক দিন পরই তিনি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত না করে সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এ নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে পরদিন মঙ্গলবার নিজের অবস্থান বদলান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির প্রস্তাব দেন। ইঙ্গিত দেন, যারা এ চুক্তিতে যুক্ত হবে, তাদের হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন নীতিগত পরিবর্তন ইঙ্গিত করে, ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত থামাতে মাসখানেক আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু কয়েক দফা আলোচনার পরও স্থায়ী সমাধানের অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও তাদের মিত্র দেশগুলোতে ইরানি হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে। ফলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার বদলে বিকল্প সমাধানের পথেই হাঁটতে চাইছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতা চান, যা ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পরমাণু চুক্তির চেয়ে ‘ভালো’ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, ‘সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হলো যুদ্ধের দ্রুত কোনো সমাপ্তি না হওয়া। এটি এখন হিসাব-নিকাশের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এ ধরনের সংঘাত সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়।’

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকও যুদ্ধ থামানোর নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। নতুন করে মার্কিন হামলার মধ্যেই মঙ্গলবার ট্রাম্প আবারও ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা করেন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়ায় ইরান। পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল আবারও ব্যাহত হয়। মাসখানেক ধরে বারবার শান্তি আলোচনা শুরু ও স্থগিত হওয়ার পাশাপাশি সংঘর্ষও চলেছে। এতে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ইরানের কিছু সক্ষমতা দুর্বল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের মতে, ইরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ধরে রেখেছে। আর বড় পরিসরে সামরিক অভিযান ছাড়া সেই অবস্থান বদলানো ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হবে না।

হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাও ছিল নতুন চাপ তৈরির একটি কৌশল। তবে বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। কারণ জুনে ইরান একই ধরনের প্রস্তাব দিলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারে না; এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।

কিন্তু পরে ট্রাম্প নিজেই একই ধরনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে আবার তা প্রত্যাহার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখনও সুস্পষ্ট কোনো কৌশল নেই। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন দুটি পথ খোলা। একদিকে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে সংঘাত বাড়ানো; অন্যদিকে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যাতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাই ক্ষমতায় থেকে যায়।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সিনিয়র ফেলো এলিয়ট আব্রামস বলেন, ‘আমরা আবার সেই পুরোনো প্রশ্নেই ফিরে এসেছি। শেষ পর্যন্ত কার ধৈর্য বেশি থাকবে? ইরানের, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলনির্ভর দেশগুলোর?’ সূত্র: বিবিসি

এজিআই আসছে, প্রস্তুতির তাগিদ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
এজিআই আসছে, প্রস্তুতির তাগিদ
ছবি: এআই

গুগলের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ও নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ডেমিস হাসাবিস বলেছেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) বাস্তবে আসতে আর মাত্র কয়েক বছর বাকি। এই প্রযুক্তি যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে এখনই জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত ব্লগে এ কথা লিখেছেন হাসাবিস। তিনি বলেন, এজিআই এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাব্যবস্থা, যা মানুষের প্রায় সব ধরনের জ্ঞানগত সক্ষমতার সমান বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। গত জুনেও তিনি বলেছিলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এজিআই বাস্তবে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে এজিআই প্রতিযোগিতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এজিআই যত এগোবে, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত বাড়বে। ভবিষ্যতে পারমাণবিক ও জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠতে পারে। তাই আরও শক্তিশালী ও স্বয়ংক্রিয় এআই নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজিআইয়ের ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এতে যেমন বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি অজানা ঝুঁকিও রয়েছে।’

অ্যানথ্রপিকের গবেষণার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, এআই ইতোমধ্যে নিজেকে আরও উন্নত করার সক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এটি মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই আরও শক্তিশালী মডেল তৈরি করতে পারে। এতে প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে এর জন্য সময়, সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ব এখনো সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে না।

বৈশ্বিক তদারকি সংস্থার প্রস্তাব
হাসাবিস যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বৈশ্বিক এআই তদারকি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিনরা’র আদলে এই প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা বলেন। এতে শীর্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন। বাজারে ছাড়ার আগে উন্নত এজিআই মডেলগুলোকে নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় তাদের মডেল পরীক্ষার জন্য জমা দেবে। বাজারে ছাড়ার অন্তত ৩০ দিন আগে তা মূল্যায়ন করা হবে। 

হাসাবিস বলেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানে না। তাই সতর্কতার সঙ্গে এবং আশাবাদী হয়েই এগোনো উচিত।

তার মতে, এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। পরে এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজিআই পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে। তাই বড় ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সবাই যেন এই প্রযুক্তির সুফল পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

হাসাবিস বলেন, ‘এজিআই আসার আগের এই সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ মানবসভ্যতার পথ নির্ধারণ করবে।’

মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত?
হাসাবিস এই সময়কে মানবজাতির ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বিশ্বাস, দায়িত্বশীলভাবে এজিআই তৈরি ও ব্যবহার করা গেলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে উপকারী প্রযুক্তিগুলোর একটি হবে।

তিনি বলেন, এজিআইকে শুধু ইন্টারনেট বা মোবাইল প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এটি বিদ্যুৎ বা আগুন আবিষ্কারের মতো যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। সিলিকন চিপকে চিন্তা করার সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রযুক্তির এক বিস্ময়কর অর্জন। এজিআইয়ের প্রভাব শিল্পবিপ্লবের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি হবে। পরিবর্তনের গতিও হবে প্রায় ১০ গুণ দ্রুত।

তিনি বলেন, এজিআই ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়াবে, নতুন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্ভাবনে সহায়তা করবে। উন্নত উপকরণ তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। একসময় সম্পদের সীমাবদ্ধতাও মানব অগ্রগতির বড় বাধা নাও থাকতে পারে।

 সূত্র: এনডিটিভি

জো বাইডেনের স্মৃতিকথা প্রকাশ হবে নভেম্বরে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
জো বাইডেনের স্মৃতিকথা প্রকাশ হবে নভেম্বরে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা নভেম্বরে প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তার ক্যানসারের চিকিৎসা ‘খুব ভালোভাবেই চলছে’।

২০২৫ সালের মে মাসে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার চার মাস পর ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন জানান, তিনি আক্রমণাত্মক ধরনের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, যা তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তিনি রেডিয়েশন থেরাপি শুরু করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বাইডেন বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, জো, আপনি এখন কী করছেন?’

তিনি বলেন, ‘আমি পরিবারের সঙ্গে অনেক সময় কাটাচ্ছি। ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছি এবং চিকিৎসা খুব ভালোভাবেই চলছে।’ এ সময় তিনি তার সুস্থতা কামনায় শুভেচ্ছা জানানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাইডেন জানান, তার আসন্ন স্মৃতিকথা ‘প্রমিজ মি, আমেরিকা’তে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের সামনে আসা নানা চ্যালেঞ্জ, তার নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং সেসব সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ তুলে ধরা হবে।

বইটিতে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার প্রেসিডেন্সির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।

এ ছাড়া তিনি কেন দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং পরে কেন সরে দাঁড়ান, সেই বিষয়ও বইটিতে স্থান পাবে বলে জানান বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নের মুখে ছিলেন বাইডেন। তা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রার্থী হন।

তবে ২০২৪ সালের জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ব্যাপক চাপের মুখে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

পরে তার স্থলাভিষিক্ত প্রার্থী, তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে ট্রাম্প নির্বাচনে বিজয়ী হন।

গত জুনে ৮০ বছরে পা রাখা ট্রাম্প ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করলে বাইডেনের ‘সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার রেকর্ড অতিক্রম করবেন।

আগামী ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত হবে বাইডেনের স্মৃতিকথা ‘প্রমিজ মি, আমেরিকা’। বইটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম) কয়েক সপ্তাহ পর বাজারে আসবে।

উল্লেখ্য, কমলা হ্যারিসও গত বছর ‘১০৭ ডেজ’ শিরোনামে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন। সেখানে বাইডেন নির্বাচনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার সংক্ষিপ্ত নির্বাচনি প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাজ্য
ছবি: সংগৃহীত

গত শতাব্দীর প্রচলিত আবহাওয়ার তুলনায় যুক্তরাজ্যের জলবায়ু এখন মৌলিকভাবে বদলে গেছে।  দেশটির তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ও চরম আবহাওয়ার ঘটনাও ঘন ঘন ঘটছে। 

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পর্যবেক্ষণভিত্তিক তথ্যপ্রমাণ দেখায়, সবচেয়ে গরম ও সবচেয়ে শীতল আবহাওয়ার যে পরিস্থিতিকে আমরা আমাদের ‘স্বাভাবিক’ জলবায়ু বলে মনে করি, তা বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।’ 

মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীন দুটি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এ সময় ইংল্যান্ডে মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ে যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ১ এবং ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯১০ সালের পর বছরটি ছিল সবচেয়ে বেশি রৌদ্রোজ্জ্বলও।

মেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসন্ত ও গ্রীষ্ম মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

এ সময় মোট সূর্যালোকের পরিমাণ ছিল ১৯৯১-২০২০ সালের গড়ের ১২৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে একে রেকর্ড করা শুরুর পর থেকে ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ ও সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের উপকূলীয় এলাকাগুলোও এ পরিবর্তন থেকে রেহাই পায়নি। ২০২৫ সালে দেশটির উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ২৯৭ দিন সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। ১৯৮২ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের ১৭৮ দিনের আগের রেকর্ডও অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।

বার্ষিক রেকর্ডের বাইরে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৮০’র দশক থেকে প্রতি দশকে যুক্তরাজ্যের জলবায়ুর গড় তাপমাত্রা প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে। ১৮৮৪ সালের পর রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ চার বছরই রয়েছে।

এর পাশাপাশি চরম আবহাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সালের তুলনায় গ্রেটার লন্ডনে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন এবং ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার রাতের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

খাদ্য ও পোশাক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার সম্প্রতি ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম সরঞ্জামে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ইউরোস্টারও তাদের ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী উচ্চগতির ট্রেনগুলোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করবে। সূত্র: এএফপি 

নাঈম/