বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেভাবে চলছে, তাতে তা দ্রুতই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার ওই মন্তব্য করেন তিনি।
অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও জানান ট্রাম্প। শুধু গত মাসেই ২৫ হাজার মানুষ মারা গেছে উল্লেখ করে বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই সেনা সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্যগুলো করেন হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নীতিমালার নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। সেখানে সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ বন্ধে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
যুদ্ধ বন্ধে ‘কঠোর পরিশ্রম’ করছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প শান্তি চুক্তির অচলাবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এই যুদ্ধ বন্ধ দেখতে চাই। আমি এটির অবসান দেখলে খুশি হব।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লিয়াভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধরত দুই পক্ষের ওপরও ভীষণ হতাশ এবং তিনি তাদের শুধু ‘বৈঠকের স্বার্থে বৈঠক করার’ আচরণটি অপছন্দ করছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও তার দল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান লিয়াভিট। তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলেও উল্লেখ করেন লিয়াভিট।
নিজ নির্বাচনি প্রচার চলাকালে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে এক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে বাস্তবে তা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ, আলাস্কায় দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠক, বারবার আশ্বাস– কোনোটিতেই কোনো কাজ হয়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য নানা শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি শর্ত হলো, দনবাস অঞ্চল তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। দনবাস গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। রাশিয়া সেটির কিছুটা দখলে রেখেছে। ইউক্রেনের দখলেও দনবাসের বেশ কিছু অংশ রয়েছে।
বর্তমানে যুদ্ধে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তাতে পুরো দনবাস দখলে পেতে রাশিয়ার আরও দুই বছর লাগতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে ইউক্রেনও কোনোভাবেই নিজ এলাকা বা ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি নয়। ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোও। তাদের শঙ্কা, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান যৌক্তিকভাবে না হলে ইউরোপে রাশিয়ার দিক থেকে আবারও সংঘাত হতে পারে। সব মিলিয়ে শান্তি আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া