চোয়ালের হাড়ের ওপর গজানো চুলকেই দাড়ি বলে। চোয়ালের হাড্ডির ওপর এবং থুঁতনিতে যে চুল থাকে সেটাকে দাড়ি বলে। এর বাইরে যে পশম গজায় সেটা দাড়ির অন্তর্ভুক্ত নয়। সেটা কাটলে দাড়ি কাটার গুনাহ হবে না। তবে সেটা একেবারে চেঁছে ফেলা নিষিদ্ধ। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪০৬)
দাড়ি কমপক্ষে একমুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখতে হবে। এর চেয়ে বেশি লম্বা হলে কাটা জায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয় দিক দিয়ে ছাঁটতেন। অতিরিক্তটুকু কেটে ফেলতেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৬২)
সাহাবায়ে কেরামও দাড়ি লম্বা রেখেছেন। তবে কারও কারও থেকে একমুষ্টির পর কাটার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মারওয়ান ইবনে সালেমে মুকাফা বলেন, ‘আমি ইবনে উমর (রা.)-কে দেখেছি, তিনি নিজের দাড়ি মুঠ করে ধরে বাকিটুকু কেটে ফেলতেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭৬৫)
ইবনে উমর (রা.) হজ ও উমরার সময় নিজ দাড়ি মুঠ করে ধরে বাইরের অংশটুকু কেটে ফেলতেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৮৯২)
আবু হুরায়রা (রা.) নিজের দাড়ি মুঠ করে ধরে বাইরের অংশটুকু কেটে ফেলতেন। (ফতহুল বারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৬৩২)
থুঁতনির ওপরে এবং ঠোঁটের নিচে যেসব পশম গজায় তা মুণ্ডিয়ে বা উপড়ে ফেলা নিষেধ। একে নিমদাড়ি বলে। একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিমদাড়ি রাখতেন। হারিজ ইবনে উসমান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি নবি (সা.)-কে কি বৃদ্ধ দেখেছেন? তিনি বললেন, নবি (সা.)-এর নিমদাড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৫৪৬)
গলার নিচে যেসব পশম গজায় তা প্রয়োজনে কাটা যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৫৮; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪০৭)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক