ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকার রিটেইল ডিপোজিট মাইলফলক শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ রাজবাড়ীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২ উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’ দেশের বাজারে ভিভোর নতুন স্মার্টফোন বাবার মামলায় ছেলের জেল, হাজতেই আত্মহত্যা মাদক ও বিচারহীনতার বিষবৃক্ষ সন্দ্বীপে টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল ‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি হাতিয়ায় জোয়ার-বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৫ হাজার পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা প্রবল স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ, দুর্ভোগে হাতিয়ার লক্ষাধিক মানুষ বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নড়িয়ায় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা আটক ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার

৩ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
৩ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
খবরের কাগজ ডেস্ক

গত জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের কারণে দেশে এবং বিদেশে সমালোচনার শিকার হয় পুলিশ। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে আতঙ্কে পুলিশ পালিয়ে যাওয়ায় থানাগুলো কয়েক দিন ফাঁকা পড়ে থাকে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ অবনতি ঘটে। ফলে আন্দোলন পরবর্তীকালে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে পুলিশকে। 

এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার পুলিশকে গণবান্ধব করার জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশ আপাতত ৩টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। 

এক. পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে যোগ্যদের মনোনীত ও পদায়ন করা। দুই. আন্দোলনে ভিকটিমদের মামলাগুলো যথাযথ তদন্ত করা এবং দ্রুতই চার্জশিট দেওয়া। তিন. থানাকেন্দ্রিক সেবার মান বাড়ানো। পুলিশকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রেও এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অতি উৎসাহী কিছু পুলিশের জন্য গোটা বাহিনীর ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তির দায় গোটা বাহিনীর নেওয়া উচিত নয় বলে মনে করে পুলিশ। ফলে মহাজোট সরকারের আমলে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার জন্য পুলিশের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে তাদের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের অনেককেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেউ কেউ বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন। আবার অনেকে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন যে, ‘যেসব পুলিশ কর্মকর্তা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন তারা সন্ত্রাসী। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ 

আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, ‘জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য তারা কাজ করছেন।’

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পুলিশে পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিশেষ কয়েকটি জেলার বাসিন্দা ও ছাত্রজীবনের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হতো। শুধু পদোন্নতি নয়, বদলির ক্ষেত্রেও এই দুইটি বিষয় বিবেচনা করা হতো। 

এতে অনেক যোগ্য পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে গেছে। অনেকে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে বদলি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ বিষয়ে ক্ষোভ ছিল। কিন্তু চাকরি রক্ষার স্বার্থে তারা কিছু বলেননি। যোগ্য ও কর্মদক্ষ হওয়া সত্ত্বেও মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর তাদের পুলিশের গুরুত্বহীন ইউনিটে কাজ করতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুলিশের সব বিভাগে। 

সূত্র জানায়, গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদোন্নতি ও বদলিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত প্রায় ১৬ বছরে যারা যোগ্য হওয়ার পরও পদোন্নতি পাননি তাদের এখন পদায়ন করা হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপিতে ৩০টির বেশি পদে বদলি ও পদোন্নতির আদেশ হয়। 

সূত্র জানায়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন বিসিএস ১৫ ও ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা। এই দুটি ব্যাচের অনেকেই অতিরিক্ত আইজিপি হয়ে গেলেও কেউ কেউ এসপির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি তাদের কাউকে-কাউকে আওয়ামী সরকারবিরোধী বলে অ্যাখায়িত করেছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা ৪৭ জন এসপিকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। 

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, থানা এবং আদালতে যেসব ভিকটিম মামলা করছেন সেই সব মামলা যথাযথ তদন্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পুলিশ। মামলার আগে পুলিশ যাতে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অবগত হন সেই বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং মামলার তদন্ত যথাযথ হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়াও থানাকেন্দ্রিক যেসব জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হয়েছে বা হচ্ছে সেগুলো তদন্ত করে ভিকটিমের আস্থা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। 

সূত্র জানায়, ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশ থানাকেন্দ্রিক সেবার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে থানায় আসা মানুষ যাতে যথাযথ সেবা এবং পুলিশি দিক-নির্দেশনা পান তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর পল্টন থানায় গিয়ে দেখা যায়, ডিউটি অফিসারের রুমে ৪ জন বসে আছেন। ৪ জন চার ধরনের অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। সুমন নামে একজন জানালেন, পুরানা পল্টনে তিনি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেই কোম্পানির আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। এ জন্য তিনি জিডি করতে এসেছেন। 

এ বিষয়ে ডিউটি অফিসার দীপঙ্কর খবরের কাগজকে জানান, আমরা মানুষকে যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। মানুষের অভিযোগ শুনে জিডি নেওয়া হচ্ছে। 

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে জানান, জুলাই ও আগস্টে পুলিশ আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। পুলিশের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ফেরাতে হলে পুলিশকে জনমুখী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে হবে।

বৃষ্টিতে বন্ধ ট্রেন, কক্সবাজার রেলপথের  সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
বৃষ্টিতে বন্ধ ট্রেন, কক্সবাজার রেলপথের 
সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

যখন বন্যার কারণে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটে, তখন ট্রেনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালে দেশব্যাপী টানা দীর্ঘ বন্যায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল ট্রেন। কিন্তু চট্টগ্রামে গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পানির কারণে চট্টগ্রামে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার ঘটনা নিকট অতীতে নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক সূত্র খবরের কাগজকে জানিয়েছে, এখানে মূল সমস্যা পানি নয়। রেললাইনে ব্যালাস্ট বা পাথর না থাকার কারণে ট্রেন চলাচল করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পাথর না দেওয়ায় রেললাইন নড়বড়ে হয়ে গেছে। লোকোমাস্টাররা (চালক) আর ট্রেন চালাতে সাহস পাচ্ছেন না। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ষোলশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথের অনেক জায়গায় পাথর নেই। কোথাও কোথাও পাথর দিয়ে কোনো রকমে মাটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যা এই রেলপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ব্যালাস্ট বা পাথরের কাজ কী?

রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, রেললাইনের পাথর বা ব্যালাস্টের প্রধান কাজ হলো ট্রেনের ভার বহন করে তা স্লিপার থেকে মাটির নিচে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়। ট্রেনের ওজনে যাতে মাটি দেবে না যায়, সেজন্য স্লিপারের মাধ্যমে মাটির গভীরে ওজন সমানভাবে হয়ে যায়। পাথরের স্তর ট্রেনের ধাক্কা ও কম্পন শোষণ করার কারণে যাত্রা আরামদায়ক হয় এবং রেলের যন্ত্রাংশের ওপর চাপ কম পড়ে। পাথরের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি সহজেই নিষ্কাশন হয়, আগাছা জন্মাতে পারে না। পাথরগুলো স্লিপারকে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে সঠিক অবস্থানে আটকে রাখে।  

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথের মধ্যে ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথ সংস্কারের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় রেলওয়ে কিংবা যাত্রীদের কোনো কাজে আসেনি। বরং পাথরের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়া লাইন দিয়ে সঠিক গতিতে ট্রেন চালাতে পারছেন না চালকরা। এতে ট্রেনের গতি কমে যায়। যে কারণে যাত্রী ভোগান্তি চলছিল অনেক দিন ধরে। সর্বশেষ জলাবদ্ধতার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পর ঢাকা-কক্সবাজার দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করতে ২০২৩ সালের শেষার্ধে ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথটি প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর এই রেলপথের অনুমোদিত গতিবেগ ছিল ৬০ কিলোমিটার। এর আগেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করা হয়। যার অধিকাংশ টাকা খরচ হয় চট্টগ্রামের দোহাজারী অংশে। দুই দফা সংস্কারের পরও কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন হওয়ায় ট্রেনের গতিবেগ নির্ধারণ করা হয় ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। যা ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনের গতির চেয়ে অনেক কম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্টেশন মাস্টার ও লোকোমাস্টার খবরের কাগজকে জানান, রেললাইন নড়বড়ে হওয়ার কারণে এতদিন ধরে চট্টগ্রাম-ষোলশহর ও ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথে ট্রেন স্বাভাবিক গতিতে চলছিল না। এখন বৃষ্টির কারণে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর জন্য তারা প্রকৌশল বিভাগকেই দায়ী করেন। তারা জানান, রেলওয়েতে যত সংস্কার তত দুর্নীতি। সংস্কার কাজ করে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেবার মান বাড়ে না। বরং ট্রেনের গতিবেগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও।

পাথর বসানো এবং সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম বলেন, সংস্কার কাজটি করা হয়েছে কোনোরকমে ট্রেন চলাচলের স্বার্থে। অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঠিকাদার যথাযথভাবে কাজ করেনি বলে তাকে জরিমানা করে কাজ বাতিল করা হয়েছে। পরে অবশ্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে সেখানে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন পাথর বসানো হয়েছে। তারপরও ব্যালাস্ট স্বাভাবিক রাখা যায় না। বর্তমানে ওই লাইনে পাঁচ ইঞ্চি ব্যালাস্ট রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম অনুযায়ী ১০ ইঞ্চি পাথর থাকার কথা। অতীতে বন্যার সময় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ অন্যান্য এলাকায় ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল। এখন কেন নয়–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই লাইনে যে ট্রেন চলছে তা ৬ ইঞ্চি পানিতে চলতে পারবে। সেখানে পানি জমেছে দুই ফুট ৬ ইঞ্চি। পানি ৬ ইঞ্চির নিচে না নামলে ট্রেন চলাচল করতে পারবে না। 

প্রধান প্রকৌশলী জানান, এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান লাইনের পাশ দিয়েই এই লাইন হবে। তবে সেটি নির্মাণ হবে ৫ ফুট উঁচুতে। যাতে কোনো সময় অতিভারী বর্ষণ কিংবা জলাবদ্ধতার কারণে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেদিকটা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমান দুর্ভোগের জন্য তিনি গত চার দশকের মধ্যে গত দুই দিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতকে দায়ী করে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে। যারা দুই দশক আগে বাড়ি করেছেন তাদের বাড়ির নিচতলা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে। তারা তো জানতেন না দুই দশক পরে এমন অবস্থা হবে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর কঠোর হলেও ঘাটতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর কঠোর হলেও ঘাটতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি দেখা দেয়। তবে ঘাটতি থাকলেও চলতি অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি প্রতিষ্ঠানটিকে। উল্টো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ‌রাজস্ব আদায়ে আটঘাট বেঁধে নেমেছে এনবিআর। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায় বাড়াতে একগুচ্ছ কৌশল নির্ধারণ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গত অর্থবছরে কর জিডিপি অনুপাত কমেছে। এনবিআরের সক্ষমতা বাড়েনি। রাজস্ব খাতের বেশির ভাগ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি বাড়তে পারে।

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরের কাছ থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। এর মধ্যে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা আদায়ের হিসাব কষা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় এনবিআরের তিন শাখা আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে চলতি অর্থবছরে কোন কৌশলে রাজস্ব আদায় করতে এনবিআর কাজ করবে, তা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনবিআর এসব দিকনির্দেশনা সামনে রেখে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ে একগুচ্ছ কৌশল নির্ধারণ করেছে। 

সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশল হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে নতুন করদাতা সংগ্রহে। এনবিআর কর্মকর্তাদের অভিযানে কারো ইটিআইএন এবং অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধনের আওতায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি নতুন খাত যুক্ত করা হয়েছে। এসব খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য কঠোর নজরদারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব আদায়ের কৌশল হিসেবে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে নামিদামি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এনবিআরের তিন গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং শুল্ক গোয়েন্দা শাখার কার্যক্রমে জোর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে উৎসে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে গুরুত্ব বাড়াতে, আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে মিথ্যা ঘোষণা ও অবমূল্যায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে জোরদারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটনে নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে করদাতাদের সঙ্গে খাতভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এনবিআর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততায় এবং জবাবদিহি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশ দিয়ে করদাতাদের হয়রানি না করতে সতর্ক করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে জরিপের মাধ্যমে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নিবন্ধিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যকর করাসহ উচ্চ আদালতে অনিষ্পন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে। বকেয়া পরিশোধে সর্বোচ্চ ৩ বারের বেশি সময় না বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব আদায় বাড়াতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সহায়তা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বছরে এনবিআর থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের সদস্যদের অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুর রহমান খানকে নিয়োগ করা হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনবিআর বিভক্তি ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়। প্রায় ৭/৮ মাস এনবিআরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রাজস্ব আদায় কার্যক্রম চালু হওয়ার পরও এনবিআরে অস্থিরতা থামে না। হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়।

শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তদন্তের আওতায় আনা হয়। অনেকের চাকরি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সমগ্র রাজস্ব আদায়ে। রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে থাকে। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও দেখা দেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। নতুন সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে না করতেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। জ্বালানিসংকট চরমে ওঠে। আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ কমতে থাকে। শিল্পে বিনিয়োগে ধস নামে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে কমে যায়। গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও ওই অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। এসবের প্রভাবে রাজস্ব আদায় কমেছে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেছেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং রাজস্ব আহরণের সাম্প্রতিক প্রবণতা বিবেচনায় এনবিআরের চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত কঠিন হবে। গত অর্থবছরে যেসব কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে সেসব সংকটের বেশির ভাগ এখনো বিদ্যমান আছে। সংকট থাকবে তার মধ্যেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, লক্ষ্য পূরণের চাপ শেষ পর্যন্ত নিয়মিত করদাতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপরই এসে পড়তে পারে। আগের মতোই যারা নিয়মিত কর ও ভ্যাট দেন তাদের ওপর চাপ বাড়বে। এ ধারা থেকে সরে আসার চেষ্টা করতে হবে এনবিআরকে। 

একই আশঙ্কা করে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খবরের কাগজকে বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, সেখানে অন্ততপক্ষে এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।  

অস্ত্রের ভিডিও দিয়ে বেচাকেনা !

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
অস্ত্রের ভিডিও দিয়ে বেচাকেনা !
প্রতীকী ছবি

ঠাস ঠাস বিকট শব্দে একের পর এক গুলি ছোড়া হচ্ছে। পিস্তল থেকে পাশে ছিটকে পড়ে অন্তত পাঁচটি গুলির খোসা। ভিডিওর পরের দৃশ্যেই দেখানো হয়, একটি বিছানার চাদরের ওপর রাখা আছে একটি পিস্তল, বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি এবং গুলির খোসা।

পাশাপাশি একটি কারখানাসদৃশ কক্ষ ঘুরিয়ে দেখিয়ে পিস্তল তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ফ্রেম (ডায়াস) প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ভিডিওতে বলা হয়– “যারা নিতে চান, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিলেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ‘মাল’ (অস্ত্র) পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো ঝামেলা হবে না!”

রবিবার (৫ জুলাই) প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান ভিডিওটি তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

এর পরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় অনলাইনের অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর ভাটারা থানার হেফাজতে রাখা তার ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা একটি বৈধ অস্ত্র গায়েব (লুট) হয়, কিন্তু এখনো সেই অস্ত্রের কোনো হদিস পাননি। ফলে লুট হওয়া পুলিশের সরকারি অস্ত্র-গোলাবারুদের সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ের লাইসেন্স করা অস্ত্র-গুলি কাদের হাতে রয়েছে, সেটি বড় প্রশ্ন। লুট হওয়া ওই সব আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিই কী ‘অনলাইন ও অফলাইনে’ কেনাবেচা হচ্ছে? নাকি সন্ত্রাসমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে? এভাবে চলতে থাকলে সামনে খুব খারাপ পরিণতি দেখতে হবে। তাই দলমত নির্বিশেষে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানোর আহ্বান জানান সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোপনীয় গ্রুপে বা প্রকাশ্য পেজেও আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি কেনাবেচায় এক ধরনের তৎপরতা চলছে অনেক দিন ধরেই। তবে সেগুলো অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে বা অন্য দেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে দেশের ভেতরেও এই ধরনের প্রবণতা লক্ষ করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। 

অন্যদিকে ‘মেটাল বডির’ হুবহু নকল পিস্তল-রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে। অনেক সময় সেগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই ‘খেলনার’ আড়ালে মূলত প্রকৃত (অরিজিনাল) পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে তেমন নজরদারি নেই বললেই চলে। এ ছাড়া ইদানীং কক্সবাজারসহ দেশের কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু অপতৎপরতার খবরও শোনা যাচ্ছে। ফলে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র– এসব মিলে আগামী দিনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।  

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, সেটিও অজানা। উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- চায়নিজ রাইফেল, চায়নিজ সাব-মেশিনগান (এসএমজি), দুই শতাধিক চায়নিজ পিস্তল, চার শতাধিক (৯ x ১৯ মিমি) বোরের পিস্তল, ১২ বোরের বহু শটগান এবং এলএমজিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। এ ছাড়া ওই সময়ে লুট করা হয় বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গুলি, যার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮টি। এখনো অন্তত ২ লাখ ৪৩ হাজার গুলির হদিস নেই। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের মাঝেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে ব্যাপকহারে।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের অভিযান ফলপ্রসূ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। গতকাল তিনি খবরের কাগজকে বলেন, পেশাদার সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক ক্যাডার– এই তিন শ্রেণির হাতে লুট হওয়া সব অস্ত্র-গোলাবারুদ থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও সেটি ফলপ্রসূ ছিল না। আবার বর্তমান সরকারও এ নিয়ে দৃশ্যমান অভিযান চালায়নি, বা সেভাবে অনুভব করতে পারছি না। প্রায় ২ বছর হয়ে গেল, অনেকটা সময় চলে গেছে, এই অবস্থায় আন্তরিকভাবে সম্মিলিত অভিযান চালানোর কোনো বিকল্প নেই। দলমত নির্বিশেষে নির্মোহভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামতে হবে। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান দৃশ্যমান করতে হবে। 

একই প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, ‘সরকারি বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানেই সেটি সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর বা আতঙ্কের বিষয়। আমরা বিভিন্নস্থানে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু সে অনুসারে অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চোখে পড়ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, গত ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত মোট ২২৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ২৩৯ রাউন্ড গুলি, ৮৩টি ম্যাগাজিন, ৩৭টি হাতবোমা ও ২ হাজার ২০০ কেজি গানপাউডার উদ্ধার করা হয়। 

এআইজি শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। যদিও এখনো লুট হওয়া ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ এই বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১০ এএম
স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার
ছবি: খবরের কাগজ

যানজটের রাজধানীতে কর্মব্যস্ত মানুষের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বস্তির বাহন মেট্রোরেল। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত, নিরাপদ ও সময়মতো পৌঁছানোর জন্য অল্প সময়েই এটি রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। শুধু কর্মজীবী মানুষই নন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে বেড়াতে আসা মানুষের কাছেও মেট্রোরেল এখন অন্যতম আকর্ষণ। অথচ দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক অবকাঠামোর স্টেশনগুলোর নিচে দিন দিন গড়ে উঠছে অস্থায়ী হাটবাজার। 

রাজধানীর মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও কারওয়ান বাজারে অবস্থিত মেট্রো স্টেশন এলাকায় দেখা যায়, এসব স্টেশনের নিচে বসেছে মিনি বাজার। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত এসব বাজারে বেচাকেনা চলে। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, ফলমূল, কাঁচাবাজার, ঝালমুড়ি, চটপটি-ফুচকা, জুস, পান-সিগারেট, খাবারের হোটেল, ব্যাগ, মশারি–নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যের পসরা বসে। বিভিন্ন ভ্যান ও অস্থায়ী দোকান স্টেশনের প্রবেশপথ দখল করে রাখায় যাত্রীদের চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্টেশনের সিঁড়ি, লিফটের প্রবেশমুখও আংশিকভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিকশার দীর্ঘ সারি। ফলে প্রতিদিনই হকার, রিকশাচালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগেই থাকছে।

নিয়মিত মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীরা জানান, উদ্বোধনের পর মেট্রো স্টেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা দেখে অনেকেরই মনে হতো যেন ইউরোপের কোনো আধুনিক নগরের অবকাঠামো। সাধারণ মানুষও স্টেশনগুলোকে নিজেদের সম্পদ মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কমে যাওয়ায় সেই পরিবেশ আর নেই। বর্তমানে অধিকাংশ স্টেশনের নিচেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে হকারদের অবস্থান চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে মেট্রোরেল স্টেশন এলাকাতেও। তখন থেকে বিভিন্ন স্টেশনের নিচে হকারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান কিংবা কার্যকর নজরদারি না থাকায় দিন দিন বাড়ছে দখলদারত্ব।

তাদের মতে, গত কোরবানির ঈদে উত্তরা মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে হকারদের মধ্যে ‘উৎসাহ’ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গরু-ছাগলের সারি স্টেশনের সিঁড়ি ও লিফটের কাছ পর্যন্ত চলে আসার ঘটনা ঘটে। জবাবদিহি ও বিচার না হওয়ায় সেই ঘটনার পর অন্য স্টেশনেও ছোট আকারের বাজার গড়ে উঠতে শুরু করেছে।

বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে গত রবিবার সচিবালয়ের সামনে। সেদিন প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে প্রতিবাদ জানাতে যান এক নারী। ১০ টাকার ভাতের হোটেল চালুর দাবি জানান ‘হকার ও অটোরিকশা হটাও’ আন্দোলনের কর্মী সোহানী শিফা। তাকে পুলিশ আটক করে। এর আগে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, মেট্রো স্টেশনগুলোর রাস্তা দখলের প্রতিবাদে সচিবালয়ের সামনে প্রতীকী ভাতের হোটেল চালু করবেন।

পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনের কর্মী সোহানী শিফা চিৎকার করে বলতে থাকেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেট্রো স্টেশন এখন হাটবাজার হয়ে যাচ্ছে, কেউ দেখছে না। পুরো রাজধানীতে হাঁটার জায়গা নেই, ফুটপাত ও সড়ক পুরোটাই হকারদের দখলে! ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে রাজধানী। তাও দেখার কেউ নেই। এসবের বিচার চেয়েছেন তিনি। যদিও আটকের পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান এই আন্দোলনকর্মী। 

প্রতিদিন মেট্রোরেল চলাচল শুরু হওয়ার পরপরই হকাররা দোকান সাজাতে শুরু করেন। রাতে শেষ ট্রেন চলাচল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বেচাকেনা অব্যাহত থাকে। এসব দোকানের ক্রেতাদের একটি বড় অংশ অবশ্য মেট্রোর যাত্রী।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান, স্থায়ী নজরদারি এবং স্টেশন এলাকার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের সবচেয়ে আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থার নিচে গড়ে ওঠা এই ‘মিনি হাটবাজার’ শুধু যাত্রী ভোগান্তিই বাড়াবে না, রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারও প্রতীক হয়ে থাকবে।

প্রতিদিন মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত মেট্রো স্টেশন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যাতায়াত করেন গণমাধ্যমকর্মী ফারজানা লাবনী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যানজটের এই রাজধানীতে আমাদের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও নির্ভরযোগ্য বাহন এখন মেট্রোরেল। কিন্তু যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে এখন হাটবাজার গড়ে উঠছে। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।’

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের তাগিদে মেট্রোরেল ব্যবহার করতেই হয়, তাই বিকল্পও নেই। অথচ এখন স্টেশনের নিচে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে নারীদের পোশাক থেকে শুরু করে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যই বিক্রি হচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশপথ দখল করে এসব দোকান বসায় যাত্রীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক একটি গণপরিবহনের সঙ্গে এমন দৃশ্য মোটেও মানানসই নয়।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন প্রতিদিন মেট্রোরেলে করে মতিঝিলে যান। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই মিরপুর-১০ স্টেশনে ভিড় ঠেলে চলতে হয়। দোকান আর রিকশার কারণে হাঁটার জায়গাই থাকে না। আধুনিক মেট্রো স্টেশনের নিচে এমন দৃশ্য সত্যিই হতাশাজনক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শুরুতে স্টেশনগুলো খুব পরিচ্ছন্ন ছিল। এখন মনে হয় যেন বাজারের মধ্য দিয়ে স্টেশনে ঢুকতে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এটিও গুলিস্তানের মতো হয়ে যাবে। 

পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেল শুধু একটি গণপরিবহন নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত ও নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত দোকান, ভ্যান ও জনসমাগম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। 

মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটবাজার স্থাপনকে ন্যক্কারজনক বললেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, মেট্রোরেল একটি বিশেষায়িত নগর অবকাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রো স্টেশনকে কেন্দ্র করে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকা আলাদাভাবে পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয়, যাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, যানবাহনের সংযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু ঢাকায় এ ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গেল কোরবানির ঈদে মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রমাণ করে ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ধীরে ধীরে এই এলাকা অন্য সড়ক ও ফুটপাতের মতোই অবৈধ দখলে চলে যেতে পারে। এতে শুধু যাত্রী ভোগান্তি নয়, মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সমাধানের বিষয়ে এই পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্রতিটি মেট্রো স্টেশনের চারপাশের অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকাকে ‘নো বিজনেস জোন’ ঘোষণা করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্টেশনকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত মোবিলিটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং মেট্রোরেলের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ রাখা যায়। 

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড–ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এমন অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড উচ্ছেদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত এই অভিযান পরিচালনা করছেন। পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহায়তায় আমরা স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করব।’

প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল ২০২৬ সালের মধ্যেই চালু হবে ১ হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল। গড়ে উঠবে একাডেমিক ভবন, গবেষণা কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের আবাসন।

কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো মূল অবকাঠামোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সম্পন্ন হওয়া কাজেও ধরা পড়েছে একাধিক প্রকৌশলগত ত্রুটি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছরের বাস্তবায়নকাল ও শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি এখনো প্রস্তুতিমূলক পর্যায়েই আটকে রয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৩৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। কিন্তু আইএমইডি বলছে, এই অগ্রগতির বড় অংশই জমি অধিগ্রহণ, ভূমি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশদ্বার নির্মাণের মতো প্রাথমিক কাজ। অথচ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন, গবেষণা অবকাঠামো, আবাসিক হল, ইউটিলিটি ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো কাজ এখনো নির্মাণপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০২২ সালের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রায় ৩৯১ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইটের গাঁথুনিতে অতিরিক্ত পুরু মর্টার ব্যবহার, মর্টারের মিশ্রণে অসামঞ্জস্য, যথাযথ কিউরিং না করা, ইট বসানোর ত্রুটি, দেয়ালের সরলরেখা বজায় না রাখা এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রড-সিমেন্টের কংক্রিটের কয়েকটি অংশ নির্ধারিত চাপ-সহনশীলতা অর্জন করতে পারেনি।
 
প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির আরেকটি বড় কারণ অর্থ ব্যয়ের নিম্নহার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৮ শতাংশ। এর পরের অর্থবছরেও ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ২২ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

আইএমইডির প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে কেনাকাটায় ধীরগতি। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী মোট ৬১টি ক্রয় প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ৪১টি পণ্য, ১৩টি নির্মাণ, পাঁচটি সেবা এবং দুটি ভৌত সেবা প্যাকেজ। এ পর্যন্ত মাত্র একটি পণ্য প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪০টি পণ্য প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। কোনো সেবা প্যাকেজেও অগ্রগতি নেই। আটটি নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হলেও হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন ও অন্যান্য প্রধান অবকাঠামোর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

আইএমইডি প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সীমানা বিরোধ, বন বিভাগের অনুমোদনে বিলম্ব, বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা, নকশা পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বালু সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। তবে সংস্থাটি মনে করছে, এসব সমস্যার বড় অংশই যথাযথ পরিকল্পনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকির অভাবের ফল। প্রতিবেদনে দ্রুত দরপত্র সম্পন্ন, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, কঠোর প্রকৌশল তদারকি এবং নিয়মিত স্বাধীন মান পরীক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদনের বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’