ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন তিন বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম নিপার থেমে থেমে বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা ফিফা চায় মেসি টুর্নামেন্টে থাকুক: পাতানো বিশ্বকাপ দাবি মিশরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্প বেসরকারি খাতে দিচ্ছে সরকার লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দেয় নাই: নাহিদ ইসলাম চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা বিমানবন্দরের ‘অকশন ম্যানেজার’ পরিচয়ে প্রতারণা, মূল হোতা গ্রেপ্তার ৮ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৮ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড, প্রতিপক্ষ কে? অস্ত্রের ভিডিও দিয়ে বেচাকেনা ! স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার মরক্কোর বিস্ময় উনাহির উত্থানের গল্প ৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি নতুন শুরুর স্বপ্ন সেলেসাওদের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, খেলা কবে-কখন? টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড টাইব্রেকারে গড়াল কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াল কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ আর্জেন্টিনাকে জেতাতে চাইলে অন্য দলগুলোকে আনে কেন, প্রশ্ন মিশর কোচের গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন মেসি ‘রেফারি অন্যায় করেছেন’, আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর মিশরের মোস্তফা জিকো সাবেক আফগান পেসার শাপুর জাদরানের অকালমৃত্যু বেলজিয়াম শিবিরে বড় দুঃসংবাদ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কারা, খেলা কবে? অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা রোমেরো-মেসির গোলে সমতায় ফিরল আর্জেন্টিনা জবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

গ্রাহকের মুনাফা কাটা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত শরিয়াহ আইন পরিপন্থি

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত শরিয়াহ আইন পরিপন্থি

আমানতকারীদের হিসাব থেকে দুই বছরের মুনাফা কাটার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তা শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছেন শরিয়াহ আইন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শরিয়াহ বোর্ডের মতামত নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমানতকারীদের হিসাব থেকে মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং শরিয়াহ পরিপন্থি।

এদিকে  আমানতকারীদের প্রবল আন্দোলন  এবং চাপের মুখে দুই বছরের মুনাফা কাটার অন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জমানো টাকার ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। এই মুনাফা দেওয়ার হার প্রাপ্যতার তুলনায় অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় তা গ্রাহকদের অসন্তোষ কতটুকু কমাতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, গভর্নর একক সিদ্ধান্তে কীভাবে শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা সংযোজন করেছেন। শরিয়াহ আইনের আওতায় গ্রাহকদের মুনাফাবঞ্চিত করার কথা বলে আবার চাপের মুখে সিদ্ধান্ত আংশিক পরিবর্তনের ঘোষণা শরিয়াহ আইনের ভিত্তি সম্পর্কে গ্রহাকদের মধ্যে সংশয় তৈরি করবে। শরিয়াহ আইনে গ্রাহককে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের অসাবধানতা, দুর্নীতি বা লুটের কারণে ক্ষতি হলে তার দায় গ্রাহক বা আমানতকারীরা বহন করবে না। বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষকেই দায়ভার নিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই বিধান স্পষ্টভাবে শরিয়াহ আইনে রয়েছে।

জানা গেছে, শরিয়াহ আইনে যিনি ব্যাংকে আমানত রাখেন, তাকে ‘সাহেব আল-মাল’ বলা হয়। ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় ‘মুদারিব’। লোকসান হলে তার দায় আমানতকারীদের নয়। এ দায় মুদারিব বা প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত শরিয়াহ বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের ওপর যে নিরীক্ষা করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনগুলো বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ফতোয়া দেওয়া হয়নি। তার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের হিসাব থেকে মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ড জানে না কিসের ভিত্তিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বিষয়টির সত্যতা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে খবরের কাগজকে বলেন, ‘শরিয়াহ বোর্ড এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি। তার আগেই গভর্নর ড. আহসান মনসুর শরিয়াহ বোর্ডের দু-একজনের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে বিশিষ্ট শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল্লাহ শরীফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘গ্রাহককে মুনাফাবঞ্চিত করার যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে, তা শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা শরিয়াহ আইনে বলা আছে, লোকসান হলে তার দায় সাহেব আল-মাল বা আমানতকারী বহন করবেন না। এর দায় সম্পূর্ণভাবে বহন করবেন মুদারিব বা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক যদি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই ক্ষতির দায় কোনোভাবেই গ্রাহকের ওপর দেওয়া যাবে না। শরিয়াহ আইনে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ব্যাংকগুলোকে মূলত সুশাসনের ঘাটতি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যা শরিয়াহ আইন পরিপন্থি। তবে যে ৫টি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলোর সবগুলোই যেহেতু শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, সেই হিসেবে শরিয়াহ আইনকে প্রাধান্য দিয়েই সরকারের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে যদি ব্যাংকের লস হয়, তাহলে গ্রাহক ব্যাংকের কাছে বাধ্যতামূলক লাভ চাইতে পারবেন না। তবে যে ৫টি ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে, সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে দেখা যাচ্ছে না। বরং এসব ব্যাংক থেকে টাকা লুটপাট করে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ সেখানে ব্যাংকের অবহেলার কারণে লোকসান হয়েছে। শরিয়াহ আইনে স্পষ্ট বলা আছে, ব্যাংকের অবহেলার কারণে লোকসান হলে গ্রাহক দায়ী হবেন না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক শরিয়াহ আইন অমান্য করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।’

এদিকে শরিয়াহ বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত গ্রাহকরা অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন। তারা বলছেন, ‘আমরা শরিয়াহ আইন মেনেই এসব ব্যাংকে আমানত রেখেছিলাম।’ তারা বলেন, ‘শরিয়াহ পরিপন্থি এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে এর ফলাফল ভালো হবে না।’ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব ও এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহক আলিফ রেজা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক শরিয়াহ আইন অমান্য করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমরা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আর ৫টি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠন করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, তাহলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তো বটেই, দেশের কোনো ব্যাংকের প্রতিই গ্রাহকের আস্থা থাকবে না।’    

অন্যদিকে দুই বছরের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকাররাও বেকায়দায় পড়েছেন। প্রতিদিনই ব্যাংকে ভিড় করছেন অসন্তুষ্ট গ্রাহকরা, যারা ব্যাংকারদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাংক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারছি না। প্রতিদিনই ব্যাংকে ভিড় করছেন অসন্তুষ্ট গ্রাহকরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছি।’

এ ছাড়া পাঁচ ব্যাংকের একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রশাসক বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের মনোনীত করার পর ব্যাংকে যোগ দিয়েছি। বেশ ভালোভাবেই আমরা ব্যাংকগুলোকে গুছিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ হেয়ারকাটের সিদ্ধান্তে আবার আমানতকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত
গতকাল বুধবার রাতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রশাসকের কাছে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সে অনুযায়ী, উক্ত সময়ে (২০২৪-২৫) ব্যক্তিগত (অপ্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত ও স্কিমভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেট অর্থাৎ বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা প্রদান করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব আমানত স্থিতি পুনরায় হিসাবায়ন করতে হবে। পুনঃহিসাবায়নের ফলে যে আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা উল্লেখ করে একটি সমন্বয় বিবরণীসহ সংশোধিত আমানত ও মুনাফার তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া মাসিক বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর মুনাফাভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে যদি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাংক রেটের চেয়ে বেশি মুনাফা ইতোমধ্যে প্রদান করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতে প্রদেয় মুনাফার বিপরীতে কিস্তি আকারে সমন্বয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পরিশোধসূচি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানত ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের আমানতের ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অস্ত্রের ভিডিও দিয়ে বেচাকেনা !

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
অস্ত্রের ভিডিও দিয়ে বেচাকেনা !
প্রতীকী ছবি

ঠাস ঠাস বিকট শব্দে একের পর এক গুলি ছোড়া হচ্ছে। পিস্তল থেকে পাশে ছিটকে পড়ে অন্তত পাঁচটি গুলির খোসা। ভিডিওর পরের দৃশ্যেই দেখানো হয়, একটি বিছানার চাদরের ওপর রাখা আছে একটি পিস্তল, বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি এবং গুলির খোসা।

পাশাপাশি একটি কারখানাসদৃশ কক্ষ ঘুরিয়ে দেখিয়ে পিস্তল তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ফ্রেম (ডায়াস) প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ভিডিওতে বলা হয়– “যারা নিতে চান, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিলেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ‘মাল’ (অস্ত্র) পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো ঝামেলা হবে না!”

রবিবার (৫ জুলাই) প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান ভিডিওটি তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

এর পরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় অনলাইনের অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর ভাটারা থানার হেফাজতে রাখা তার ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা একটি বৈধ অস্ত্র গায়েব (লুট) হয়, কিন্তু এখনো সেই অস্ত্রের কোনো হদিস পাননি। ফলে লুট হওয়া পুলিশের সরকারি অস্ত্র-গোলাবারুদের সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ের লাইসেন্স করা অস্ত্র-গুলি কাদের হাতে রয়েছে, সেটি বড় প্রশ্ন। লুট হওয়া ওই সব আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিই কী ‘অনলাইন ও অফলাইনে’ কেনাবেচা হচ্ছে? নাকি সন্ত্রাসমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে? এভাবে চলতে থাকলে সামনে খুব খারাপ পরিণতি দেখতে হবে। তাই দলমত নির্বিশেষে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানোর আহ্বান জানান সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোপনীয় গ্রুপে বা প্রকাশ্য পেজেও আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি কেনাবেচায় এক ধরনের তৎপরতা চলছে অনেক দিন ধরেই। তবে সেগুলো অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে বা অন্য দেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে দেশের ভেতরেও এই ধরনের প্রবণতা লক্ষ করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। 

অন্যদিকে ‘মেটাল বডির’ হুবহু নকল পিস্তল-রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে। অনেক সময় সেগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই ‘খেলনার’ আড়ালে মূলত প্রকৃত (অরিজিনাল) পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে তেমন নজরদারি নেই বললেই চলে। এ ছাড়া ইদানীং কক্সবাজারসহ দেশের কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু অপতৎপরতার খবরও শোনা যাচ্ছে। ফলে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র– এসব মিলে আগামী দিনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।  

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, সেটিও অজানা। উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- চায়নিজ রাইফেল, চায়নিজ সাব-মেশিনগান (এসএমজি), দুই শতাধিক চায়নিজ পিস্তল, চার শতাধিক (৯ x ১৯ মিমি) বোরের পিস্তল, ১২ বোরের বহু শটগান এবং এলএমজিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। এ ছাড়া ওই সময়ে লুট করা হয় বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গুলি, যার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮টি। এখনো অন্তত ২ লাখ ৪৩ হাজার গুলির হদিস নেই। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের মাঝেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে ব্যাপকহারে।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের অভিযান ফলপ্রসূ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। গতকাল তিনি খবরের কাগজকে বলেন, পেশাদার সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক ক্যাডার– এই তিন শ্রেণির হাতে লুট হওয়া সব অস্ত্র-গোলাবারুদ থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও সেটি ফলপ্রসূ ছিল না। আবার বর্তমান সরকারও এ নিয়ে দৃশ্যমান অভিযান চালায়নি, বা সেভাবে অনুভব করতে পারছি না। প্রায় ২ বছর হয়ে গেল, অনেকটা সময় চলে গেছে, এই অবস্থায় আন্তরিকভাবে সম্মিলিত অভিযান চালানোর কোনো বিকল্প নেই। দলমত নির্বিশেষে নির্মোহভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামতে হবে। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান দৃশ্যমান করতে হবে। 

একই প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, ‘সরকারি বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানেই সেটি সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর বা আতঙ্কের বিষয়। আমরা বিভিন্নস্থানে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু সে অনুসারে অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চোখে পড়ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, গত ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত মোট ২২৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ২৩৯ রাউন্ড গুলি, ৮৩টি ম্যাগাজিন, ৩৭টি হাতবোমা ও ২ হাজার ২০০ কেজি গানপাউডার উদ্ধার করা হয়। 

এআইজি শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। যদিও এখনো লুট হওয়া ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ এই বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১০ এএম
স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার
ছবি: খবরের কাগজ

যানজটের রাজধানীতে কর্মব্যস্ত মানুষের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বস্তির বাহন মেট্রোরেল। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত, নিরাপদ ও সময়মতো পৌঁছানোর জন্য অল্প সময়েই এটি রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। শুধু কর্মজীবী মানুষই নন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে বেড়াতে আসা মানুষের কাছেও মেট্রোরেল এখন অন্যতম আকর্ষণ। অথচ দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক অবকাঠামোর স্টেশনগুলোর নিচে দিন দিন গড়ে উঠছে অস্থায়ী হাটবাজার। 

রাজধানীর মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও কারওয়ান বাজারে অবস্থিত মেট্রো স্টেশন এলাকায় দেখা যায়, এসব স্টেশনের নিচে বসেছে মিনি বাজার। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত এসব বাজারে বেচাকেনা চলে। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, ফলমূল, কাঁচাবাজার, ঝালমুড়ি, চটপটি-ফুচকা, জুস, পান-সিগারেট, খাবারের হোটেল, ব্যাগ, মশারি–নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যের পসরা বসে। বিভিন্ন ভ্যান ও অস্থায়ী দোকান স্টেশনের প্রবেশপথ দখল করে রাখায় যাত্রীদের চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্টেশনের সিঁড়ি, লিফটের প্রবেশমুখও আংশিকভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিকশার দীর্ঘ সারি। ফলে প্রতিদিনই হকার, রিকশাচালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগেই থাকছে।

নিয়মিত মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীরা জানান, উদ্বোধনের পর মেট্রো স্টেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা দেখে অনেকেরই মনে হতো যেন ইউরোপের কোনো আধুনিক নগরের অবকাঠামো। সাধারণ মানুষও স্টেশনগুলোকে নিজেদের সম্পদ মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কমে যাওয়ায় সেই পরিবেশ আর নেই। বর্তমানে অধিকাংশ স্টেশনের নিচেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে হকারদের অবস্থান চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে মেট্রোরেল স্টেশন এলাকাতেও। তখন থেকে বিভিন্ন স্টেশনের নিচে হকারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান কিংবা কার্যকর নজরদারি না থাকায় দিন দিন বাড়ছে দখলদারত্ব।

তাদের মতে, গত কোরবানির ঈদে উত্তরা মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে হকারদের মধ্যে ‘উৎসাহ’ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গরু-ছাগলের সারি স্টেশনের সিঁড়ি ও লিফটের কাছ পর্যন্ত চলে আসার ঘটনা ঘটে। জবাবদিহি ও বিচার না হওয়ায় সেই ঘটনার পর অন্য স্টেশনেও ছোট আকারের বাজার গড়ে উঠতে শুরু করেছে।

বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে গত রবিবার সচিবালয়ের সামনে। সেদিন প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে প্রতিবাদ জানাতে যান এক নারী। ১০ টাকার ভাতের হোটেল চালুর দাবি জানান ‘হকার ও অটোরিকশা হটাও’ আন্দোলনের কর্মী সোহানী শিফা। তাকে পুলিশ আটক করে। এর আগে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, মেট্রো স্টেশনগুলোর রাস্তা দখলের প্রতিবাদে সচিবালয়ের সামনে প্রতীকী ভাতের হোটেল চালু করবেন।

পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনের কর্মী সোহানী শিফা চিৎকার করে বলতে থাকেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেট্রো স্টেশন এখন হাটবাজার হয়ে যাচ্ছে, কেউ দেখছে না। পুরো রাজধানীতে হাঁটার জায়গা নেই, ফুটপাত ও সড়ক পুরোটাই হকারদের দখলে! ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে রাজধানী। তাও দেখার কেউ নেই। এসবের বিচার চেয়েছেন তিনি। যদিও আটকের পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান এই আন্দোলনকর্মী। 

প্রতিদিন মেট্রোরেল চলাচল শুরু হওয়ার পরপরই হকাররা দোকান সাজাতে শুরু করেন। রাতে শেষ ট্রেন চলাচল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বেচাকেনা অব্যাহত থাকে। এসব দোকানের ক্রেতাদের একটি বড় অংশ অবশ্য মেট্রোর যাত্রী।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান, স্থায়ী নজরদারি এবং স্টেশন এলাকার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের সবচেয়ে আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থার নিচে গড়ে ওঠা এই ‘মিনি হাটবাজার’ শুধু যাত্রী ভোগান্তিই বাড়াবে না, রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারও প্রতীক হয়ে থাকবে।

প্রতিদিন মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত মেট্রো স্টেশন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত যাতায়াত করেন গণমাধ্যমকর্মী ফারজানা লাবনী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যানজটের এই রাজধানীতে আমাদের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও নির্ভরযোগ্য বাহন এখন মেট্রোরেল। কিন্তু যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে এখন হাটবাজার গড়ে উঠছে। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।’

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের তাগিদে মেট্রোরেল ব্যবহার করতেই হয়, তাই বিকল্পও নেই। অথচ এখন স্টেশনের নিচে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে নারীদের পোশাক থেকে শুরু করে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যই বিক্রি হচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশপথ দখল করে এসব দোকান বসায় যাত্রীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক একটি গণপরিবহনের সঙ্গে এমন দৃশ্য মোটেও মানানসই নয়।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন প্রতিদিন মেট্রোরেলে করে মতিঝিলে যান। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই মিরপুর-১০ স্টেশনে ভিড় ঠেলে চলতে হয়। দোকান আর রিকশার কারণে হাঁটার জায়গাই থাকে না। আধুনিক মেট্রো স্টেশনের নিচে এমন দৃশ্য সত্যিই হতাশাজনক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শুরুতে স্টেশনগুলো খুব পরিচ্ছন্ন ছিল। এখন মনে হয় যেন বাজারের মধ্য দিয়ে স্টেশনে ঢুকতে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এটিও গুলিস্তানের মতো হয়ে যাবে। 

পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেল শুধু একটি গণপরিবহন নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত ও নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত দোকান, ভ্যান ও জনসমাগম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। 

মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটবাজার স্থাপনকে ন্যক্কারজনক বললেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, মেট্রোরেল একটি বিশেষায়িত নগর অবকাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রো স্টেশনকে কেন্দ্র করে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকা আলাদাভাবে পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয়, যাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, যানবাহনের সংযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু ঢাকায় এ ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গেল কোরবানির ঈদে মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রমাণ করে ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ধীরে ধীরে এই এলাকা অন্য সড়ক ও ফুটপাতের মতোই অবৈধ দখলে চলে যেতে পারে। এতে শুধু যাত্রী ভোগান্তি নয়, মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সমাধানের বিষয়ে এই পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্রতিটি মেট্রো স্টেশনের চারপাশের অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকাকে ‘নো বিজনেস জোন’ ঘোষণা করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্টেশনকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত মোবিলিটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং মেট্রোরেলের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ রাখা যায়। 

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড–ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এমন অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড উচ্ছেদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত এই অভিযান পরিচালনা করছেন। পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহায়তায় আমরা স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করব।’

প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
প্রস্তুতিমূলক কাজেই ৪ বছর পার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল ২০২৬ সালের মধ্যেই চালু হবে ১ হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল। গড়ে উঠবে একাডেমিক ভবন, গবেষণা কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের আবাসন।

কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো মূল অবকাঠামোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সম্পন্ন হওয়া কাজেও ধরা পড়েছে একাধিক প্রকৌশলগত ত্রুটি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছরের বাস্তবায়নকাল ও শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি এখনো প্রস্তুতিমূলক পর্যায়েই আটকে রয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৩৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। কিন্তু আইএমইডি বলছে, এই অগ্রগতির বড় অংশই জমি অধিগ্রহণ, ভূমি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশদ্বার নির্মাণের মতো প্রাথমিক কাজ। অথচ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন, গবেষণা অবকাঠামো, আবাসিক হল, ইউটিলিটি ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো কাজ এখনো নির্মাণপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

জানা গেছে, ২০২২ সালের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রায় ৩৯১ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইটের গাঁথুনিতে অতিরিক্ত পুরু মর্টার ব্যবহার, মর্টারের মিশ্রণে অসামঞ্জস্য, যথাযথ কিউরিং না করা, ইট বসানোর ত্রুটি, দেয়ালের সরলরেখা বজায় না রাখা এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রড-সিমেন্টের কংক্রিটের কয়েকটি অংশ নির্ধারিত চাপ-সহনশীলতা অর্জন করতে পারেনি।
 
প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির আরেকটি বড় কারণ অর্থ ব্যয়ের নিম্নহার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৮ শতাংশ। এর পরের অর্থবছরেও ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ২২ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

আইএমইডির প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে কেনাকাটায় ধীরগতি। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী মোট ৬১টি ক্রয় প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ৪১টি পণ্য, ১৩টি নির্মাণ, পাঁচটি সেবা এবং দুটি ভৌত সেবা প্যাকেজ। এ পর্যন্ত মাত্র একটি পণ্য প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪০টি পণ্য প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। কোনো সেবা প্যাকেজেও অগ্রগতি নেই। আটটি নির্মাণ প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হলেও হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন ও অন্যান্য প্রধান অবকাঠামোর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

আইএমইডি প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সীমানা বিরোধ, বন বিভাগের অনুমোদনে বিলম্ব, বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা, নকশা পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বালু সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। তবে সংস্থাটি মনে করছে, এসব সমস্যার বড় অংশই যথাযথ পরিকল্পনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকির অভাবের ফল। প্রতিবেদনে দ্রুত দরপত্র সম্পন্ন, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, কঠোর প্রকৌশল তদারকি এবং নিয়মিত স্বাধীন মান পরীক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদনের বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
বরিশালে দুই মামলা: মৃত, কারাবন্দিরা আসামি, মামলা নিয়ে প্রশ্ন
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বরিশালের বানারীপাড়া ও মহানগরে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বানারীপাড়ায় একটি মামলায় দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকা ও আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গভীর রাতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অন্যদিকে বরিশাল মহানগরের একটি নালিশি মামলায় চারজন মৃত ব্যক্তি, কারাগারে থাকা সাবেক এক সংসদ সদস্য, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বিএনপির ছয় নেতা ও জামায়াতপন্থি এক পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধেও মিছিল, বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বানারীপাড়া থানায় গত ১৯ জুন রাত ৪টা ৩৫ মিনিটে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নেতা মো. রাসেল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ৪৪০ নেতা-কর্মীর পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে গরদ্বার গ্রামে বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো এবং বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দাবি, মামলায় নামধারী ৪০ আসামির অধিকাংশই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দীর্ঘদিন এলাকায় নেই। তাদের ও আসামিদের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মওলাদ হোসেন সানা ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে এলাকায় যাননি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিকেও কয়েক বছর ধরে এলাকায় দেখা যায়নি। একইভাবে পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, আওয়ামী লীগ কর্মী জসিম মীর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা ও ছাত্রলীগের সভাপতি ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রায়ও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে রয়েছেন। এসব ব্যক্তি কীভাবে ওই রাতের ঘটনায় অংশ নিলেন?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. একরামুল হক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এর বেশি মন্তব্য করা যাবে না বলে তিনি জানান।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বলেন, মামলায় আবদুল্লাহ ফকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার অন্যতম আসামি ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হয়রানির উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার ঘটনার সময় এবং মামলার দায়েরের সময়ের পার্থক্য তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। আর গভীর রাতে মামলাটি করা হয়েছে, এটিও কি সম্ভব?

একই মামলার আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, তিনি মামলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন, তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, ‘বিষয়টি পরে জেনেছি। তদন্তাধীন মামলা নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাই না। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বাদী মো. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নালিশি মামলায় মৃত চারজনও আসামি

গত ৫ জুলাই বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক মারজুক আবদুল্লাহ একটি নালিশি মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি সরাসরি আমলে না নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ২৪৮ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০, ১৬ ও ২২ জুন তারা বরিশাল নগরে মিছিল, সড়ক অবরোধ, বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নাশকতা চালান। তবে মামলার আসামির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর রহমান ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি, ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক হুমায়ুন ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ, ২২৫ নম্বর আসামি এইচ এম হাফিজুর রশিদ ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ১৯৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী হাওলাদার একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান। অথচ তাদের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৯৮ নম্বর আসামি মৃত আবুল ফারুক হুমায়ুনের ছেলে শহরিয়ার রিজন আত্মগোপনে থেকে খবরের কাগজকে বলেন, ‘তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম আমি গোপনে এসে ককটেল মেরে আবার চলে গেলাম। কিন্তু বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। তিনি কি কবর থেকে উঠে এসে বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন?

এ ছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এবং ১৫১ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া ১ নম্বর আসামি সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ১২ নম্বর আসামি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন। ৩ নম্বর আসামি সজ্জাত সেরনিয়াবাত ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামিই দীর্ঘ দুই বছর ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। দুই বছর তাদের এলাকায় দেখা যায়নি।

একই মামলায় ১৭১ নম্বর আসামি করা হয়েছে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর মজিদা বোরহানকে। ১৪৯ নম্বরে রয়েছেন নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মো. ইউনুস। ১৫৮ নম্বরে রয়েছেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মাসুম। ১৬৩ নম্বরে রয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হুমায়ন কবির, ১৬৫ নম্বরে সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন এবং ১৭৪ নম্বরে সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর সেলিনা আক্তার।

এ ছাড়া ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) নেতা এইচ এম রফিকুল বাড়ির স্ত্রী কাজী আফরোজাকে।

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে আমার মা, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান উপদেষ্টা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর মজিদা বোরহানকে। তাকে কী হিসেবে আসামি করা হয়েছে, সেটি জানার জন্য বাদীর সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’
কাজী আফরোজা বলেন, ‘মামলার কাগজ সাজিয়ে আমার কাছে লোক পাঠানো হয়েছিল। মোটা অঙ্কের টাকা দিলে মামলায় নাম থাকবে না, এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়। যেহেতু আমি আওয়ামী লীগ করি না এবং আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডেও ছিলাম না, তাই টাকা দিইনি। এখন দেখি, আমার নামও আসামির তালিকায় দেওয়া হয়েছে।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, ‘শুনেছি, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইউনুস মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক মাসুমসহ আরও কয়েকজন বিএনপি নেতাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে।’
বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘বোমা-ককটেল ফাটিয়ে মিছিল হলে আমরা অবশ্যই জানতাম। অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেনি। আদালত যেহেতু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করব।’

অভিযোগের বিষয়ে মারজুক আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নগরে মিছিল করেছেন এবং বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। এসব ঘটনার ভিত্তিতেই তিনি মামলা করেছেন। আসামির তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সাক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। কোনো ভুল থাকলে পরে সংশোধন করা হবে।

এদিকে দুটি মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক দাবি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ফৌজদারি মামলায় এজাহার বা অভিযোগপত্রে মৃত ব্যক্তি, ঘটনার সময় কারাগারে থাকা ব্যক্তি কিংবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বাস্তবসম্মত সুযোগ ছিল না–এমন ব্যক্তিদের আসামি করা হলে তা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আদালত কোনো নালিশি মামলা সরাসরি গ্রহণ না করে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, আসামিদের অবস্থান, ঘটনাস্থলে উপস্থিতি, আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিরপরাধ ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে—এমনটি প্রমাণিত হলে তা আদালতের দৃষ্টিতে গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একইভাবে তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে সব তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে আদালতে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দাখিল করা।

শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে
ছবি: সংগৃহীত

চলতি উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষার তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৩২ হাজার ১২৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর আগে গত শনিবার দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৩২৭ ও গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের পরীক্ষায় ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করা।

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গতকাল সোমবার দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বর্তমান নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে যাদের প্রস্তুতি ভালো নয়, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে কেউ কেউ সমালোচনা করছে বা ট্রল করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয়েছে। নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে উপস্থিতি কমেছে, কিন্তু কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটা উঠে এসেছে। এই ক্ষত শুকাতে এখন সরকারকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

পাবলিক পরীক্ষার আগে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে টেস্ট পরীক্ষা হয়। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি যাচাই প্রক্রিয়াটির দুর্বলতারও জানান দিচ্ছে, বলেন উপাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনারারি অধ্যাপক ও সাবেক পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘এই হারে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। সরকারকে সেটি বুঝতে হবে। আমরা কতটা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি, সেটিও দেখতে হবে। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, রাস্তায় নামলেই সবকিছু পেয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফেরা উচিত ছিল। সেটি হয়নি।’

প্রসঙ্গত, গতকাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার তৃতীয় দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যাও প্রথম দুই দিনের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ৪৮ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয় দিনে এই সংখ্যা ছিল ১৭ ও প্রথম দিনে ছিল ৭।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় দিনে গতকাল ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় মোট ৯ লাখ ৯৯ হাজার ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেয় ৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৭ জন। বোর্ডগুলোতে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে গতকাল বহিষ্কার করা হয়েছে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে।

তাদের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ১০, কুমিল্লায় ৮, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭ জন করে, বরিশাল বোর্ডে ৪, রাজশাহী ও যশোর বোর্ডে ৩ জন করে এবং সিলেট বোর্ডে ১ জন।

এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন-২, ক্যারিয়ার গাইডেন্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছে ৩ জন।

উল্লেখ্য, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী। এর আগের বছর ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন। ওই বছর বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরে শুরু হয়েছিল।

এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হারও উদ্বেগজনক। এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরমই পূরণ করেনি। অর্থাৎ তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী, মানে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। প্রথম তিন দিনের অনুপস্থিতির সংখ্যাটি যোগ করলে পরীক্ষা না দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে।