খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। জেলার সদর হাসপাতালের করা পরীক্ষায় রিপোর্ট এসংক্রান্ত ১০টি কাউন্টের সবগুলোতেই এসেছে ‘নরমাল’। হাসপাতালের গাইনোকলজিস্ট ডা. জয়া চাকমাসহ ৩ চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত সে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ কথা জানা যায়।
খাগড়াছড়ি ও গুইমারার ২ রিজিয়ন কমান্ডারের বরাতে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে পাহাড় অশান্ত করার পরিকল্পনা ছিল ইউপিডিএফের। এর আগে মামলার এজাহারে ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় মেয়েটি। পরে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে।
ওই মারমা কিশরীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, সড়ক অবরোধ। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার মধ্যেই ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষ, প্রাণ যায় তিনজনের। হামলা হয় সেনাবাহিনীর গাড়িতে, আহত হন সেনা কর্মকর্তা বিজিবি সদস্যসহ পাহাড়ি ও বাঙালীরা।
ভুক্তভোগী সেই কিশোরীর তাৎক্ষণিক মেডিকেল পরীক্ষা হয় জেলার সদর হাসপাতালে গাইনেকোলজিস্ট ডাক্তার জয়া চাকমার নেতৃত্বে। তিন পৃষ্ঠার রিপোর্টে ধর্ষণের লক্ষণ পাওয়া যায় এমন ১০টি কাউন্টের কোনোটিতেই মেলেনি আলামত, সবগুলোই ‘নরমাল’। শরীরের ভেতর-বাহির কোথাও ধর্ষণের চিহ্ন পায়নি তিন সদস্যের চিকিৎসক দল।
রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার জয়া চাকমা, মেডিকেল অফিসার মীর মোশারফ হোসেন ও ডাক্তার নাহিদ আক্তার। যদিও মামলার এজাহারে ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় মেয়েটি। পরে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে। পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে।
এদিকে খাগড়াছড়ির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করছে সেনাবাহিনী। বুধবার পৃথকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন খাগড়াছড়ি ও গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার।
গুইমারা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবুল কালাম শামসুদ্দিন রানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাহাড়ি যেই সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আছে, তাদের মধ্যে বিশেষ করে ইউপিডিএফ যারা আছে, আমাদের এই এলাকায় যারা সকল ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং পাহাড়ি অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পিছনে তারাই দায়ী। আমরা সবসময় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদেরকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে এই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা আমরা সবসময় চালিয়ে যাচ্ছি এবং এটা চলমান থাকবে।’
খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠনের বিষয়টি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এ ব্যাপারে সকল প্রমাণাদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আছে। আমাদের কাছেও সকল প্রমাণাদে আছে ভিডিও আছে এবং একই সাথে সকল ধরনের অপপ্রচার বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই বাংলাদেশের যে অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’