দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মতো সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছেন সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের বাংলা বাজার সংলগ্ন মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছেন।
দীর্ঘ আড়াইশ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও চান্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধর্মীয় রীতি বা ইবাদাত পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীর (ক.) পৃথিবীর যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও চান্দ্রমাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ধর্মীয় সব রীতি পালন করার অনুমতি দিয়ে ফতোয়া জারি করেন। এরপর থেকে ওই দরবারের অনুসারীরা নিয়মটি অনুসরণ করে সব ধরনের ধর্মীয় ইবাদাত পালন করে আসছেন।
এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, মির্জাখীল গ্রাম ছাড়াও সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সাইরতলি, এওচিয়া, খাগরিয়া, ছদাহা, গাটিয়াডেঙ্গা, বাজালিয়া; লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চরম্বা ও চুনতি; বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডেংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালীপুর; পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়া; সীতাকুণ্ড উপজেলার মাহমুদাবাদ, বারৈয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, মহালংকা, মিরসরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, রাউজান ও ফটিকছড়ি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মনোহরদী, মঠখোলা, বেলাব, আবদুল্লাহনগর, কাপাসিয়া, চাঁদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক গ্রামের বহুসংখ্যক অনুসারী আজ (বুধবার) রোজা রেখেছেন।
মির্জাখীল দরবার শরীফের মেঝো সাহেবজাদা মোহাম্মদ মছুদুর রহমান বলেন, মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা আজ রোজা রেখেছেন। প্রায় আড়াইশ বছর ধরে এই রীতি চলমান রয়েছে।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম