সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশুদের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, রাজধানীতে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সংখ্যা, তাদের ধরন, কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এসব অপরাধ করছে, তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরের সংখ্যা ৪ কোটি। এই ৪ কোটির মধ্যে ১৩ লাখ শিশু ও কিশোর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত। যাদের ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ৯ লাখ ১০ হাজার শিশু-কিশোর বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি খবরের কাগজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মোবাইল ফোন চুরিতে শিশু টিমের ব্যবহার বেড়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর লিংক রোডের জাপান গার্ডেন সিটির টোকিও মার্কেটের সামনে মোবাইল ফোন চুরি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত হচ্ছে শিশুরা। যাদের বয়স ৫ থেকে ১১ বছর।
একজন ভুক্তভোগী জানান, কিছুদিন আগে তিনি টোকিও মার্কেটের সামনে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন, এমন সময় পাঁচ-ছয় বছর বয়সী এক শিশু কিছু বুঝে ওঠার আগে হাত থেকে মোবাইল নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
সরেজমিনে অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, টোকিও মার্কেটের সামনে ফুটপাতে অসংখ্য অস্থায়ী খাবার দোকান। এখানে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের আনাগোনা। আর এই ভিড়ের সুযোগে শিশুরা মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন চুরি করে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, এসব শিশু বেশির ভাগই জেনেভা ক্যাম্পের। মোবাইল চোর চক্রের হোতারা শিশুদের এসব কাজে নিরাপদ মনে করে।
বাংলাদেশে শিশু অপরাধ দমনে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবারেরও রয়েছে বহুবিধ ভূমিকা। আজকের শিশুরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী দিনের জাতি গঠনে পূর্ণমাত্রায় শিশুর মেধা বিকাশ নিশ্চিত করা এবং শিশুর কল্যাণ, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শিশু আইন-২০১৩ প্রণীত হয়েছে। পারিবারিক আদর্শের বিষয়টিও শিশুদের কাছে আজ প্রায় বিলুপ্ত। অনেক শিশু পারিবারিক কারণে ঘরছাড়া ও ভাসমান জীবনযাপন করছে। ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে শিশুরা। তারা ড্যান্ডিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব শিশুকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে স্থানীয় একশ্রেণির অপরাধী চক্র।
আদাবর থানায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে কাজ করেন এসআই মামুন আলী। তিনি খবরের কাগজকে জানান, প্রতিদিনই আদাবর থানা এলাকায় কমপক্ষে ১০টি মোবাইল ফোন চুরি হয়। প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ অভিযোগ জমা পড়ে।
শিশু আইন-১৯৭৪ কিশোর অপরাধীদের প্রতি পুলিশের ভূমিকা নির্ধারণ করা হলেও তা যথাযথভাবে পালন করা হয় না। শিশু-কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা রয়েছে। পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। অপরাধীর মূল হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে না পারলে কোমলমতি শিশুরা ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে সমাজে চিহ্নিত হবে।