চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবার চালের দামে এখন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। রমজানে চালের বিক্রি কমলেও আমদানি বেড়েছে। খবরের কাগজের তথ্যমতে, সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৮৬ টাকায় উঠেছে। আর সবচেয়ে ভালো মোজাম্মেল মিনিকেটের দাম ৬ টাকা বেড়ে ৯৬ টাকায় ঠেকেছে। দাম বাড়ার কারণে বিক্রি কমে গেছে। পাইকারির প্রভাবে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, বাজারে গত এক বছরে মিনিকেট চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ, যা মাঝারি চালের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ এবং মোটা চালের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ। ইরি-বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের বেশির ভাগই এখন কৃষকের হাতে নেই। মিলমালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে মজুত থাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভবান হওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভোক্তা ও চাষিরা। সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। তার পরও থামছে না তাদের দৌরাত্ম্য।
তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সাড়ে আট মাসে মোট প্রায় ৬ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ চালের আমদানি যথেষ্ট। সামনে এপ্রিলে বাজারে বোরো ধান পাওয়া যাবে, যা দেশের বার্ষিক চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ উৎপাদিত হয়। আমদানি করা চাল ও দেশের উৎপাদিত চাল এসব মিলে ঘাটতি থাকার কথা নয়। দামও বাড়ানো অমূলক। মজুতকারী ও সিন্ডিকেট মুনাফা লাভের আশায় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঊর্ধ্বমুখী চালের দামে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, মিলার এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পারস্পরিক দোষারোপে ব্যস্ত। মাঝখান থেকে ভোক্তার কাছ থেকে বাড়তি মুনাফার ফায়দা লুটে নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। বিগত সরকারের আমলেও এই সিন্ডিকেট চক্র সব সময় ছিল সোচ্চার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসেও আমরা লক্ষ করছি সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তার কার্যকর কোনো সমাধান চোখে পড়ছে না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা রমজানে বাজার তদারকির ব্যাপারে কঠোর হওয়ার বিষয়ে আগে থেকে বললেও এবং বিক্ষিপ্ত কিছু অভিযান পরিচালনা হলেও বাজারে তার ইতিবাচক প্রতিফলন নেই। সরকার আইন করে দিয়েছে, যে বস্তায় চাল আমদানি হবে সেই বস্তাভর্তি চালই বাজারে আনতে হবে, যাতে আমদানি করা চাল মজুতদারির শিকার না হয়। কিন্তু এই আইনের কতটুকু বাজারে বাস্তবায়ন হচ্ছে তা দেখা জরুরি। চাল আমদানিকারকদের সরকার আমদানিতে উৎসাহ দিতে শুল্ককর প্রত্যাহার করলেও এর পুরো সুফলটা ভোক্তার পরিবর্তে আমদানিকারকরাই পাচ্ছেন। ভোক্তাদের জন্য এটি হতাশার বিষয়। চালের বাজার অস্বাভাবিক করার নেপথ্যে যেসব অসাধু সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কার্যকর উদ্যোগের সফলতা প্রত্যাশা করছি।