ঈদুল ফিতর আসন্ন। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের মধ্যে বেড়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিবছর এ দিনটিকে ঘিরে ঘরে ফেরা মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। অনেকেই বাস ও রেল ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটসংকটে ভোগেন। বিশেষ করে যানজটের কারণে ঘরমুখী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়। এ সময় দেশের দুটি মহাসড়কে খননকাজ, অব্যবস্থাপনা ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। দেশে বড় দুটি উৎসবের সময় দেখা যায় টোলঘরকেন্দ্রিক দীর্ঘ যানজট। এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরেও টোলঘরে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশে স্বয়ংক্রিয় টোলব্যবস্থা চালু হয়েছে অনেক আগেই, কিন্তু তার ব্যবহার নেই বললেই চলে।
আবার ঈদ এলে পরিবহনগুলোর শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যানজট কঠিন আকার ধারণ করে। ঈদুল ফিতরের আগে বাস ও রেলের টিকিটের কালোবাজারিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। কাঙ্ক্ষিত বাসের টিকিট পেতে বাড়তি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। সরকার নীতিনির্ধারণীদের নিয়ে প্রতিবছর দুর্ভোগ কমানোর জন্য নানা রকম পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না। ৩ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। টানা ৯ দিন ছুটি পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। এবার দীর্ঘ ছুটি পেয়ে অনেকেই আগেভাগে গ্রামে চলে গেছেন। ফলে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে নৌ-পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান। টার্মিনালসহ দূরপাল্লার লঞ্চে বিশেষ করে রাতে যাতে নাশকতা না হয়, সে জন্য নৌ-পুলিশ
কাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঈদের আগের চার দিনে ঢাকা ছাড়েন ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। সে হিসাবে ঈদের সময় প্রতিদিন গড়ে বাড়ি যান ৩০ লাখ মানুষ। গণপরিবহনগুলো ২২ লাখ মানুষ পরিবহন করার সক্ষমতা রাখে। বাস, রেল, লঞ্চ ও বিমানে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সড়কে বিআরটিএর সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইনসও সক্রিয় রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্য কাজ করবেন। হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদেরও এ বিষয়ে প্রস্তুতি রাখতে হবে। যানজটের সুযোগে কতিপয় দুর্বৃত্ত যাত্রীবাহী যানবাহনে ছিনতাই, ডাকাতি করে থাকে।
এতে ঈদযাত্রা বিষাদে পরিণত হয়। এ অবস্থার উত্তরণে সম্প্রতি রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়ক, সেতু ও রেলপথের যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ঈদুল ফিতরে মহাসড়কের যানজট হতে পারে- এমন ১৫৯টি সম্ভাব্য স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলোর সড়ক ঈদের সাত দিন আগে মেরামত বা সংস্কার করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোয় যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হোক, সেটিই প্রত্যাশা।