এক স্বামী জুয়ার নেশায় তার স্ত্রীকে বাজি ধরেন। এতে হারলে জয়ী আটজন তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাঘপতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী মদ ও জুয়ার নেশায় আসক্ত। নেশা করলে প্রায়ই তাকে মারধর করত। একসময় তার স্বামী তাকে জুয়ার খেলায় বাজি হিসেবে পর্যন্ত রেখে দেয়।
তিনি বলেন, 'স্বামী ও অন্য অভিযুক্তরা আমাকে মারধর করত এবং আমাকে জোর করে অন্য পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করত।'
তিনি আরও জানান, 'স্বামী জুয়ায় হেরে যাওয়ার পর আটজন আমাকে ধর্ষণ করেছে।' তিনি তাদের মধ্যে তিনজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন- উমেশ গুপ্ত, মনু এবং অন্শুল- তারা গাজিয়াবাদের বাসিন্দা।।
গত বছর অক্টোবরে মেরঠের খিওয়াই গ্রামের বাসিন্দা দানিশের সঙ্গে বিয়ে করেন ভুক্তভোগী নারী।
তিনি জানান, তার স্বামীর বড় ভাই শাহিদ ধর্ষণ করেছে এবং ননদের স্বামী শওকিনও। এ ছাড়া তার শ্বশুর ইয়ামিনও তাকে ধর্ষণ করেছে এবং বলেছে, 'তুমি যৌতুক আনোনি, তাই আমাদের কথা মানতে হবে এবং আমাদের খুশি রাখতে হবে।'
তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন, 'বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী আমাকে জুয়ায় বাজি রাখে, পরে আটজন আমাকে ধর্ষণ করে। শ্বশুর, ভাসুর, ননদের স্বামী- সবাই আমাকে নির্যাতন করেছে। আমাকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়েছে। আমার পায়ে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। আমাকে নদীতে ফেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। পথচারীরা আমাকে দেখে উদ্ধার করে। এখন তারা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।'
নদীতে ফেলে দেওয়ার পর নির্যাতিতা মহিলা কোনোক্রমে বেঁচে যান। পরে বাঘপত এসপি অফিসে গিয়ে সাহায্যের আবেদন করেছেন। পুলিশ এক্স হ্যান্ডেলে এক অফিসিয়াল পোস্টে জানিয়েছে যে বিনৌলি থানায় এফআইআর করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
মেহেদী/