সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে যখন কুসংস্কার, অন্যায়, অনাচার ও পাপাচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন উম্মাহর আলেম ও দাঈদের দায়িত্ব হয়, সেসব অন্যায়-অনাচারের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা। প্রজ্ঞা ও কৌশল অবলম্বন করে মন্দ বিষয়াবলির অনিষ্ট থেকে জাতিকে হেফাজত করা। ভালো, সুস্থ ও সুন্দর বিষয়গুলো আলোচনা করে জনসচেতনতা তৈরি করা। যাতে করে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ ক্ষতি থেকে বেঁচে যায়। এ জন্য কল্যাণের পথে দাওয়াত তথা আহ্বান বৃদ্ধি করা উচিত। আর কল্যাণের পথেই একে অপরের সহযোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে কোরআনে। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা কল্যাণ ও আল্লাহভীতির কাজে একে অপরকে সাহায্য করো। গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘন হয় এমন কাজে সহযোগিতা করো না। (সুরা মায়েদা, ০২)
একইভাবে আল্লাহতায়ালা কল্যাণের আহ্বান সম্পর্কে বলেন, আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি জাতি থাকা দরকার, যারা কল্যাণের পথে মানুষদের আহ্বান করবে। যারা সৎকাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজে নিষেধ করবে। (সুরা আলে ইমরান, ১০৪)
হাদিসেও নারী-পুরুষ সবার উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে—সবাই দায়িত্বশীল। সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আর উম্মাহর আলেম ও দাঈগণ হলেন উম্মাহর সত্যিকার পথপ্রদর্শক। বাস্তবিক অর্থে দায়িত্বশীল। কারণ তারাই হলেন, নবিদের উত্তরসূরি। এ জন্য তারাই পথহারা, বিপথগামী মানুষদের দেখাবেন সত্যিকার আলোর পথ। শোনাবেন ইসলামের মহান বাণী। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা—তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সবাই দায়িত্বশীল। তোমাদের প্রত্যেককেই তাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে। শাসকও একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনস্থদের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। একজন পুরুষ তার আপন পরিবারের জন্য অভিভাবক। তাকে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। একজন নারী তার স্বামী-গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেবক তার মালিকের সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।’ (বুখারি, ৮৯৩)
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় দীন তথা ইসলাম হচ্ছে কল্যাণ কামনা করা। নিশ্চয় দীন-ইসলাম হচ্ছে কল্যাণ কামনা করা। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কার জন্য কল্যাণ কামনা? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাবের, তাঁর রাসুলের, মুসলমানদের নেতা ও জনসাধারণের জন্য কল্যাণ কামনা করা। (নাসায়ি, ৪১৯৯)
কাজেই আমাদের আলেম, দাঈ, বক্তা ও সম্মানিত ইমাম—খতিব সাহেবদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব হচ্ছে; তারা বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে উম্মাহর কল্যাণ এবং সংশোধনে এগিয়ে আসবেন। মন্দ ও যাবতীয় কুসংস্কার সম্পর্কে আলোচনা করবেন। পথ ভোলা, হেদায়েতের আলোবঞ্চিত মানুষদের দেখাবেন আলোকিত পথের সঠিক সন্ধান।
এ জন্যই প্রতিটি ওয়াজ মাহফিল হওয়া দরকার বিষয়ভিত্তিক। মসজিদের মিম্বরগুলোয় ধ্বনিত হোক বিষয়ভিত্তিক আলোচনায়। ফিরে আসুক আমাদের সমাজে আবারও সেই সোনালি দিন!
লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া , হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর