ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে বৃদ্ধের মৃত্যু ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ চবির লাকসাম-মনোহরগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ইসরাত ও বাবলু যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা বৃষ্টি ভেজার কাঁপন বরষা, এ চল্লিশে আষাঢ়ের রূপ বাউরি বর্ষার ঝোড়ো রাত আষাঢ়ি পূর্ণিমায় স্ক্রিনে বন্দি শৈশব-কৈশোর আষাঢ়ের বাদলধারা বৃষ্টিস্নাত বিশেষত তোমাকে বাদলফকির ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন মরক্কোর কোচ

ঝুলে আছে শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের কাজ

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৫, ০১:২৭ পিএম
ঝুলে আছে শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের কাজ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

মাগুরায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তুললেও থেমে নেই শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতনসহ শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। এ অবস্থায় শিশু অধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠছে।

তারা বলছেন, শিশুদের অধিকার রক্ষায় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন শিশুবিষয়ক আলাদা অধিদপ্তর। অন্যদিকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলে আসছে শিশু একাডেমিই হবে শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে তা কবে, কত দিনের মধ্যে হবে সে বিষয়ে নেই কোনো অগ্রগতি। 

মহিলা পরিষদের গত এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান বলছে, এ মাসে কেবল ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৪ শিশু। অন্যদিকে এ সময়ে নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৬ জন। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৬ কন্যাশিশু ও ৮ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে ২২ কন্যাশিশুকে। আর ৭ জন নারীর ওপর একই চেষ্টা হয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের তুলনায় শিশুরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দুর্বল হওয়ায় তাদের ওপর চলে নানাভাবে নির্যাতন। আর শিশুর সঙ্গে হওয়া এসব অন্যায়ের বিচারও ঠিকঠাক পাওয়া যায় না বলে দাবি শিশু অধিকার কর্মীদের। তারা বলছেন, আজকের শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ। সুতরাং তাদের সঠিক বিকাশের ওপরই নির্ভর করে এদেশের ভবিষ্যৎ। এ ছাড়া দেশের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই যখন শিশু তখন তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা ও জবাবদিহির জন্য একটি আলাদা অধিদপ্তর অত্যন্ত প্রয়োজন। ২০১৬ সালে তৎকালীন সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও ৯ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম অ্যান্ড প্ল্যানিং) জাহিদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট যেখানে কি না ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু সে হিসেবে কিন্তু এদেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা শিশু। অথচ আমরা যখন কোনো পরিকল্পনা করি তখন এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কথা বলার মতো কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। আমাদের যে মন্ত্রণালয়টি রয়েছে সেটি হচ্ছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর অধীনে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরও রয়েছে আলাদা করে। কিন্তু শিশুদের জন্য আলাদা করে কোনো অধিদপ্তর নেই। ফলে শিশুদের নিয়ে আইন, শিশুদের সুবিধা-অসুবিধা, এমনকি শিশুদের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ হয় সেখানে শিশুদের কী প্রয়োজন বা তাদের চাওয়াটা কী সেটি জানার এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তা পৌঁছে দেওয়ার কেউ নেই। এ ছাড়া মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরসহ এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভাগ, জেলা, থানা এমনকি প্রান্তিক পর্যায়ে অবকাঠামো ও লোকবল রয়েছে। যারা নারীদের যেকোনো সুবিধা-অসুবিধাগুলোর দেখভাল করেন এবং কোনো গুরুতর সমস্যা হলে তাদের কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু শিশুদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। শিশু একাডেমি যে জায়গাগুলোতে আছে সেখানে একজন করে শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা আছেন। কিন্তু শিশু একাডেমি যেহেতু শিশুদের বিকাশের বিশেষভাবে সংস্কৃতির দিকটি নিয়ে কাজ করেন, তাই তারা শিশুদের অধিকার হননের কোনো ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। ফলে শিশুদের জন্য যে বাজেট দেওয়া হয় সেটি ঠিকঠাক শিশুদের জন্য ব্যয় হচ্ছে কি না এটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। কোনো জনবল নেই, নেই জবাবদিহিও। এ কারণে শিশুদের জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় না হোক, একটি আলাদা শিশু অধিদপ্তর অন্তত হোক।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজসেবা এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশুদের জন্য অনেক প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু এই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এক মন্ত্রণালয় জানে না আরেক মন্ত্রণালয় কী করছে। ফলে শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। অনেক সময় দেখা যায়, বাজেট বরাদ্দ আছে কিন্তু তা শিশুদের যে বিষয়টিতে বেশি প্রয়োজন সেটিতে বরাদ্দ করা হয়নি। কারণ এই দুই মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ নেই যিনি শিশুদের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে দেখে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা দেবেন। এ ছাড়া যে শিশু আইনটি রয়েছে সেটিও সমাজসেবার অধীনে। ফলে শিশুর অধিকার হরণের কোনো ঘটনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। অন্যদিকে সমাজসেবায় নির্দিষ্ট কেউ শুধু শিশুদের জন্য নিয়োজিত না থাকায় ওই বিষয় বা অভিযোগগুলো অবহেলিতই থেকে যায়।’ 

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স বিভাগের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শিশুদের অধিকার রক্ষায় শিশুবিষয়ক আলাদা একটি অধিদপ্তর করার দাবি আমাদের অনেক দিনের। এ বিষয় নিয়ে কাজ চলমান আছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমাদের সহায়তায় একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তাদের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। গত বছর মিটিং হয়েছিল এই কমিটির কিন্তু এ বছর চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মিটিং হয়নি। ফলে বোঝাই যায় এটি কত ধীরগতিতে চলছে।’ 

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা) মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা খবরের কাগজকে বলেন, ‘শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের বিষয়ে আমি যত দূর জানি কাজ চলমান আছে। শিশু একাডেমিকে শিশু অধিদপ্তরে রূপান্তর করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে শিশু একাডেমির বর্তমান যে কার্যক্রম সেটিও থাকবে।’

প্রাক-নিকার সভায় থাকবে আরও নতুন থানার প্রস্তাব

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ এএম
প্রাক-নিকার সভায় থাকবে আরও নতুন থানার প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন থানা, নৌ থানা ও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের একাধিক প্রস্তাব নিয়ে প্রাক-নিকার সচিব কমিটিতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দুপুর আড়াইটায় প্রাক-নিকার সচিব কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত নোটিশে এ কথা বলা হয়েছে।

সভায় কক্সবাজারে একটি নতুন থানা, ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ নৌ থানা এবং বগুড়া ও কুমিল্লায় দুটি নতুন পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাকে বিভক্ত করে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বটতলী এলাকায় ‘মাতামুহুরী থানা’ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এ থানার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫৮টি নতুন পদ সৃষ্টি, ২৯টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করারও প্রস্তাব রয়েছে। এ বাবদ বছরে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রস্তাবটিতে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলা জেলায় নৌ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গ ‘ধলী গৌরনগর নৌ থানা’ স্থাপনের প্রস্তাবও সভায় উঠছে। এ থানার জন্য ৩৫টি পদ সৃষ্টি, ১২টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের কামতারা এলাকায় নতুন ‘কামতারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র’ স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ৩১টি পদ, ১৩টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংযোজন প্রস্তাবের পাশাপাশি এর জন্য বছরে প্রায় এক কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে এমন উল্লেখ রয়েছে সার-সংক্ষেপে।

একই সঙ্গে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানাধীন ‘সুলতানপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র’ স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ তদন্তকেন্দ্র পরিচালনায় ২২টি পদ সৃষ্টি ও ৫টি যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, চারটি প্রস্তাবই পুলিশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, রেঞ্জ ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারের মতামত নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাক-নিকার সভায় প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা শেষে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেলে পরে সেগুলো প্রাক-নিকার সচিব কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও সেবার পরিধি বাড়বে, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

প্রাণ গেলেও তারা পাহাড় ছাড়তে রাজি নন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
প্রাণ গেলেও তারা পাহাড় ছাড়তে রাজি নন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম মহানগরের প্রাণকেন্দ্রখ্যাত লালখান বাজার। এ বাজারসংলগ্ন চারটি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাস করছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে গত রবিবার থেকে প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে একটি পরিবারও সেখান থেকে সরছে না। বসবাসকারীদের শঙ্কা পাহাড় ছেড়ে গেলে বাড়িঘর বেদখল হবে। তাই প্রাণ গেলেও তারা পাহাড় ছাড়তে রাজি নন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে বিরিয়ানি বিতরণ করবেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গত বুধবার রাতে পাহাড়ে বসবাসকারী প্রায় ৩০০ মানুষ সেখানে অবস্থান নেয়।  তবে বিরিয়ানি বিতরণ শেষে আশ্রয়কেন্দ্র খালি হয়ে যায়। অর্থাৎ ত্রাণ নিয়ে তারা আবার পাহাড়ের বসতিতে ফিরে গেছেন। 

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) লালখান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লালখান বাজার ও সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী ভবনের পাশ দিয়ে মতিঝর্ণা, বাটালী হিল, এ কে খান ও পানির ট্যাংকি পাহাড়ে প্রবেশ সড়কের দুই পাশে সারি সারি বসতি। লালখান বাজার দিয়ে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে উঁচু পাহাড়। এসব পাহাড়ের মালিক জেলা প্রশাসন, ওয়াসা ও রেলওয়ে। পাহাড়ের ঢালে টিনশেড ঘরের পাশাপাশি সরকারি জমিতে নির্মিত হয়েছে চার, পাঁচ এমনকি ছয়তলা ভবন। এসব অবৈধ বসতিতে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এলাকার ৪ নম্বর গলিতে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের ভেতর দিয়ে চলে গেছে সরু পথ। সেখানে রয়েছে বহুতল ভবনসহ অসংখ্য বাসা। এখানে ভাড়াবাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন রুবেল মিয়া নামের এক রিকশাচালক। পাহাড়ধসের ঝুঁকি জেনেও তিনি বসবাস করে আসছেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। 

তিনি বলেন, ‘এখানে গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎসহ মাসে ছয় হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। ভাড়া কম, তাই ঝুঁকি জেনেও এখানে পরিবার নিয়ে থাকি।’
ওই এলাকায় বসবাসকারীদের প্রায় সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। কেউ রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার্স ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিন্তু দখলদার জমিদারদের কেউই এখানে থাকেন না। দখলদারদের মধ্যে পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন।

পাহাড়ের একটি ভবনের মালিক চট্টগ্রাম আদালতের শিক্ষানবিস আইনজীবী মোহাম্মদ ফয়সাল। তিনি জানান, এক দশক আগে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে তাদের পরিবার অনেক বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। 

এখানে বসবাসে ঝুঁকির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, এত বছরেও তারা স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের মুখে পড়েননি। 

এখানকার একটি গলির মুখে মুদির দোকান করেন অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য। তার ছেলেও পুলিশে চাকরি করেন। তিনি পরিচয় না দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। পর্যায়ক্রমে ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন নিয়েছি। এখনো কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি।
প্রায় ২৪ বছর ধরে মতিঝর্ণা পাহাড়ে বসবাস করছেন রহিমা বেগম। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের সময় প্রশাসনের মাইকিং শুনেছি। পরিবার নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু যাইনি। ফিরে এসে যদি বাসা না পাই? 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সরকারি ও বেসরকারি ২৬টি পাহাড়ে বর্তমানে ৬ হাজার ৫৫৮টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ১৬টি পাহাড়ে বসবাস করছে ৬ হাজার ১৭৫টি পরিবার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে রয়েছে আরও ৩৮৩টি পরিবার। সবচেয়ে বেশি অবৈধ বসতি রয়েছে ফয়'স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বসবাস করছে। কিন্তু সরকারি এ হিসাবের বাইরে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বসবাস করে পাহাড়ে। বায়েজিদ লিংক জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগরে প্রত্যেকটি পাহাড়ে অবৈধ বসতি রয়েছে, যা সরকারি হিসাবের মধ্যে নেই।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। আমাদের টিম এ দুযোর্গ পূর্ণ পরিবেশে কাজ করেছে। কিন্তু কেউই নির্দেশনা মানেন না। ফলে পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

১৯ বছরে ২৫৩ প্রাণহানি

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে প্রাণহানির মিছিল থামছে না। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৮ জুলাই টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরে দুটি পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় দেয়ালধসে একজনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন এক দিনেই প্রাণ হারান ১২৭ জন। ওই ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তালিকা প্রণয়ন, উচ্ছেদ অভিযান এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে মতিঝর্ণা, বাটালী হিল, আকবর শাহ, বায়েজিদ, ফিরোজ শাহ কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় বারবার পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসব ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ছিল ২৫১ জন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে দুজনের মৃত্যুসহ মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৩ জনে।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত বসতি, দুর্বল মাটি এবং টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর সবাই ভুলে যায়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা খবরের কাগজকে বলেন, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস পেলেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের সরিয়ে যে স্থানে বসবাস করতে দেব, সেখানে তারা যেতে চান না। কারণ হিসেবে দেখায়–সেখানে কাজ নেই, জীবনযাত্রার মান ভালো না। এটা হচ্ছে আসল বাস্তবতা। এর পরও দখলদার যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাহাড় কাটা ও দখল কমে গেছে অনেকটা।

আসা-যাওয়া-ফেরা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আগামী নির্বাচন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আগামী নির্বাচন
জাতীয় সংসদ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী (চতুর্দশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে বহাল থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই অবস্থান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা আপিল বিভাগে বহাল থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসার পথে এখন আর কোনো বাধা রইল না। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গতকাল খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর এ বিষয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।’

আপিল বিভাগের রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলও এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল। পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে যখন রিট করা হয়, তখন হাইকোর্ট চারটি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা, গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানে ৭ক, ৭খ বাতিলের রায় বহাল থাকল। আলটিমেটলি হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।’

প্রসঙ্গত, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতির পাশাপাশি সংবিধানে জাতীয় চার মূলনীতি–জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনাসহ এই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়। রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বাদ দেওয়াসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়, আপিলগুলো খারিজ করে গতকাল রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। যার ফলে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে আপিলকারী সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং আরেক আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ। মামলায় ইন্টারভেনার (তৃতীয় পক্ষ) হিসেবে যুক্ত গণফোরামের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও ইন্টারভেনার হিসেবে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ শুনানিতে অংশ নেন।

রায়ের পর মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে যে রায় হয়েছিল, সেটি বহাল রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ যে চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন, সেই বিষয়গুলো অসাংবিধানিক ঘোষিত থাকবে। এ ছাড়া বাকি যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

যে চারটি বিষয় হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন, তার মধ্যে এক নম্বর ছিল—বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(ক) ও ৭(খ)। ৭(ক) ও ৭(খ) ছিল এমন—এই সংবিধানের কতগুলো বিষয় আছে, যেগুলো পরিবর্তন করা যাবে না। যদি কেউ পরিবর্তন করে, তাহলে সেটা হবে সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহ। হাইকোর্ট বিভাগ এই অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। আপিল বিভাগে এই অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক থেকে গেল। দ্বিতীয়ত, হাইকোর্ট বিভাগ গণভোটের যে বিধান ছিল, সেই গণভোটের বিধানকে পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন। আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে গণভোটের বিধান পুনঃপ্রবর্তিত হলো। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৪(২) অনুযায়ী নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্ট বিভাগ এই রিটের ক্ষমতা প্রদানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। আপিল বিভাগ এই অসাংবিধানিক ঘোষণা করার জায়গাটিকে অসাংবিধানিক রেখেছেন। অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগ ছাড়া আর কোনো আদালতে রিট আবেদন করার কোনো এখতিয়ার থাকবে না।

চতুর্থত, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। হাইকোর্ট বিভাগ এই বাতিলটা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ যে বাতিল করেছেন, সে বিষয় বহাল থাকবে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসতে আর কোনো বাধা থাকল না।

বৃষ্টিতে বন্ধ ট্রেন, কক্সবাজার রেলপথের  সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
বৃষ্টিতে বন্ধ ট্রেন, কক্সবাজার রেলপথের 
সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

যখন বন্যার কারণে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটে, তখন ট্রেনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে। ১৯৯৮ সালে দেশব্যাপী টানা দীর্ঘ বন্যায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল ট্রেন। কিন্তু চট্টগ্রামে গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পানির কারণে চট্টগ্রামে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার ঘটনা নিকট অতীতে নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক সূত্র খবরের কাগজকে জানিয়েছে, এখানে মূল সমস্যা পানি নয়। রেললাইনে ব্যালাস্ট বা পাথর না থাকার কারণে ট্রেন চলাচল করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পাথর না দেওয়ায় রেললাইন নড়বড়ে হয়ে গেছে। লোকোমাস্টাররা (চালক) আর ট্রেন চালাতে সাহস পাচ্ছেন না। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ষোলশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথের অনেক জায়গায় পাথর নেই। কোথাও কোথাও পাথর দিয়ে কোনো রকমে মাটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যা এই রেলপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ব্যালাস্ট বা পাথরের কাজ কী?

রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, রেললাইনের পাথর বা ব্যালাস্টের প্রধান কাজ হলো ট্রেনের ভার বহন করে তা স্লিপার থেকে মাটির নিচে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়। ট্রেনের ওজনে যাতে মাটি দেবে না যায়, সেজন্য স্লিপারের মাধ্যমে মাটির গভীরে ওজন সমানভাবে হয়ে যায়। পাথরের স্তর ট্রেনের ধাক্কা ও কম্পন শোষণ করার কারণে যাত্রা আরামদায়ক হয় এবং রেলের যন্ত্রাংশের ওপর চাপ কম পড়ে। পাথরের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি সহজেই নিষ্কাশন হয়, আগাছা জন্মাতে পারে না। পাথরগুলো স্লিপারকে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে সঠিক অবস্থানে আটকে রাখে।  

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথের মধ্যে ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথ সংস্কারের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় রেলওয়ে কিংবা যাত্রীদের কোনো কাজে আসেনি। বরং পাথরের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়া লাইন দিয়ে সঠিক গতিতে ট্রেন চালাতে পারছেন না চালকরা। এতে ট্রেনের গতি কমে যায়। যে কারণে যাত্রী ভোগান্তি চলছিল অনেক দিন ধরে। সর্বশেষ জলাবদ্ধতার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পর ঢাকা-কক্সবাজার দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করতে ২০২৩ সালের শেষার্ধে ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথটি প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর এই রেলপথের অনুমোদিত গতিবেগ ছিল ৬০ কিলোমিটার। এর আগেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করা হয়। যার অধিকাংশ টাকা খরচ হয় চট্টগ্রামের দোহাজারী অংশে। দুই দফা সংস্কারের পরও কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন হওয়ায় ট্রেনের গতিবেগ নির্ধারণ করা হয় ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। যা ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনের গতির চেয়ে অনেক কম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্টেশন মাস্টার ও লোকোমাস্টার খবরের কাগজকে জানান, রেললাইন নড়বড়ে হওয়ার কারণে এতদিন ধরে চট্টগ্রাম-ষোলশহর ও ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথে ট্রেন স্বাভাবিক গতিতে চলছিল না। এখন বৃষ্টির কারণে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর জন্য তারা প্রকৌশল বিভাগকেই দায়ী করেন। তারা জানান, রেলওয়েতে যত সংস্কার তত দুর্নীতি। সংস্কার কাজ করে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেবার মান বাড়ে না। বরং ট্রেনের গতিবেগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও।

পাথর বসানো এবং সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম বলেন, সংস্কার কাজটি করা হয়েছে কোনোরকমে ট্রেন চলাচলের স্বার্থে। অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঠিকাদার যথাযথভাবে কাজ করেনি বলে তাকে জরিমানা করে কাজ বাতিল করা হয়েছে। পরে অবশ্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে সেখানে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। নতুন পাথর বসানো হয়েছে। তারপরও ব্যালাস্ট স্বাভাবিক রাখা যায় না। বর্তমানে ওই লাইনে পাঁচ ইঞ্চি ব্যালাস্ট রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম অনুযায়ী ১০ ইঞ্চি পাথর থাকার কথা। অতীতে বন্যার সময় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ অন্যান্য এলাকায় ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল। এখন কেন নয়–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই লাইনে যে ট্রেন চলছে তা ৬ ইঞ্চি পানিতে চলতে পারবে। সেখানে পানি জমেছে দুই ফুট ৬ ইঞ্চি। পানি ৬ ইঞ্চির নিচে না নামলে ট্রেন চলাচল করতে পারবে না। 

প্রধান প্রকৌশলী জানান, এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান লাইনের পাশ দিয়েই এই লাইন হবে। তবে সেটি নির্মাণ হবে ৫ ফুট উঁচুতে। যাতে কোনো সময় অতিভারী বর্ষণ কিংবা জলাবদ্ধতার কারণে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেদিকটা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমান দুর্ভোগের জন্য তিনি গত চার দশকের মধ্যে গত দুই দিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতকে দায়ী করে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে। যারা দুই দশক আগে বাড়ি করেছেন তাদের বাড়ির নিচতলা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে। তারা তো জানতেন না দুই দশক পরে এমন অবস্থা হবে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর কঠোর হলেও ঘাটতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর কঠোর হলেও ঘাটতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি দেখা দেয়। তবে ঘাটতি থাকলেও চলতি অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি প্রতিষ্ঠানটিকে। উল্টো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ‌রাজস্ব আদায়ে আটঘাট বেঁধে নেমেছে এনবিআর। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায় বাড়াতে একগুচ্ছ কৌশল নির্ধারণ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গত অর্থবছরে কর জিডিপি অনুপাত কমেছে। এনবিআরের সক্ষমতা বাড়েনি। রাজস্ব খাতের বেশির ভাগ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি বাড়তে পারে।

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরের কাছ থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। এর মধ্যে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা আদায়ের হিসাব কষা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় এনবিআরের তিন শাখা আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে চলতি অর্থবছরে কোন কৌশলে রাজস্ব আদায় করতে এনবিআর কাজ করবে, তা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনবিআর এসব দিকনির্দেশনা সামনে রেখে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ে একগুচ্ছ কৌশল নির্ধারণ করেছে। 

সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশল হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে নতুন করদাতা সংগ্রহে। এনবিআর কর্মকর্তাদের অভিযানে কারো ইটিআইএন এবং অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধনের আওতায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি নতুন খাত যুক্ত করা হয়েছে। এসব খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য কঠোর নজরদারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব আদায়ের কৌশল হিসেবে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে নামিদামি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এনবিআরের তিন গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং শুল্ক গোয়েন্দা শাখার কার্যক্রমে জোর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে উৎসে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে গুরুত্ব বাড়াতে, আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে মিথ্যা ঘোষণা ও অবমূল্যায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে জোরদারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটনে নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে করদাতাদের সঙ্গে খাতভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এনবিআর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততায় এবং জবাবদিহি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশ দিয়ে করদাতাদের হয়রানি না করতে সতর্ক করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে জরিপের মাধ্যমে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নিবন্ধিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যকর করাসহ উচ্চ আদালতে অনিষ্পন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে। বকেয়া পরিশোধে সর্বোচ্চ ৩ বারের বেশি সময় না বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব আদায় বাড়াতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সহায়তা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বছরে এনবিআর থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের সদস্যদের অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুর রহমান খানকে নিয়োগ করা হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনবিআর বিভক্তি ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়। প্রায় ৭/৮ মাস এনবিআরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রাজস্ব আদায় কার্যক্রম চালু হওয়ার পরও এনবিআরে অস্থিরতা থামে না। হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়।

শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তদন্তের আওতায় আনা হয়। অনেকের চাকরি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সমগ্র রাজস্ব আদায়ে। রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে থাকে। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও দেখা দেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। নতুন সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে না করতেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। জ্বালানিসংকট চরমে ওঠে। আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ কমতে থাকে। শিল্পে বিনিয়োগে ধস নামে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে কমে যায়। গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও ওই অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। এসবের প্রভাবে রাজস্ব আদায় কমেছে। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেছেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং রাজস্ব আহরণের সাম্প্রতিক প্রবণতা বিবেচনায় এনবিআরের চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত কঠিন হবে। গত অর্থবছরে যেসব কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে সেসব সংকটের বেশির ভাগ এখনো বিদ্যমান আছে। সংকট থাকবে তার মধ্যেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, লক্ষ্য পূরণের চাপ শেষ পর্যন্ত নিয়মিত করদাতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপরই এসে পড়তে পারে। আগের মতোই যারা নিয়মিত কর ও ভ্যাট দেন তাদের ওপর চাপ বাড়বে। এ ধারা থেকে সরে আসার চেষ্টা করতে হবে এনবিআরকে। 

একই আশঙ্কা করে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খবরের কাগজকে বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, সেখানে অন্ততপক্ষে এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।