চট্টগ্রামের ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে শুক্রবার (১০ মে) সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাইচ দেখতে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে হাজারও মানুষের ঢল নামে। অনেককে নৌকা ভাড়া করে মাঝনদীতে গিয়ে সাম্পান প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে দেখা যায়। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড় অভয়মিত্র ঘাট থেকে নদীর দক্ষিণ পাড়ের চরপাথরঘাটা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
সাম্পান প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, চট্টগ্রাম ইছানগর-বাংলাবাজার সাম্পান মালিক সমিতি, ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মালিক সমিতি, চরপাথরঘাটা-ব্রিজঘাট সাম্পান চালক সমিতি, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট ব্যবসায়ী মালিক সমিতি, পুরোনো ব্রিজঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতিসহ মাঝিমাল্লাদের বিভিন্ন সমিতির শতাধিক সদস্য অর্ধশতাধিক সাম্পান নিয়ে লাল, নীল, সবুজ ও হলুদ টি-শার্ট পরে বাইচে অংশ নেন। প্রতিটি সাম্পানে ৮ থেকে ৯ জন মাঝি বৈঠা ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ড. আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। তিনি বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ড. আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘দখল দূষণের কারণে কর্ণফুলী নদী দূষিত এবং সংকুচিত হচ্ছে। লবণাক্ততা হালদা পর্যন্ত চলে গেছে। এ কারণে নগরবাসী পানি পাবে না। গ্রামে টিউবওয়েলেও পানি থাকবে না। পানি উঠলেও তা লবণাক্ত হবে। তা ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কর্ণফুলীর গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। আমরা কর্ণফুলী রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সব ধরনের ব্যবস্থা নেব।
বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কর্ণফুলী দেশের অর্থনীতির সঞ্চালক। এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা যেখানে অন্যায় দেখব, সেখানেই প্রতিবাদ করে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করব।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল সংগঠনের জেলা গভর্নর লায়ন এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ডায়মন্ড সিমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর লায়ন মো. হাকিম আলী, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা জান্নাত, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান তালুকদার, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল ইসলাম চৌধুরী, মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক চৌধুরী ফরিদ, নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি জাফর আহমদ প্রমুখ।