লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হাত-পা বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রামগতি থানায় জামাল উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।
সোমবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এর আগে সোমবার সাহরির সময়ে রামগতি উপজেলার চরগাজীর দক্ষিণ টুমচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার সাহরির সময়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসতঘরের পাশে বাথরুমে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগে দুই ব্যক্তি তাকে ঝাপটে ধরে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যান। পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তাকে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। জ্ঞান ফেরার পর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন। অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর ননদের জামাই জামাল উদ্দিনসহ অপরিচিত চার-পাঁচজন মিলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তার বাড়ি সিলেট জেলায়। ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়। এর মধ্যে এক সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের সংসার। বিয়ের কিছুদিন পর পাশ্ববর্তী গ্রামে ননদের বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। সেখানে ননদের জামাই জামাল উদ্দিন তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিরোধ চলে আসার কয়েক মাস পর জামাল উদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে বিচার দাবি করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও নিজে আওয়ামী লীগের নেতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যান জামাল। পূর্বের ক্ষোভ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গণধর্ষণের এই ঘটনাটিও ননদের জামাই জামাল উদ্দিন ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তার।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, 'বিষয়টি গণধর্ষণ নয়। ভুক্তভোগীকে জামাল উদ্দিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনায় আশরাফ ও নুর ইসলাম নামের দুইজন ধর্ষণে তাকে সহযোগিতা করেছেন। ভুক্তভোগী নারী জামালকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'
মোহাম্মদ রফিকুল/জোবাইদা/