জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ জসিম হাওলাদারের কন্যা লামিয়া আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।
মামলার তদন্ত শেষে দুমকি থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম গত বুধবার (১ মে) পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সতেরো বছর বয়সী কলেজছাত্রী লামিয়া আক্তার গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় নানাবাড়ি যাওয়ার পথে দুমকি উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পর তিনি নিজেই বাদি হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে দুমকি থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে অভিযুক্ত কিশোর শাকিব মুন্সি ও সিফাত মুন্সিকে আটক করে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠায়।
তদন্তে উঠে আসে আরও এক অভিযুক্ত ইমরান মুন্সির সম্পৃক্ততার প্রমাণ। পরে তাকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ইমরান বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে এই ঘটনার রেশ না কাটতেই তদন্ত চলাকালে ঢাকার শেখেরটেকে ভাড়া বাসায় গত ২৬ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবার কবরের পাশেই গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
মরদেহ দাফনের পর শোকসন্তপ্ত মা রুমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ প্রেক্ষিতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ হোসেন ৫ মে এক আদেশে রুমা বেগমের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসিক কাউন্সেলিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগপত্রে বাদির মা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমরা চাই, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক।’
এরআগে জসিম হাওলাদার গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাবার মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মেয়েটিও নির্মমতার শিকার হয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়, যা পুরো দেশবাসীকে কাঁদিয়েছে।
হাসিবুর রহমান/সুমন/