ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা বৃষ্টি ভেজার কাঁপন বরষা, এ চল্লিশে আষাঢ়ের রূপ বাউরি বর্ষার ঝোড়ো রাত আষাঢ়ি পূর্ণিমায় স্ক্রিনে বন্দি শৈশব-কৈশোর আষাঢ়ের বাদলধারা বৃষ্টিস্নাত বিশেষত তোমাকে বাদলফকির ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন মরক্কোর কোচ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার লাভ-ক্ষতি আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই: সারজিস আলম এসেছ আজ কী মহাসমারোহে উপভোগ্য ছিল পদ্মায় ইলিশ ধরা গ্রাফিতিতে বিশ্বকাপ, ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে জাককানইবি মরক্কোকে বেছে নেওয়ায় আফসোস নেই বুয়াদির নজরুলের অভিযান কবিতার এক শ বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার বাঁশখালীতে জামায়াত আমিরের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন স্পেনকে হারাতে নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে: লুকাকু লালপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ধর্ষণ-সহিংসতার বিচারের দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ধর্ষণ-সহিংসতার বিচারের দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ
সারাদেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ছবি: খবরের কাগজ

নরসিংদীসহ সারাদেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। 

আজ শুক্রবার বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ আজ ভালো নেই বলে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি এ সরকার শপথ নেওয়ার পরে ১২ থেকে ১৩ দিন হয়েছে। এ ১৩ দিনে তারা আমাদের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। মা-বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আমরা দেখেছি নির্বাচন পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের সহিংসতা ও চারটি লাশ। এত রক্তের বিনিময়ে যদি এখনো ফ্যাসিবাদী বয়ান শুনতে হয়, তাহলে আমরা ছাত্র সমাজ কখনো এটা মেনে নিব না।’

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’

এ সময় বিক্ষোভকারীরা, ‘তারেক রহমান, ধর্ষণ কর অবসান; আছিয়া থেকে নন্দিনী, ধর্ষকদের ভুলিনি; ধর্ষক আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার; ‘ সহ বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এতে অন্যদন্যদের মধ্যে ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। 

জাওয়াদ/মাহফুজ

গ্রাফিতিতে বিশ্বকাপ, ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে জাককানইবি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
গ্রাফিতিতে বিশ্বকাপ, ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে জাককানইবি
ছবি: খবরের কাগজ

আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর সবুজ গ্যালারিতে চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উত্তাপ শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, তার ঢেউ পৌঁছে গেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসেও। বিশ্বকাপের সেই রঙিন উন্মাদনা যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের গ্রাফিতিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দেয়ালে আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে আঁকা হয়েছে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতিকৃতি। মেসির মুখচ্ছবিতে ফুটে উঠেছে স্বপ্ন, সংগ্রাম ও কোটি ভক্তের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি আর মেসির বিশ্বকাপ চুম্বনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের দেয়ালে ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের আয়োজনে ও চারুকলার শিক্ষার্থী নাসিরুল ইসলামের সহযোগিতায় অঙ্কিত হয়েছে ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়রের প্রতিকৃতি। দুই তারকার এই শিল্পরূপ যেন ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপের দুই বড় ফুটবল দর্শনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেসি-নেইমারের গ্রাফিতি জাককানইবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এনে দিয়েছে এক অনন্য আবেগঘন আমেজ। প্রতিদিনই টিএসসি ও দ্বিতীয় গেটের দেয়ালের সামনে ভিড় করছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিচ্ছেন, আবার কেউ মুগ্ধ দৃষ্টিতে শিল্পকর্মগুলো দেখছেন। শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বহিরাগত দর্শনার্থীরাও ছুটে আসছেন এই গ্রাফিতির সামনে স্মৃতি ধরে রাখতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু টিএসসির দেয়াল বা দ্বিতীয় গেটেই নয়, দোলনচাঁপা হলসংলগ্ন দেয়ালেও আঁকা হয়েছে আর্জেন্টিনার জার্সি ভিত্তিক একটি থিম। বিদ্রোহী হল ও বিবিএ ভবনে শোভা পাচ্ছে বিশাল আকৃতির আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাস্তা, হলের বারান্দা ও খোলা প্রাঙ্গণে উড়ছে অসংখ্য পতাকা। কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক, কোথাও জাতীয় পতাকা, আবার কোথাও ফুটবল তারকাদের প্রতিকৃতি, সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস যেন রঙিন এক ফুটবল উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে এই সাজসজ্জা শুধু খেলাপ্রেম নয় বরং শিক্ষার্থীদের শিল্পবোধ, সৃজনশীলতা ও সম্মিলিত আবেগেরও প্রকাশ। গ্রাফিতির সামনে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেমন স্মৃতি ধরে রাখছেন, তেমনি প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরা স্মরণ করছেন ফুটবলের সোনালি দিনের গল্প। মেসির জাদু, নেইমারের নৈপুণ্য আর বিশ্বকাপের আবেগ মিলেমিশে জাককানইবি ক্যাম্পাসকে পরিণত করেছে ফুটবল ভালোবাসার এক উজ্জ্বল মিলনমেলায়।

কথা হয় ব্রাজিল সমর্থক নাসিরুল ইসলামের সঙ্গে। তার কাছে নেইমার শুধুই একজন ফুটবলার নন, বরং এক টুকরো আবেগ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই গ্রাফিতি আঁকা। ব্রাজিল ফ্যানস ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য ভাইদের সহযোগিতায় প্রায় ১৮ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া এই দেয়ালচিত্রটি সম্পন্ন করেছি। নেইমার আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার, তাই তাকে এই গ্রাফিতিতে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, এটি ব্রাজিল সমর্থকদের ভালো লাগবে। ব্রাজিল হয়তো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বাদ পড়েছে। কিন্তু ব্রাজিল এবং নেইমারের প্রতি ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ থাকবে আমাদের। সামনের দিনগুলোতে ব্রাজিল আবারও নিজেদের সেরা ফুটবল খেলবে বলে আশা রাখছি।’

এ দিকে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লবের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সাকিবুল হাসান সজীব খবরের কাগজকে বলেন, এই গ্রাফিতিটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়, এটি বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা ফ্যানদের ভালোবাসা, আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক। বিশ্বকাপ ট্রফিতে মেসির চুম্বনের মুহূর্তটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও গর্বের মুহূর্ত, তাই সেটিই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি শিল্পকর্ম ফুটবলপ্রেম, সৃজনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা বহন করছে। আমরা আশা করি, এই গ্রাফিতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সেই ঐতিহাসিক অর্জনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

মো. তাসনিম/থিওটোনিয়াস/

শেবাচিমে ইন্টার্নশিপ বন্ধ বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বেসরকারি নার্সিং ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেবাচিমের এ সিদ্ধান্তের ফলে বরিশাল বিভাগে বেসরকারি ২০ নার্সিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। তবে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নার্সিং কলেজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ২০টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ ছাড়াও ম্যাটস, আইএইচটি, হেলথ প্রফেশনাল, কমিউনিটি প্যারামেডিক ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পাস করে শেবাচিম হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে আসছিলেন।

সম্প্রতি বরিশালের একটি বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শেবাচিম হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ নতুন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ ছাড়া নার্সিং শিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শেবাচিম হাসপাতালে এ সুযোগ বন্ধ থাকলে তাদের কোর্স সম্পন্ন, নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। 

তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের মতো প্রশিক্ষণের সুযোগ চালুর দাবি জানান তারা।

ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউট বরিশালের অধ্যক্ষ আকলিমা বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ নার্সিং শিক্ষার বাধ্যতামূলক অংশ। এসব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হলে কোনো শিক্ষার্থী কোর্স শেষ করতে, নিবন্ধন পেতে কিংবা পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।’ 

বরিশালের জমজম নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান এস এম সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের বেসরকারি নার্সিং শিক্ষার্থীদের প্রধান ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ বন্ধ থাকলে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের অনিয়মের পক্ষে নই। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তার দায় যেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত বিষয়টির সমাধান করে আগের মতো ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ চালুর ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শেবাচিম হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত ও যাচাইয়ের স্বার্থে সাময়িকভাবে বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নার্সিং কলেজের মাধ্যমে বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নার্সিং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।

শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও কর্মসংস্থান-উপযোগী সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি সফট স্কিল বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য শুরু হচ্ছে ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন বিষয়ে হিট প্রকল্প অফিসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা এবং জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ঘাটতি (স্কিল গ্যাপ) ও প্রয়োজন নির্ধারণে একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তবে কোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন এবং কী পরিসরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও জীবনঘনিষ্ঠ সক্ষমতা উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য দুই দিনের ‘প্রফেশনাল নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম’ আগামী মাসে শুরু হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। এতে কৌশলগত নেতৃত্ব, সুশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশের সাবেক উপাচার্যদের এ কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের জন্য সাত দিনের একটি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতি মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি/

চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ
সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব-সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২৭ এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) চুয়েটের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয় । 

নতুন কমিটিতে সভাপতি পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব এবং সাধারণ সম্পাদক পুরকৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক নির্বাচিত হয়েছেন। 

১৫ সদস্যের নতুন এই কার্যনির্বাহী কমিটিতে নাফিসা নাওয়ার (চট্টগ্রাম প্রতিদিন) সহ-সভাপতি, মোঃ ফাহিম রেজা (সমকাল) সহ-সভাপতি, আকিফা মঞ্জুর তিশা (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইবাদ হোসেন (খবরের কাগজ) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,গোলাম মোস্তফা তানিম (দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস) সাংগঠনিক সম্পাদক, তানভীর আহমাদ (কালের কণ্ঠ) অর্থ সম্পাদক, নাজিফা তাসনিম জিফা (দেশ দেশান্তর) দপ্তর সম্পাদক , জারীন তাসমীন সাবা (বণিক বার্তা) সহ-অর্থ সম্পাদক, অনুরাধা রাফানা (বর্তমান বাংলাদেশ) সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং শাওকিক ইসলাম জোহা (নাগরিক ভাবনা) সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও নাজমুল কবির সিয়াম (সিটিজি পোস্ট), মোঃ মিসবাহ উদ্দিন (আমাদের সময়) এবং সাব্বির হোসাইন (দৈনিক আজাদী)-কে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিদায়ী কমিটির সভাপতি, কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি আসহাব লাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি, চুয়েটের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "প্রকৌশল শিক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেও ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার চর্চা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি নতুন কমিটির সদস্যরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে চুয়েটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।" 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,"সংবাদপত্র আমাদের সমাজের দর্পণ। চুয়েটের বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের সুনাম সারা ক্যাম্পাস জুড়েই আছে। আশা করি তারা ভবিষ্যতেও তাদের সৎ ও সাহসী মনোভাব বজায় রাখবে। " 

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী সভাপতি আসহাব লাবিব বলেন,"প্রায় বিশ বছর ধরে চুয়েট সাংবাদিক সমিতি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে আসছে। বিদায় নিয়তির নিয়ম। আজ এই সমিতি নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে। নতুন কমিটিকে অভিনন্দন। আমরা চাই বিগত দিনের মতোই চুয়েট সাংবাদিক সমিতি  চুয়েটের কথা দেশব্যাপী তুলে ধরবে।"

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নবনির্বাচিত সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব বলেন,"সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতাই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। চুয়েট সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা, সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে নিরপেক্ষভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমরাও সেই ধারাবাহিকতা অটুট রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। একই সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, প্রশাসন এবং সাধারণ পাঠকের মধ্যে একটি আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" 

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক জানান,"চুয়েট সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ ও বিশ্ববাসীর সামনে চুয়েটকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে। চুয়েটের ভালো খবরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমরা চুয়েটের কল্যাণে অবদান রাখছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"

উল্লেখ্য, চুয়েট সাংবাদিক সমিতি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটির সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক গুলো জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সাফল্যের সাথে কাজ করে আসছে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ
ছবিঃখবরের কাগজ

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তার সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি তার গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান। 

আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তার গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে। সেই বিবেচনায় তিনি তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠা এবং 'নজরুল অধ্যাপক' পদ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গাজী আজম/হীরা