ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা বৃষ্টি ভেজার কাঁপন বরষা, এ চল্লিশে আষাঢ়ের রূপ বাউরি বর্ষার ঝোড়ো রাত আষাঢ়ি পূর্ণিমায় স্ক্রিনে বন্দি শৈশব-কৈশোর আষাঢ়ের বাদলধারা বৃষ্টিস্নাত বিশেষত তোমাকে বাদলফকির ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন মরক্কোর কোচ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার লাভ-ক্ষতি আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই: সারজিস আলম এসেছ আজ কী মহাসমারোহে উপভোগ্য ছিল পদ্মায় ইলিশ ধরা গ্রাফিতিতে বিশ্বকাপ, ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে জাককানইবি মরক্কোকে বেছে নেওয়ায় আফসোস নেই বুয়াদির নজরুলের অভিযান কবিতার এক শ বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

কঠোর হাতে মোকাবিলা করুন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা এখন চরমে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে গত রবিবার ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা নারী, শিশুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধ করতে দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের  পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

সেখানে বক্তারা বলেন, দেশব্যাপী ছিনতাই, হামলা, ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশে তারা বলেন, দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এদিকে গত রবিবার দিবাগত রাতে  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রেস ব্রিফিং  করেন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ডেভিল হান্ট’-এর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাসীদের কোথাও কোনো স্থান হবে না। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। সরকারের উপদেষ্টারাও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে পরিস্থিতি উত্তরণে নানা পদক্ষেপের কথা বলছেন। এ বিষয়ে গত সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উপদেষ্টা, সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, টাঙ্গাইলে রাজশাহী  রুটের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি  করার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া উত্তরা ও মগবাজারে গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছিনতাইকারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। বনশ্রীর ৭ নম্বর রোডের ডি ব্লকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে স্বর্ণ লুটের ঘটনা ঘটে। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সারা দেশে ঘটে যাওয়া অপরাধের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এসব ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ছিনতাই  প্রতিরোধে শিগগিরই মাঠে নামবে পুলিশের বিশেষায়িত তিনটি ইউনিট। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলমান। ঠিক সেই সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য  অপরাধীরা উঠেপড়ে লেগেছে। যা খুবই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। 

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত জানুয়ারিতে সারা দেশে ৩৯ জন নারী-শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া গত বছরে তথা ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৪০১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়। সেই অস্ত্রগুলোর মধ্যে এখনো বেহাত ১৩ শতাধিক অস্ত্র। এসব অস্ত্র এখন পেশাদার অপরাধীদের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ডিসি সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন। এরপরও থামছে না অপরাধ প্রবণতা।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাড়া বা মহল্লায় জনসচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করতে পারে। অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ হঠাৎ করে চরম অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। রাগ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে। গত কয়েক দিনে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যদিও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপরাধের তথ্য উঠে আসছে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি যাতে আরও অসহনীয় না হয়ে উঠতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আশা করছি, সরকারও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

প্রকোপ ঠেকাতে সচেতন হওয়া জরুরি দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। কিন্তু এ সময়টাতে সে অনুযায়ী কার্যকর ও সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বর্তমান যে চিত্র দেখা যায়, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীতে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন; বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও তেমন সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সরকারকে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।  ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উত্তর সিটির ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তাই এখন থেকেই  মাঠপর্যায়ে লার্ভি সাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার দ্রুত এসব উদ্যোগ নিলে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

১৯৮৩ সালের পর ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, বন্যা, দেয়াল ও পাহাড়ধসে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন সেখানকার লাখো বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কয়েক শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার গতকালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিনের অতিভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদীর পানি বাড়ার কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। প্রাণহানি এড়াতে ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে বনভূমি উজাড় করে গড়ে তোলা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ মানুষ ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। 
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়বে। এদিকে ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীর মানুষ। সেই ক্ষত না শুকাতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণে জনসাধারণকে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয় ও খেটে খাওয়া মানুষের অসুবিধা চরমে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামই নয়, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে শুধু সতর্কতা জারি করলেই হবে না, তাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনসাধারণের ভোগান্তি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

এইচএসসিতে ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি

চলতি উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষায় এবার অনুপস্থিতি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিষয়টি শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরমই পূরণ করেনি। দুই বছর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী, অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। প্রথম তিন দিনের অনুপস্থিতির সংখ্যাটি যোগ করলে পরীক্ষা না দেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে। এমন ব্যাপক অনুপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চমাধ্যমিকে অনুপস্থিতির হার ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন বোর্ডের তুলনামূলক অনুপস্থিতির হার দেখলেই তা অনুমান করা যায়। প্রথমত, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী। এর আগের বছর ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন। ওই বছর বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরে শুরু হয়েছিল।

এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারও স্বপ্ন ঝরে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হারে ঝরে পড়ার কারণ খুঁজে বের করা দরকার। সরকারকে তা বুঝতে হবে। আমরা কতটা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছি, সেটাও দেখতে হবে। আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক- সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছে যে, রাস্তায় নামলেই সবকিছু পেয়ে যাবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে পড়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। 
সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না, অন্যদিকে এখন পরীক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার হয়তো কিছুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী চিন্তা করেছে... বিগত দিনের মতো প্রস্তুতি ছাড়া কেউ যেতে (পরীক্ষার হলে) পারছে না। সে জন্য বোধহয় হারটি বেড়েছে। কিন্তু এটি খুব খারাপ ইন্ডিকেটর (সূচক)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান খবরের কাগজকে বলেন, সরকারের বর্তমান নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে যাদের প্রস্তুতি ভালো নয়, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে কেউ কেউ সমালোচনা করছে বা ট্রল করছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো হয়েছে। নকলবিরোধী অবস্থানের কারণে উপস্থিতি কমেছে, কিন্তু কঙ্কালটা বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটা উঠে এসেছে। এই ক্ষত শুকাতে এখন সরকারকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় শিক্ষাব্যবস্থার মূলে কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে। এ অবস্থার উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশঙ্কার বিষয় হবে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এবং তারা অদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। আশা করছি, সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নির্ধারণ করবে।

নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
এনবিআরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে

দেশে বহু রাজস্ব মামলা এখনো আদালতে পড়ে আছে। এসব মামলাজট দীর্ঘদিনের বিষয়। ২০১১ সালে মামলাজট কমানোর জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলেও এ পদ্ধতি সফল হতে পারেনি। প্রায় ৩১ হাজার রাজস্ব মামলা অনিষ্পত্তি থাকায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন মামলা। ফলে অনাদায়ি রাজস্বের পরিমাণও দিনে দিনে বাড়ছে। রাজস্ব আইন ও বিধির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কর নির্ধারণে মতপার্থক্যের কারণে মামলা বাড়ছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেছেন।

রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এর মধ্যে দায়িত্বরত এনবিআর কর্মকর্তাদের মামলা সম্পর্কে ধারণা কম থাকা, এনবিআরের প্রস্তুতির অভাব, আদালতে সময়মতো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা, মামলা শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্বরত কর্মকর্তার বদলির বিষয়গুলো জড়িত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভিজ্ঞ আইনজীবীদের ফি বেশি থাকে। কিন্তু রাজস্ব মামলা পরিচালনায় বাজেট কম থাকে। এত স্বল্প বাজেটে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব মামলা পরিচালনায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়। এতে করে মামলা পরিচালনায় দক্ষতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় এনবিআরের তদন্তেও মামলায় বিপক্ষদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এনবিআরসংশ্লিষ্টদের মামলায় সময়ক্ষেপণে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। 
এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতে আয়কর, মূসক ও শুল্ক-সংক্রান্ত মোট মামলার সংখ্যা ৩১ হাজার ৭০০টি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৭০০ কোটি টাকা। কমপক্ষে ৪ হাজার ৭০০ করসংক্রান্ত মামলার বিপরীতে জড়িত অর্থের পরিমাণ অন্তত ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মূসকের মামলার সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। জড়িত অর্থের পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুল্কের মামলার সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই ১২ হাজার মামলা চলমান। জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি মামলা আছে বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে। হাইকোর্ট বিভাগে শুধু ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলা আছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০, যেখানে রাজস্ব জড়িত আছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট অফিস, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং আদালত একত্রে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করে অন্তত সমজাতীয় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিযোগ উঠেছে, এনবিআরের অদক্ষতায় নিষ্পত্তি হচ্ছে না রাজস্ব মামলা। তাই রাজস্ব মামলা নিষ্পন্ন করতে হলে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এনবিআরকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। কর নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও রিটার্ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সুযোগ কমে যায়। এতে করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ কমে আসবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। এনবিআরসংশ্লিষ্টদের মামলায় সময়ক্ষেপণে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এনবিআরসংশ্লিষ্টদের কৌশলী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকার দেশের মানুষের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি

সম্প্রতি নানা মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একাধিকবার ভূমিকম্প জনসাধারণের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র যখন রাজধানীর একেবারে দোরগোড়ায়, তখন এই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। অনেকের কাছে এই ঘন ঘন মৃদু ঝাঁকুনিগুলো সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এটি একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য এটি চিন্তার বিষয়। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার প্রলয়ংকারী জোড়া ভূমিকম্প বিশ্ববাসীর মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভূমিকম্প এমন একটি মহাবিপর্যয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভূতাত্ত্বিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বে ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মিজ প্লেটের সংযোগস্থল বা বাউন্ডারি রয়েছে, যা রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী মেগা আর্থকোয়েক তৈরি করতে সক্ষম। বিশেষ করে মধুপুর ফল্ট, ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট-চট্টগ্রামের সাবডাকশন জোনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে। বিজ্ঞানী ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে বাংলাদেশে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অসংখ্য ভবন ধস এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো মেগা সিটিগুলোয় অপরিকল্পিত আবাসন এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা বা রাজউকের নিয়ম লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতা রয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জরিপ অনুযায়ী ঢাকার অর্ধেকের বেশি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু আমরা ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতিই ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারিনি। যদিও গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনে আয়োজিত এক সভায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ভূমিকম্পের ফলে মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা নিরূপণ করে যথাসম্ভব প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

গত কয়েক বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও ভূমিকম্প মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। নগর পর্যায়ে নিয়মিত মহড়ার অভাব, উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর স্বল্পতা এবং বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের দুর্বলতা উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটলে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোকে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখতে হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু গলিতে যাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহজে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি নগর পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও রাস্তা প্রস্তুতকরণ প্রকল্প হাতে নিতে হবে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শতভাগ ভূমিকম্প-সহনীয় প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। ভূমিকম্পের মতো এমন একটি দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অন্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, রাজউক এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সেল গঠন করতে হবে। আশা করছি, সরকার একটি সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সক্ষমতার পরিচয় দেবে।