যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি নেই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। তিনি গত সোমবার এ কথা জানান।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জেলেনস্কি বলেন, এই সেনা মোতায়েন ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার একটা ধাপ।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘তবে তার আগে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে- ইউক্রেন কবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চাইছেন। গত শনিবার তিনি প্যারিসে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
নিউইয়র্ক পোস্টে রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতি চাইছেন। তিনি শান্তি চান। আমরা আর বিশদ কথা বলিনি।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, পুতিনের বাহিনী ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি ভাবছি কীভাবে এই হাস্যকর যুদ্ধ বন্ধ করা যায়।’ গত ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমা সেনাদের ইউক্রেনের মাটিতে মোতায়েনের প্রস্তাব রাখেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তবে এতে সংঘাত বৃদ্ধির পুরোনো আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। পরে ওই আশঙ্কা থেকেই পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ ও সেসব অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতিকে সীমিত করেন।
তবে জেলেনস্কি গত সোমবার বলেন, ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কারণ এখনো তিনি দায়িত্বে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ‘আইনি অধিকার’ এখনো ট্রাম্পের নেই।
এদিকে, জার্মানি ও পোল্যান্ডের মতো ইউরোপের সামরিক শক্তিধর দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বলেছে, তারা ইউক্রেনে সৈন্য পাঠাবে না।
অন্যদিকে কোনো কোনো দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে, সেটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি ম্যাখোঁ। কিছু ‘কৌশলী রহস্যময়তা’ বজায় রাখতে চান বলেই জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা