জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বৈরথের মধ্যেই গলায় নতুন সুর ভাঁজলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেওয়ার এক সপ্তাহ পার না হতেই ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের প্রতি মনে ‘অনেক সম্মান আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ট্রাম্পকে কিছুদিন আগের মন্তব্য মনে করিয়ে আসন্ন বৈঠকে জেলেনস্কির কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না জিজ্ঞেস করলে উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন কিছু বলেছিলাম নাকি? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আমি এমন মন্তব্য করতে পারি।’
এ সময় জেলেনস্কিকে ‘সাহসী দেশনেতা’ বলে প্রশংসা করেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তাই, এই আলোচনার ফলাফলের আশায় তাকিয়ে আছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
চলতি সপ্তাহেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠক শেষে চলমান সহিংসতার পেছনে জেলেনস্কিকেই দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে এখন তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে ‘বেশ ভালো সাক্ষাতের’ বিষয়ে আশাবাদী।
ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিশ্চিত ইউক্রেনের তরফ থেকে এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের লভ্যাংশ আদায় বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
খনিজ চুক্তি নিশ্চিত করলে রুশ আগ্রাসন বন্ধ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতিতে কেউ আগ্রাসী হওয়ার সাহস দেখাবে না।’
এদিকে সম্প্রতি চলমান সহিংসতা নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। এ সময় যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের অবকাঠামোগত সংস্কারকাজে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্টারমার বলেন, ‘এই বর্বর যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন আমাদের লক্ষ্য।’
এদিকে দখলে থাকা জমি ছাড়তে নারাজ মস্কো। রুশ প্রশাসনের মুখপাত্র দিমত্রি পেসকভ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাশিয়ার সার্বভৌম এলাকা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
চলমান এই যুদ্ধের পরিণতি কী হবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে শুক্রবারের বৈঠকের ওপর। সূত্র: বিবিসি
নাইমুর/